Tuesday, September 1, 2020
বিয়ে উপলক্ষে খোলা চিঠি বা বার্তা
Sunday, June 24, 2018
দাম্পত্য : কুররতা আইয়ুন (পার্ট ১)
ভূমিকা:
কোন ভূমিকা ছাড়া শুরু করা যাচ্ছে না বলে দুঃখিত। এই লেখা শুধুমাত্র যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে জীবনকে সাজাতে চান তাদের জন্য। সেকুলারিস্ট/ফেমিনিস্ট/ওয়েস্টার্ন ইসলামিস্টগণ অহেতুক পড়ে পছন্দ হবে না। খামোখা হবে ব্যাপারটা।
ক.
এখানে সবকিছুই সুন্নাহ সাব্যস্ত নয়। কিছু আছে দলিলসাব্যস্ত, কিছু আছে আলিমগণের নিরীক্ষিত কওল, কিছু আছে কমনসেন্স ও আদব। যদি খটকা লাগে ফিকহীভাবে আস্থাভাজন আলিমের তাহকীক ও পরামর্শ নিবেন। কিতাব যথেষ্ট নহে। কিতাবের সাথে রিজাল যুক্ত হলেই ইলম পূর্ণতা পায়।
খ.
পাঠ্যপুস্তকে আমাদের শুধু ভাল কেরানী, পুঁজিবাদের ভাল সেবক হওয়া শেখায়। যেন জীবনে চাকরগিরির ক্যারিয়ারই সব। টাকা কামানোই একমাত্র উদ্দেশ্য। বেশি বেশি বস্তু কেনাই কামিয়াবি। ভেবে দেখেন চাকরি যেমন একটা মেজর ইভেন্ট আমাদের জীবনে, বিয়েও কি একটা মেজর ইভেন্ট না? সন্তান জন্ম ও পালনও কিএকটা মেজর টাস্ক নয়? তাহলে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা যদি ভবিষ্যত জীবনের জন্য আমাদের গড়ে তোলারই দাবি করে, তবে ভালো চাকুরের সাথে ভালো স্বামী/ভালো বাবা/ ভালো সন্তান হবার সিলেবাস কোথায়? তার মানে ওরা আপনার সুন্দর জীবন চায় না, চায় শুধু আপনার সু্ন্দর সার্ভিসটুকু। ষাট বছর হলে ছিবড়ে ফেলে দেবে ছুঁড়ে, ব্যস। দে ডু নট বদার যে আপনার ছেলে মানুষ হল কি না। আপনার ডিভোর্সে ওদের কিসসু আসে যায় না। আপনি আপনার বৃদ্ধা মা-কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠালেও ওরা দেখবেনা। আপনার কাজ নেবার জন্যই এত আয়োজন, এতকিছু। এই নোট সিরিজটা আমাদের সিলেবাসের সেই অসূ্র্যম্পশ্যা অংশটুকু নিয়েই যেগুলো কখনও আলোর মুখ দেখেনি।
গ.
ফিকহী বা দীনী যেটুকু শিখেছি পেয়েছি, আপনাদের খিদমতে আরজ করলাম। কারো উপকারে এলে আল্লাহ বান্দাকে সাদাকায়ে জারিয়ার বদলা দিবেন এই আশায় লিখে দিলেম। অভিজ্ঞতালব্ধ ও দীনী ও আদবগত জিনিসগুলোকে মেডিকেল সাইন্সে গুলিয়ে আপনাদের জন্য শরবত বানালাম। মন্দ লাগলে উলামা হযরতগণ তো আছেনই আমাদের সংশোধনে। আলহামদুলিল্লাহ।
ঘ.
কিছু জায়গায় ‘ভালগার’ কথা আসতে পারে। মাফ চাই। বোনদের পড়ার দরকার নেই। অতিরিক্ত কৌতূহল ভাল না কিন্তু। আপনাদের জন্যও লেখবানে। সবর।
লাড্ডু খাওয়ার আগে:
ক. চেষ্টা শুরু করুন আগেই:
অনেকেই আমরা বিয়েকে গুনাহমুক্তির উপায় মনে করি। ভাবি, এক'দিন যেমন চলছে চলুক, বিয়ে করে একদম দরবেশ হয়ে যাব। তা তো বটেই। নতুন করে গুনাহের সম্ভাবনা বিয়ে কমিয়ে দেয় বহুলাংশে। তবে পূর্ব থেকেই আপনি যে গুনাহগুলোতে অভ্যস্ত সেগুলো বিয়ের পরও কাটানো সম্ভব হয় না। যেমন: পর্ণো বা হস্তমৈথুন। এমনকি এসব কারণে সংসার ভেঙে পর্যন্ত যেতে পারে। বিস্তারিত জানুন “মুক্ত বাতাসের খোঁজে” বইটি থেকে।
১.
বিয়ের কিছুদিন পরেই আপনি দেখবেন পর্ণোছবিতে আপনি যে বৈচিত্র্য পেতেন, স্ত্রীর মধ্যে তা পাচ্ছেন না। আপনার ঘরের মেয়েটি একটি পবিত্র দীনদার মেয়ে। অপরদিকে যেসব পর্ণস্টারদের আপনি দেখে অভ্যস্ত, তারা কামকলায় পারদর্শী। পর্ণো অভিনেত্রীদের ফুলবডি মেকআপ থাকে, আপনি আপনার স্ত্রীর ত্বকের ব্যাপারেও হতাশ হবেন। কেননা মানুষের ত্বক অমন মসৃণ হয় না, দাগ থাকে, তিল থাকে, লোমকূপ থাকে। পর্ণো অভিনেত্রীদের নির্লজ্জ শীৎকার (কামচিৎকার) আপনি আপনার লজ্জাশীলা স্ত্রীর মধ্যে পাবেন না। ফলে হতাশ হয়ে বৈচিত্রের জন্য আপনি আবার ফিরে যাবেন পুরনো স্বভাবে। এজন্য বিয়ে আপনাকে এই বদভ্যাস ছাড়তে সহায়ক হবে, তবে রাতারাতি নিয়ামক নাও হতে পারে। এজন্য বিয়ের আগেই ছাড়ার চেষ্টা করুন। কিভাবে করবেন পরে বলছি।
২.
হস্তমৈথুন আরেক বদভ্যাস যা বিয়ের পরও ছাড়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। স্ত্রীর মাসিকের সময় বা নাইওর গেলে আপনি সুযোগ খুঁজবেন এটা করার। কারণ পুরনো অভ্যাস/ফ্যান্টাসি আপনার মনে হবে। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শয়তান আপনাকে ধোঁকা দেবে। তাই এটাও বিয়ে আপনাকে ছাড়িয়ে দেবে তা নয়, বরং বিয়ের আগেই ছাড়তে হবে আপনাকে।
৩.
নজরের হিফাজতে বিয়ে আপনাকে জাস্ট সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আপনার নিজের চেষ্টাই মুখ্য এবং তা শুরু করতে হবে বিয়ের আগে থেকেই। বিয়ে করার পর দিন থেকেই আপনি বিরাট চক্ষুসাধক হয়ে যাবেন এমনটা নয়।
৪. আল্লাহ বলেছেন, পবিত্র নারী পবিত্র পুরুষের জন্য। আপনি যদি নিজেকে তৈরি না করেন,পরিপূর্ণ তাওবা করে চোখের পানিতে ধুয়ে সাফ না করেন, অনুশোচনায় পুড়িয়ে খাঁটি না হন তাহলে পবিত্র নয়নজুড়ানো স্ত্রী তো ফর্মুলামতে পাচ্ছেন না। তাই নিজেকে নিজের স্ত্রীর জন্য তৈরি করুন। গুনাহ ছাড়ুন।
কীভাবে আগেই ছাড়বেন এগুলোঃ
১. যিকরুল্লাহর অভ্যাস
২. কুরআনের অভ্যাস
৩. নফল রোজা। আমার একদিন কি নফসের একদিন।
৪. বেশি বেশি নফল নামায গুনাহ থেকে বাঁচায় (ইশরাক, চাশত, আাওয়াবীন, তাহাজ্জুদ)
৫. ঐ মুহূর্তে ৩ টার একটা থেকে বেরিয়ে আসুন। হয় ডিভাইস থেকে, না হয় নির্জনতা থেকে, না হয় চিন্তা থেকে (কাউকে ফোন করুন, কথা বলুন)
৬. প্রতি নামাযের শেষে সূরা তাওবার শেষ ২ আয়াত, সূরা নাস, ফজরের পর ১০ বার সূরা ইখলাসের আমল করতে পারেন।
৭. ঘুমের আগে নেট চালানো বাদ।
৮. গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করুন। দুআ, সাদাকা করুন।
৯. পর্নোগ্রাফি যদি দেখেই ফেলেন, হস্তমৈথুনের ইচ্ছা যদি জাগে, প্রস্রাব করে আসুন, কামভাব কমে যাবে।
১০. নিজেকে শাস্তি দিতে পারেন। একবার গুনাহ হলে ২০ রাকাত নফল।
১১. ‘গুনাহ ছাড়া’ এটা আল্লাহর তাওফীক। আমি চাইলাম আর ছেড়ে দিলাম এমন না। আর আল্লাহ তৌফিক তাকেই দেন যার তলব আছে। যে চায়। এজন্য আমার গুনাহ ছাড়ার নিয়ত ও চেষ্টার কমতি নেই, এটা আল্লাহকে দেখাতে হবে। আল্লাহ তৌফিক দিবেন।
১২. মনের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন বুঝলে মিসওয়াক করুন। নফসকে কষ্ট না দিয়ে গুনাহ ছাড়া অসম্ভব। আজকেই শেষ, নেক্সট বার থেকে কষ্ট দিব এমন হলে নেক্সট বার আর আসবে না জীবনে।
খ. নিয়ত করুন:
১. আল্লাহর রাজির জন্য বিবাহ বসিব।
২. আল্লাহর হুকুম পুরা করার জন্য
৩. নবীজীর সুন্নাহর উপর আমলের জন্য
৪. গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য
৫. দীন পরিপূর্ণ করার জন্য
৬. জান্নাতে একসাথে থাকার জন্য
৭. বিয়ে খাহেশাত না, বিয়ে একটা পবিত্র আমল।
গ. দুআ ও আমাল:
১. সূরা ফুরক্বানের ৭৪ নং আয়াত
২. সূরা ইয়াসীনের নং আয়াত
৩. আাগেপিছে ১১ বার দরুদসহ ১১১১ বার “আল্লাহুম্মা ইয়া জামিউ'”
৪. আপনি যেমন স্ত্রী চান (হার্ডওয়্যার +সফটওয়্যার) পুরো কনফিগারেশন বলে বলে দুআ করুন। আল্লাহকে সব বলা যায়। কোন লজ্জা করবেন না। চুল কতবড়, চোখ কেমন চান, হাসি কেমন চান, মনটা কেমন চান, রান্না কেমন চান সব বলুন। দেখবেন আল্লাহ এমন একটা ব্যালেন্স করে দেবেন, দিলখুশ হয়ে যাবে।
৫. সব চাওয়া শেষে লাস্টে ফয়সালা আল্লাহর উপর ছেড়ে দেন : “রাব্বি ইন্নী লিমা আনঝালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাক্বীর”- আয় আল্লাহ, আপনি আমাকে যেটা দিবেন ওটাই আমার দরকার, আমি ওটারই কাঙাল। (মূসা আলাইহিস সালামের দুআ)
৬. অনেক আমল আর চেষ্টার পরও বিয়ে হচ্ছেনা, নির্ভরযোগ্য স্থানে শারঈ রুকিয়া করা যেতে পারে।
ঘ. পাত্রী নির্বাচন:
কেমন সন্তান আপনি দুনিয়াতে রেখে যেতে চান প্রথমে এটা ঠিক করুন। তাহলে সন্তানের মা নির্বাচন সহজ হয়ে যাবে। যেরকম মা দিবেন, সন্তান অমনই হবে। স্ত্রীসহ তবলীগে গিয়ে এমন অনেক বাসায় দেখেছি ৫ বছরের মেয়ে দাওয়াতের কথাগুলো বলছে। ৩ বছরের মেয়ে পর্দা বুঝে গেছে, মা যার সামনে যায়না সেও তার সামনে যায় না। ১৫ মাসের মেয়ে বাচ্চা, মা ঘুমপাড়ানোর সময় আল্লাহ-আল্লাহ বলে ঘুম পাড়াতো, সেও একটা পুতুল নিয়ে আল্লাহ-আল্লাহ স্পষ্ট বলছে আর ঘরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এজন্য নিয়ত ঠিক করুন। একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবন-কবর-আখিরাতের কান্না।
১. আপনি তো আর আপনার স্ত্রীর কামাই খাবেন? না। তাই আপনার স্ত্রীর শিক্ষাগত ডিগ্রী আপনার কাজে আসবে না। অনেকে বলে বাচ্চাকে পড়ানোর জন্য শিক্ষিত মেয়ে লাগবে। বাচ্চাকে পড়াতে মাস্টার্স পাশ মা লাগবে না। হাইস্কুলেও মাস্টার্স টীচার অপ্রতুল। স্ত্রীর ডিগ্রী আপনাকে সুখী করবে না। আপনার প্যারেন্টস হয়ত সমাজে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/ক্যাডার পুত্রবধূ দেখিয়ে সুখী হতে পারেন। কিন্তু আপনার সুখ ওতে নেই। বরং হাজার উদাহরণ পাবেন এগুলোই (উচ্চশিক্ষা/ডিগ্রী/কোর্স/চাকরি) অশান্তির কারণ হয়েছে।
২. বংশ ভাল হওয়া দরকার। বংশ মানে খান-চৌধুরী এগুলা না। এগুলোর ইসলামে অংশ নেই। বংশ বলতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের দীনদারি ও সামাজিক অবস্থান। এটা মানে দাদা ব্রিটিশ আমলে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন কিনা, বাবা সিএসপি অফিসার ছিলেন কি না, চৌদ্দগুষ্ঠি পাঠান কি না, আত্মীয়দের দুনিয়াবি যোগ্যতা কেমন এগুলো বংশ দেখার প্যারামিটার না। বংশ দেখার মিটার হল দীন। কয়েক খানদান ধরে দীনী মেজাজ আছে, ধরে নিতে পারেন মেয়ের মাঝেও দীনী পাবন্দি আছে। দুইতিন পুরুষ আলিম বা আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে আলিম/দীনের বুঝসম্পন্ন লোক বেশি, এগুলো দেখার বিষয়। জাস্ট ধারণার জন্য।
৩. রূপ একটা ভাইটাল বিষয়। যেহেতু আপনি টিভি দেখেন না, নজরের খিয়ানত করেন না। স্ত্রী কিছুটা সুন্দরী হলে এটা আপনার জন্য সহজ হবে। আমার ঘরেই চাঁদ আছে, রাস্তায় মোমবাতি দেখে কি করব? তবে এটাও আপনাকে ক্ষণিক তৃপ্তি দিতে পারে কিন্তু চোখের শীতলতা এর মাঝেও নেই। আল্লাহ না করুন, বউয়ের আগুনরূপ আপনার বরবাদির কারণও হতে পারে।
৪. নির্মমভাবে মেয়ের দীনদারি দেখবেন। কোন ছাড় দিবেন না। বিয়ের পর মানুষ করব, এটা শয়তানের ধোঁকা। নিজেই জংলী হয়ে যাবেন শেষে। বিয়ের আগে দীনদারি/ দীনি শিক্ষার কি হালত, বিয়ের পর কেমন দীনদারি মেইনটেইন করতে চান আলোচনা করে নেবেন। একমাত্র এটাই আপনাকে সুখী করবে। আর যদি কোনটা নাও থাকে দীনদার স্ত্রীর দীনই আপনার চক্ষু শীতল করবে, নয়নজুড়ানো বউয়ের স্বামী হবেন আপনি। নয়নজুড়াতে ৩৬-২৪-৩৬ জরুরি না। জরুরি একমাত্র দীন।
দীনদারির লেভেল বুঝবেন কিভাবে?
নামাযী মানেই দীনদার, নিকাব করলেই দীনপ্রাণা? আই ওয়াজ রিজেক্টেড বাই আ ফুল শারঈ পর্দানশীন গার্ল বিকজ আই ওয়্যার জুব্বা এন্ড পাগড়ি। পরে জেনেছি। নামায পড়ার চেয়ে ফুল পর্দা করা কঠিন। বোরকা পড়ার চেয়ে পর্দা লাইফস্টাইল মেনে চলা কঠিন। দাড়িওয়ালা ছেলে বিয়ে করা আরও কঠিন। সুন্নাতের প্রতি ভালোবাসা আছে কি না দেখবেন। পীর সহীহ কি না বুঝার মাপকাঠি হল সুন্নাহর পাবন্দি। বউও তো একজাতীয় পীর-ই। সম্ভব হলে পুরো সুন্নাহ শইল্যে নিয়ে মেয়ে দেখতে যাবেন। যেটুকু নিয়ে মেয়ে দেখতে যাবেন, বিয়ের পর এর চেয়ে কমবে আপনার সুন্নতগিরি। তাই লেভেল হাই তুলে যাবেন যাতে কমলেও বেশি না কমে।
৫. আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘কুফু' বা সাদৃশ্য। এক হাদিসে নবীজীও কুফু রক্ষা করতে বলেছেন। রূপে তো আপনার থেকে বেশি হতেই হবে। আর দীনদারি (এলেম বেশি থাকাই দীনদারি না, দীন মানার যোগ্যতা/আমল হল দীনদারির মাপকাঠি) যত বেশি ততই আপনার চোখ শীতল হবে। বাকি দুনিয়াবি বিষয়গুলো যেমন মালসম্পদ, আভিজাত্য, শিক্ষাগত ডিগ্রী (জেনারেল/দীনী) এগুলো যেন আপনার থেকে বেশি না হয়। সমস্যা হবে পরে। আপনার লেভেল থেকে ঠিক একটু কম বা কমসে কম সমতা যেন থাকে, বেশি যেন না হয়। আমার খুব কাছের একজনের ঘটনা। ছেলের বাপ মেয়ের বাপকে ‘স্যার’ সম্বোধন করত, ডেকোরামে উপরে বলে। তো স্বামীস্ত্রী ঝগড়ায় এটা উঠত। পরস্পরকে অপমানই তো করা হয় ঝগড়ায়। বিয়েটা টেকেনি। এজন্যই মোটা মোটা বিষয়ে কুফুর ব্যাপারটা খেয়াল রাখা চাই। জেনারেল শিক্ষিতরা আলিমা কমপ্লিট বিয়ে না করাই সাবধানতা। ইলমের কুফু। সমস্যা হতে শুনেছি, হলেও দোষ দেয়া যায় না। আমার এই কথাগুলো মানতে কষ্ট হতে পারে, কিন্তু এটা বাস্তব, বিবাহিতরা ভাল বুঝবেন। তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। বহু ব্যতিক্রম আছে। আমার জানাতেই অনেক আলিমা-জাহেল সুখে ঘর কচ্ছেন। আপাত সতর্কতার একটা ফর্মুলা বল্লাম। এক্সেপশন ইজ নট এক্সাম্পল। (ব্যক্তিগত মত, ইগনোর করুন)
ঙ. নয়নে নয়ন:
১. পয়লা আপনার মা-বোন-ভাবীদের পাঠাবেন দেখতে। আমরা ছেলেরা রূপ দেখেই কাইত। আর মা-বোনেরা যেয়ে খুঁটিয়ে দেখবে, মেয়ে তো মেয়ে, মেয়ের দাদীকে পর্যন্ত খুঁটিয়ে দেখবে। আর মেয়েদের একটা কঠিন সিফত আছে। আভাসে অনেক বুঝে ফেলে। দুএকটা প্রশ্ন করেই ভিতরের খবর বুঝে নিবে। এজন্য মা-বোনের পছন্দ হলে পরে আপনি দেখবেন। আর না হলে আপনি না দেখেই না করে দেবেন। এতে মেয়েটার বেপর্দাও হওয়া লাগল না আপনার সামনে খামোখা।
২. আপনার মহিলারা দেখে আসার পর বা আগে ইস্তিখারা করবেন। নবীজী যেমন গুরুত্ব সহকারে সূরা শেখাতেন, তেমনই গুরুত্ব দিয়ে আত্তাহিয়্যাতু শেখাতেন (হাদিস)। যেমন গুরুত্ব দিয়ে আত্তাহিয়্যাতু শেখাতেন, তেমনই গুরুত্ব দিয়ে ইস্তিখারার দুআ শেখাতেন (হাদিস)। ওহী বন্ধ, কিন্তু ইস্তিখারা বন্ধ হয়নাই। সাতদিন পর্যন্ত ২ রাকাত পড়ে ইস্তিখারার দুআ চলবে। স্বপ্ন দেখবেন এটা জরুরি না, তবে কোন একদিকে মন ঝুঁকে পড়বে, পজিটিভ বা নেগেটিভ। প্রত্যেক কাজে ইস্তিখারা করা চাই চাকরি/ব্যবসা/সাবজেক্ট চয়েস/বিয়ে/সন্তানের বিয়ে, যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে।
৩. মেয়ের সকল তথ্যাদি, মা-বোনের রিপোর্ট, ইস্তিখারার রেজাল্ট, মেয়ের পরিবার-আত্মীয় সম্পর্কিত ডেটা নিয়ে কোন প্রিয় ভারি বয়সের আলিমের সাথে পরামর্শ/মাশওয়ারা করুন। ওহীর অবর্তমানে আল্লাহর পক্ষ থেকে খায়েরের ফয়সালার জন্য নবীজী আমাদের ২ জিনিস শিখিয়েছেন- ইস্তিখারা ও আলিমের পরামর্শ। ভারি অভিজ্ঞ আলিমের ইশারায় কাজে কনফিডেন্স পাবেন, কলিজা আর কলিজা।
৪. আপনার বাবা কিন্তু এখন মেয়ে দেখবে না। আপনার বাবা দেখবেন বিয়ের পর। যতখন মেয়েটা আপনার বউ না হচ্ছে, ততখন সে আপনার দীনী বোন। দীনী বোনের পর্দা যেন নষ্ট না হয়।
৫. আপনার মা/বোন কিংবা মেয়ের ভাই/মাহরামের উপস্থিতিতে আপনি মেয়েকে দেখবেন। নবীজী তাগিদ দিয়েছেন বিয়ের আগে পরস্পরকে দেখার ব্যাপারে। একজন মুসলিমার প্রাপ্য সম্মান বজায় রেখে কথা বলবেন। এমন কোন প্রশ্ন করবেন না যাতে সে আহত হয়/লজ্জা পায়। কঠোর কোন দাবী করবেন না যে, বিয়ের এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে, রাজি আছো কি না। এক বোন আমাকে দাবি পেশ করেছিলেন, বেডরুমের পাশাপাশি তাঁর শুধু পড়াশুনোর জন্য আরেকটা রুম লাগবে, দিতে পারবো কি না। কোনমতে মানে মানে কেটে পড়েছি। অবশ্যই ‘আপনি’ সম্বোধনে কথা বলবেন। তাঁকেও আপনার ব্যাপারে জানার সুযোগ দিবেন। খালি নিজেই ইন্টারভিউ নিয়ে এসে পড়বেন না। প্রশ্ন করার সুযোগ দিবেন ম্যাডামকে।
৬. আপনার ভাল লাগলে আপনার অভিভাবকদের দ্রুত জানান। কারো একটা একটা জিনিস সুন্দর হয় না। প্রতিটা মানুষই সামগ্রিকভাবে সুন্দর। একটা কমি পূরণ করে দেয় আরেকটা কিছু। রূপ+কথা+দীনদারি+স্বামীকে নিয়ে স্বপ্ন সব কিছু মিলিয়েই একজন মেয়ে সুন্দর। শুধু রূপসী বহু পাবেন যাদের বাকিগুলোয় ভয়ানক কমতি আছে। তাই ওভারঅল নিয়ে চিন্তা করে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে আসুন।
৭. সবার তকদীরে সবাই নেই। আপনার ভালো নাও লাগতে পারে। আপনি আপনার লোকজনকে জানান, তাঁরা ডিপ্লোমেটিক্যালি জানিয়ে দিবেন। মেয়েটিরও আপনাকে ভাল না লাগতে পারে। কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। আসল জনের জন্য দুআ করুন, আল্লাহ তাড়াতাড়ি উহাকে আমার বুকে আনিয়া দাও।
৮. মিয়া-বিবি রাজি হয়ে গেলে শানাই বাজাবেন না। মিউজিক জায়েজ নাই। তবে দেরি করতে নবীজী নিষেধ করেছেন। যে কারো দিল ঘুরে যেতে পারে। তাই দ্রুত তারিখ ঠিক করার চেষ্টা করুন। আর হ্যাঁ, পছন্দের পর বিয়ের আগে মেয়ের সাথে আবার দেখা করা তো দূর কি বাত, ফোনে গল্পগুজবও জায়েজ নেই।
আন-নিকাহ:
১.
বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যাবার পর আপনাকে কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটা সম্পর্কের শুরুটা মোটেও সমীচীন হবে না আল্লাহর নারাজি দিয়ে শুরু করা। সুন্নাতের খেলাফ আল্লাহর হুকুম নষ্ট করে যে সম্পর্কের শুরু তা বারাকাতময় হবে কিভাবে। খায়েশাতের বিয়ে যারা করে তারা খায়েশ পুরো করে, হৈহুল্লোড়, ফটোগ্রাফি, ভিডিও, গায়ে হলুদ, ডিজে-ডান্স, সাউন্ড সিস্টেম, লৌকিকতা। মনে রাখবেন, আপনি করছেন আমল, আল্লাহর খুশির জন্য। শুরুতেই ছাড় দিবেন না। নিজের পরিবার, কনের পরিবারের সামনে স্পষ্ট করে আপনার চাওয়া জানিয়ে দিন।
ক. গায়ে হলুদ:
হবে না। এটা এবং বাগদান (এনগেজমেন্ট) দিনের আলোর মত স্পষ্ট হিন্দু সংস্কৃতি থেকে প্রবিষ্ট। গায়ের মাহরামের ইনভলভমেন্টে ফরজ পর্দা নষ্ট হওয়া থেকে নিয়ে ফটোগ্রাফি, ডান্স, ডিজে, লোকদেখানো অহেতুক খরচ, ফ্রিমিক্সিং অনেকগুলো হারাম কাজের উপলক্ষ। যা কোনভাবেই আপনার দাম্পত্যজীবনে আল্লাহর লানত ছাড়া বারাকাহ টেনে আনবে না। হুঁশিয়ার।
খ. পর্দা:
ওয়ালীমাতে নারীপুরুষ আলাদা ব্যবস্থা হবে। কনে পর্দার সাথে থাকবে। নন-মাহরাম কেউ কনে দেখবে না। কনের ছবি কেউ তুলবে না, ভিতরের মহিলারাও না। বদদীন মহিলারাও ছবি তুলে স্বামীকে গিয়ে দেখায়। শুরুতেই ফরজের সাথে কম্প্রোমাইজ করবেন না। কমপক্ষে কনের পর্দা রক্ষায় কঠোর থাকুন। আল্লাহ খুশি হবেন।
গ. বিয়ে মসজিদে:
বাংলাদেশে ওপেন হার্ট সার্জারির পথিকৃৎ প্রফেসর ডা. এস. আর. খান স্যার এক বয়ানে বলেছিলেন, মুসলমানের আবার ক্লাব-কমিউনিটি সেন্টার এগুলা কি? মুসলমানের ক্লাব-কমিউনিটি সেন্টার হল মসজিদ। মুসলমানের অবসর কাটবে মসজিদে। মুসলমানের বিয়েশাদী, বিচারসালিশ সকল সামাজিক কর্মকাণ্ডের মারকাজ/কেন্দ্র হবে মসজিদ। আজ আমাদের সাথে মসজিদের কত দূরত্ব। এজন্যই আমাদের জীবনে বারাকাহ নেই।
মুসলমানের বিয়ে মসজিদে। সুন্নাহ এটাই। মেয়ের বাবা মেয়ের অনুমতি নিয়ে মসজিদে আসবে। মেয়ে আসবে না। ছেলের কাছে প্রস্তাব পেশ করবেন ইমাম সাহেব। ছেলে জোরে বলবে, আলহামদুলিল্লাহ আমি কবুল করছি। ৩ বার বলা জরুরি না। চিড়িয়ার মত দাঁড়িয়ে সবাইকে সালাম দেয়াও অদরকারি প্রথা। ব্যস, হো গ্যায়া। পুরো সমাজ, মানে উপস্থিত মুসল্লীরা সাক্ষী হয়ে গেল যে আপনি অমুকের এত নং বেটিকে শাদী করেছেন। ওয়ালীমা করলে সাক্ষীর সংখ্যা আরও বাড়ল। কাবিন, রেজিস্ট্রি, ২ সাক্ষী এগুলো সরকারি হিসাব। পরে করে নেবেন। আল্লাহর খাতায় আপনারা স্বামী-স্ত্রী, মেয়েটি আপনার জন্য হালাল। সাক্ষী পুরো সমাজ।
খেজুর ছিটানো সুন্নাহ। যেহেতু বিয়ে একটা আনন্দের উপলক্ষ, নবীজী ছিটিয়ে দিতে বলেছেন। সবাই লাফিয়ে ধরবে। ভিজা ভিজা আঠালো খেজুর নিবেন না, খোরমা নিবেন, তাহলে ছিটালে মসজিদ ময়লা হবে না। আর পাবলিক ধরবে হাতে, মুখে চিল্লাপাল্লা হবে না। তবে ইমাম/মসজিদের খাদিম নিষেধ করলে হাতে হাতে খেজুর বণ্টন রতে পারেন।
ঘ. কাবিন:
কাবিননামা দ্রুত করে ফেলবেন। এখন আমাদের ঈমান দুর্বল, তাকওয়ার অভাব। কাবিন, রেজিস্ট্রি মেয়ের নিরাপত্তার জন্য। ছেলে কিছুদিন সংসার করে পালিয়ে গেল। বা লজ্জা ভুলে বেহায়ার মত অস্বীকার করল। তখন? মেয়েটা যেন আইনের দ্বারস্থ হতে পারে, বিচার পায়। এজন্য বিয়ের মজলিসেই, না হয় পরে যত দ্রুত সম্ভব।
ঙ. বরযাত্রী:
৫০০ বরযাত্রী যাবে মেয়ের বাপকে খসাতে। তারপর এসে খাবার নিয়ে সমালোচনা, গেট ধরা, শ্যালিকা হাত ধুয়ে দেয়া এসবের ইসলামে অনুমোদন নেই। হুজুর সা. নিজে মেয়েকে আলীর রা. ঘরে দিয়ে আসেন। আবু বকর রা. গিয়ে দিয়ে আসেন আম্মাজান আয়িশাকে রা.। মেয়ের বাড়িতে খানাপিনা হবে না। উত্তম তো কনের বাপ গিয়ে কনেকে দিয়ে আসবে। না হয় দীনদার ছেলে সাথে ২/৩ জন গিয়ে মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে আসে, মেয়ের বাসায় কিচ্ছুই খায় না। মোট কথা মেয়ের বাপের কোন খরচ নেই মেয়ে বিয়ে দিতে। মাহর, ওয়ালীমা সব ছেলেপক্ষের খরচ। ইসলামে মেয়ে পিতার জন্য বারাকাহ। আর আমরা হিন্দুয়ানি প্রথা ঢুকিয়ে জাহেলিয়াতের মত মেয়েকে পিতার জন্য বোঝা বানিয়ে দিয়েছি। একান্তই মেয়ের বাবা লৌকিকতার তাগিদে খানাপিনার চাপাচাপি করলে অনূর্ধ্ব দশ গিয়ে খেয়ে আসবেন। ইসলাম সহজ, খায়েশাতই কঠিন।
চ. যৌতুক:
প্রশ্নই ওঠে না। আগেই বলেছি মেয়ের বিয়েতে মেয়ের বাবার কোন খরচ ইসলাম রাখেনি। খবরদার। কোন চাপাচাপি/দাবি করবেন না। শ্বশুর জামাইকে হাদিয়া দিবে ভাল কথা। এজন্য সারা জীবন পড়ে আছে। বহুত হাদিয়া দিবে। জাস্ট বিয়ের সময় নিবেন না। এমনকি বরের বাসায় কাপড়চোপড় পাঠানো, তা নিয়ে আবার গীবতের মজমা বসে। আপনি একটু কঠোর হলে কত গুনাহ রোধ করতে পারেন।
অনেকে যৌতুক নেন না ঠিকই, আবার বউকে কথাও শোনান। বরযাত্রী যান না, আবার শাশুড়ি বউকে খোঁটাও দেয়, তোমার বাপের তো কোন খরচই হয়নি, খালি মেয়েটা দিয়েই খালাস। অনেকসময় এই খোঁটার ভয়েই মেয়ের বাপ অনুষ্ঠান করে/যৌতুক দিতে চায়। মুসলিমকে এই খোঁটা দেয়া/উপহাস ভয়াবহ রকমের কবিরা গুনাহ। তাওবা ছাড়া মাফ না হবার সম্ভাবনা।
কিছু বিষয়ে আল্লাহর জন্য কঠোর হয়ে যেতে হয়। যারা বেজার হবে, তাদের খুশি করার দায়িত্ব আল্লাহর (হাদিস)। আপনার কাজ শুধু আল্লাহকে খুশি করা। যত পরিমাণ সুন্নাহর উপর আমল হবে ধরে নিবেন আপনার দাম্পত্য জীবন তত সুখের হবে ইনশাআল্লাহ।
২.
অনেক সময় এত স্ট্রিক্ট থাকা সম্ভব হয় না। আপনি শুরুতেই ছাড় দিলে আপনার সব যেত, ফরজও যেত। এখন শুরুতে কঠোর হলেন, ছাড় দিলেও কিছু তো হবে। আল্লাহর কিছু ফরজ হুকুম তো রাখতে পারবেন। এখন আলিমগণের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করুন কতটুকু ছাড় দিবেন। ফরজ পর্দা প্রভৃতির সাথে আপোস প্রশ্নই আসে না। তুলনামূলক কম সিরিয়াস বিষয়গুলো আলিমের পরামর্শক্রমে ছাড় দিতে পারেন।
ছ. মাহর:
আমার আগে ১ জন মাত্র রাবী, সহীহ সনদ। মেয়ের বাপ মাহর চেয়েছে ৪০ লাখ টাকা। কেন? আমার মেয়েকে যদি ছেলে ছেড়ে দেয়। ঠিকই ৬ মাসের মধ্যে ৪০ লাখ টাকা পে করেই ডিভোর্স হয়েছে।
বেশি মাহর বিয়ে টেকার ইনসিওরেন্স না। বরং যে বিয়ে মাহর কম, সে বিয়েতে বারাকাহ বেশি (হাদিস)। মাহর বিষয়টার অনেক সামাজিক প্রভাব আছে। উলামাগণের অনেক কিতাবও পাবেন। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, হঠাৎ যদি আপনি মারা যান, আপনার স্ত্রীসন্তান যেন পথে বসে না যায়, কিছুটা আর্থিক সিকিউরিটি ইস্যু। তাই বরের সামর্থ্যানুযায়ী যতটা সম্ভব মাহর নির্ধারণ করুন। সামর্থ্যের মধ্যেই বেশিটা। লোক দেখানোর জন্য সামর্থ্যের অতিরিক্ত মাহর দাম্পত্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
অনেকে মাহরে ফাতেমী নির্ধারণ করেন। আলী রা. যে মাহরে ফাতিমা রা. কে বিয়ে করেছিলেন। আলী-ফাতিমা রা. কেমিস্ট্রির বারাকাহ পাবার জন্য এটা করা হয়, কেননা এতে স্বয়ং নবীজীর অনুমোদন ছিল, সেই হিসেবে। তবে এটাও জরুরি না। জরুরি হল সামর্থ্যের ভিতরে লৌকিকতা বিবর্জিত হওয়া। আলিমগণের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না এ বিষয়ে।
জ. বাসর-রাত/ প্রথম-রাত:
কিছু ইলমের জন্য নির্ধারিত সময় আছে। অসময়ে শিখলে তা ভাল ফল বয়ে আনে না। ফিতনার কারণ হয়। বান্দা পরীক্ষায় পড়ে যায়।
- বাসররাতের আগ পর্যন্ত যারা পৌঁছে গেছেন বাস্তব জীবনে
- ঈদের পর বাসররাতে পৌঁছবেন
- অলরেডি বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করেছেন
- সুন্দর দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন
- যৌনজীবন নিয়ে সমস্যায় আছেন,
এই চ্যাপ্টারটা শুধুই তাদের জন্য। বাকিরা পড়া মানে নিজের ‘অবিবাহিত জীবন' আরও কঠিন করে ফেলবেন এবং ফিতনায় পড়ে যাবেন।
তাই নোটের এই অংশটুকু ঈদের পর দেয়া হবে শুধু উপরের ক্রাইটেরিয়ার ভাইদেরকে ইনবক্সে। কোন ঈদ তা পরে জানিয়ে দেব না, এখনই জানিয়ে দিচ্ছি। এই বছর রোজার ঈদের পর ইনশাআল্লাহ। সমাপ্তিও ওখানেই টানব খন।
অধিক কৌতূহলবশত কেউ মিথ্যা হলফ করে নিজেকে বিবাহিত দাবি করে কেউ যদি নোট চান, এবং নিজেকে জটিল পরীক্ষায় আবিষ্কার করেন, লেখক তা থেকে দায়মুক্ত ইনশাআল্লাহ। যারা নোটটা নিবেন তারাও তাঁদেরকেই দিবেন যারা উপরের শর্ত পুরা করেন। প্লিজ অধমকে গুনাহগার বানাবেন না। অনেক বিশ্বাস করে আপনাদেরকে দিব জিনিসটা।
ডাক্তার হবার সুবাদে অনেক মানুষ, তাবলীগের সাথী, সমবয়েসী উলামাগণ যৌনজীবনের বিভিন্ন সমস্যায় পরামর্শ চেয়েছেন নানান সময়। সেগুলো সামনে নিয়ে কিছু পড়াশুনা করেছি, বিভিন্ন তথ্য তাদের থেকে নিয়েছি, সমাধান প্রস্তাব করে ফিডব্যাক নিয়েছি, কৌশল শিখিয়ে ফিডব্যাক নিয়েছি। আলিমগণের এ বিষয়ে তেমন লেখা চোখে পড়েনি। পরবর্তী নোটের টপিক মোটামুটি এমন: যৌনমিলন, যৌনসমস্যা ও প্রতিকার (ওষুধ ছাড়া) এবং সন্তান ধারণ। নিজের চিকিৎসা বিদ্যা, আলিমগণের পরামর্শ ও জনাত্রিশেক মানুষকে দেয়া সমাধান (নন-মেডিসিন) ও নেয়া ফিডব্যাক থেকে লব্ধ কৌশল আপনাদের সামনে তুলে আনব। ইনবক্সে চাহিবামাত্র ঈদের পর দেয়া হইবে। সেকুলার বিজ্ঞান আসলেই পূর্ণ ফলাফল দেয় না যতক্ষণ তাওহীদ/ আল্লাহর দেয়া সমাধান না মেশানো হয়। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।
ঝ. সারাজীবনসাথী:
আর দাম্পত্য জীবনে আচরণ কেমন হবে সে বিষয়ে নিচের বইগুলো পড়ার প্রস্তাব থাকবে।
১. দুজন দুজনার, মাওলানা আতীক উল্লাহ দা. বা.
২. ওগো শুনছো, ঐ
৩. আই লাভ ইউ, ঐ
৪. প্রিয়তমা, মাওলানা সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর দা.বা.
৫. মুফতি আবদুল্লাহ আল- মাসুম দা. বা. রচিত একটা বই আছে দারুণ।
৬. মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী দা.বা. এর একটা বই আছে।
সবগুলোর নির্যাস নিয়ে একটা নোট লেখার ইচ্ছা রইল। আল্লাহ কবুল ফরমান।
* Shamsul Arefin Shakti
কোন ভূমিকা ছাড়া শুরু করা যাচ্ছে না বলে দুঃখিত। এই লেখা শুধুমাত্র যারা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে জীবনকে সাজাতে চান তাদের জন্য। সেকুলারিস্ট/ফেমিনিস্ট/ওয়েস্টার্ন ইসলামিস্টগণ অহেতুক পড়ে পছন্দ হবে না। খামোখা হবে ব্যাপারটা।
ক.
এখানে সবকিছুই সুন্নাহ সাব্যস্ত নয়। কিছু আছে দলিলসাব্যস্ত, কিছু আছে আলিমগণের নিরীক্ষিত কওল, কিছু আছে কমনসেন্স ও আদব। যদি খটকা লাগে ফিকহীভাবে আস্থাভাজন আলিমের তাহকীক ও পরামর্শ নিবেন। কিতাব যথেষ্ট নহে। কিতাবের সাথে রিজাল যুক্ত হলেই ইলম পূর্ণতা পায়।
খ.
পাঠ্যপুস্তকে আমাদের শুধু ভাল কেরানী, পুঁজিবাদের ভাল সেবক হওয়া শেখায়। যেন জীবনে চাকরগিরির ক্যারিয়ারই সব। টাকা কামানোই একমাত্র উদ্দেশ্য। বেশি বেশি বস্তু কেনাই কামিয়াবি। ভেবে দেখেন চাকরি যেমন একটা মেজর ইভেন্ট আমাদের জীবনে, বিয়েও কি একটা মেজর ইভেন্ট না? সন্তান জন্ম ও পালনও কিএকটা মেজর টাস্ক নয়? তাহলে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা যদি ভবিষ্যত জীবনের জন্য আমাদের গড়ে তোলারই দাবি করে, তবে ভালো চাকুরের সাথে ভালো স্বামী/ভালো বাবা/ ভালো সন্তান হবার সিলেবাস কোথায়? তার মানে ওরা আপনার সুন্দর জীবন চায় না, চায় শুধু আপনার সু্ন্দর সার্ভিসটুকু। ষাট বছর হলে ছিবড়ে ফেলে দেবে ছুঁড়ে, ব্যস। দে ডু নট বদার যে আপনার ছেলে মানুষ হল কি না। আপনার ডিভোর্সে ওদের কিসসু আসে যায় না। আপনি আপনার বৃদ্ধা মা-কে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠালেও ওরা দেখবেনা। আপনার কাজ নেবার জন্যই এত আয়োজন, এতকিছু। এই নোট সিরিজটা আমাদের সিলেবাসের সেই অসূ্র্যম্পশ্যা অংশটুকু নিয়েই যেগুলো কখনও আলোর মুখ দেখেনি।
গ.
ফিকহী বা দীনী যেটুকু শিখেছি পেয়েছি, আপনাদের খিদমতে আরজ করলাম। কারো উপকারে এলে আল্লাহ বান্দাকে সাদাকায়ে জারিয়ার বদলা দিবেন এই আশায় লিখে দিলেম। অভিজ্ঞতালব্ধ ও দীনী ও আদবগত জিনিসগুলোকে মেডিকেল সাইন্সে গুলিয়ে আপনাদের জন্য শরবত বানালাম। মন্দ লাগলে উলামা হযরতগণ তো আছেনই আমাদের সংশোধনে। আলহামদুলিল্লাহ।
ঘ.
কিছু জায়গায় ‘ভালগার’ কথা আসতে পারে। মাফ চাই। বোনদের পড়ার দরকার নেই। অতিরিক্ত কৌতূহল ভাল না কিন্তু। আপনাদের জন্যও লেখবানে। সবর।
লাড্ডু খাওয়ার আগে:
ক. চেষ্টা শুরু করুন আগেই:
অনেকেই আমরা বিয়েকে গুনাহমুক্তির উপায় মনে করি। ভাবি, এক'দিন যেমন চলছে চলুক, বিয়ে করে একদম দরবেশ হয়ে যাব। তা তো বটেই। নতুন করে গুনাহের সম্ভাবনা বিয়ে কমিয়ে দেয় বহুলাংশে। তবে পূর্ব থেকেই আপনি যে গুনাহগুলোতে অভ্যস্ত সেগুলো বিয়ের পরও কাটানো সম্ভব হয় না। যেমন: পর্ণো বা হস্তমৈথুন। এমনকি এসব কারণে সংসার ভেঙে পর্যন্ত যেতে পারে। বিস্তারিত জানুন “মুক্ত বাতাসের খোঁজে” বইটি থেকে।
১.
বিয়ের কিছুদিন পরেই আপনি দেখবেন পর্ণোছবিতে আপনি যে বৈচিত্র্য পেতেন, স্ত্রীর মধ্যে তা পাচ্ছেন না। আপনার ঘরের মেয়েটি একটি পবিত্র দীনদার মেয়ে। অপরদিকে যেসব পর্ণস্টারদের আপনি দেখে অভ্যস্ত, তারা কামকলায় পারদর্শী। পর্ণো অভিনেত্রীদের ফুলবডি মেকআপ থাকে, আপনি আপনার স্ত্রীর ত্বকের ব্যাপারেও হতাশ হবেন। কেননা মানুষের ত্বক অমন মসৃণ হয় না, দাগ থাকে, তিল থাকে, লোমকূপ থাকে। পর্ণো অভিনেত্রীদের নির্লজ্জ শীৎকার (কামচিৎকার) আপনি আপনার লজ্জাশীলা স্ত্রীর মধ্যে পাবেন না। ফলে হতাশ হয়ে বৈচিত্রের জন্য আপনি আবার ফিরে যাবেন পুরনো স্বভাবে। এজন্য বিয়ে আপনাকে এই বদভ্যাস ছাড়তে সহায়ক হবে, তবে রাতারাতি নিয়ামক নাও হতে পারে। এজন্য বিয়ের আগেই ছাড়ার চেষ্টা করুন। কিভাবে করবেন পরে বলছি।
২.
হস্তমৈথুন আরেক বদভ্যাস যা বিয়ের পরও ছাড়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। স্ত্রীর মাসিকের সময় বা নাইওর গেলে আপনি সুযোগ খুঁজবেন এটা করার। কারণ পুরনো অভ্যাস/ফ্যান্টাসি আপনার মনে হবে। স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে শয়তান আপনাকে ধোঁকা দেবে। তাই এটাও বিয়ে আপনাকে ছাড়িয়ে দেবে তা নয়, বরং বিয়ের আগেই ছাড়তে হবে আপনাকে।
৩.
নজরের হিফাজতে বিয়ে আপনাকে জাস্ট সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আপনার নিজের চেষ্টাই মুখ্য এবং তা শুরু করতে হবে বিয়ের আগে থেকেই। বিয়ে করার পর দিন থেকেই আপনি বিরাট চক্ষুসাধক হয়ে যাবেন এমনটা নয়।
৪. আল্লাহ বলেছেন, পবিত্র নারী পবিত্র পুরুষের জন্য। আপনি যদি নিজেকে তৈরি না করেন,পরিপূর্ণ তাওবা করে চোখের পানিতে ধুয়ে সাফ না করেন, অনুশোচনায় পুড়িয়ে খাঁটি না হন তাহলে পবিত্র নয়নজুড়ানো স্ত্রী তো ফর্মুলামতে পাচ্ছেন না। তাই নিজেকে নিজের স্ত্রীর জন্য তৈরি করুন। গুনাহ ছাড়ুন।
কীভাবে আগেই ছাড়বেন এগুলোঃ
১. যিকরুল্লাহর অভ্যাস
২. কুরআনের অভ্যাস
৩. নফল রোজা। আমার একদিন কি নফসের একদিন।
৪. বেশি বেশি নফল নামায গুনাহ থেকে বাঁচায় (ইশরাক, চাশত, আাওয়াবীন, তাহাজ্জুদ)
৫. ঐ মুহূর্তে ৩ টার একটা থেকে বেরিয়ে আসুন। হয় ডিভাইস থেকে, না হয় নির্জনতা থেকে, না হয় চিন্তা থেকে (কাউকে ফোন করুন, কথা বলুন)
৬. প্রতি নামাযের শেষে সূরা তাওবার শেষ ২ আয়াত, সূরা নাস, ফজরের পর ১০ বার সূরা ইখলাসের আমল করতে পারেন।
৭. ঘুমের আগে নেট চালানো বাদ।
৮. গুনাহ হয়ে গেলে তাওবা করুন। দুআ, সাদাকা করুন।
৯. পর্নোগ্রাফি যদি দেখেই ফেলেন, হস্তমৈথুনের ইচ্ছা যদি জাগে, প্রস্রাব করে আসুন, কামভাব কমে যাবে।
১০. নিজেকে শাস্তি দিতে পারেন। একবার গুনাহ হলে ২০ রাকাত নফল।
১১. ‘গুনাহ ছাড়া’ এটা আল্লাহর তাওফীক। আমি চাইলাম আর ছেড়ে দিলাম এমন না। আর আল্লাহ তৌফিক তাকেই দেন যার তলব আছে। যে চায়। এজন্য আমার গুনাহ ছাড়ার নিয়ত ও চেষ্টার কমতি নেই, এটা আল্লাহকে দেখাতে হবে। আল্লাহ তৌফিক দিবেন।
১২. মনের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন বুঝলে মিসওয়াক করুন। নফসকে কষ্ট না দিয়ে গুনাহ ছাড়া অসম্ভব। আজকেই শেষ, নেক্সট বার থেকে কষ্ট দিব এমন হলে নেক্সট বার আর আসবে না জীবনে।
খ. নিয়ত করুন:
১. আল্লাহর রাজির জন্য বিবাহ বসিব।
২. আল্লাহর হুকুম পুরা করার জন্য
৩. নবীজীর সুন্নাহর উপর আমলের জন্য
৪. গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য
৫. দীন পরিপূর্ণ করার জন্য
৬. জান্নাতে একসাথে থাকার জন্য
৭. বিয়ে খাহেশাত না, বিয়ে একটা পবিত্র আমল।
গ. দুআ ও আমাল:
১. সূরা ফুরক্বানের ৭৪ নং আয়াত
২. সূরা ইয়াসীনের নং আয়াত
৩. আাগেপিছে ১১ বার দরুদসহ ১১১১ বার “আল্লাহুম্মা ইয়া জামিউ'”
৪. আপনি যেমন স্ত্রী চান (হার্ডওয়্যার +সফটওয়্যার) পুরো কনফিগারেশন বলে বলে দুআ করুন। আল্লাহকে সব বলা যায়। কোন লজ্জা করবেন না। চুল কতবড়, চোখ কেমন চান, হাসি কেমন চান, মনটা কেমন চান, রান্না কেমন চান সব বলুন। দেখবেন আল্লাহ এমন একটা ব্যালেন্স করে দেবেন, দিলখুশ হয়ে যাবে।
৫. সব চাওয়া শেষে লাস্টে ফয়সালা আল্লাহর উপর ছেড়ে দেন : “রাব্বি ইন্নী লিমা আনঝালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাক্বীর”- আয় আল্লাহ, আপনি আমাকে যেটা দিবেন ওটাই আমার দরকার, আমি ওটারই কাঙাল। (মূসা আলাইহিস সালামের দুআ)
৬. অনেক আমল আর চেষ্টার পরও বিয়ে হচ্ছেনা, নির্ভরযোগ্য স্থানে শারঈ রুকিয়া করা যেতে পারে।
ঘ. পাত্রী নির্বাচন:
কেমন সন্তান আপনি দুনিয়াতে রেখে যেতে চান প্রথমে এটা ঠিক করুন। তাহলে সন্তানের মা নির্বাচন সহজ হয়ে যাবে। যেরকম মা দিবেন, সন্তান অমনই হবে। স্ত্রীসহ তবলীগে গিয়ে এমন অনেক বাসায় দেখেছি ৫ বছরের মেয়ে দাওয়াতের কথাগুলো বলছে। ৩ বছরের মেয়ে পর্দা বুঝে গেছে, মা যার সামনে যায়না সেও তার সামনে যায় না। ১৫ মাসের মেয়ে বাচ্চা, মা ঘুমপাড়ানোর সময় আল্লাহ-আল্লাহ বলে ঘুম পাড়াতো, সেও একটা পুতুল নিয়ে আল্লাহ-আল্লাহ স্পষ্ট বলছে আর ঘরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এজন্য নিয়ত ঠিক করুন। একটি দুর্ঘটনা, সারা জীবন-কবর-আখিরাতের কান্না।
১. আপনি তো আর আপনার স্ত্রীর কামাই খাবেন? না। তাই আপনার স্ত্রীর শিক্ষাগত ডিগ্রী আপনার কাজে আসবে না। অনেকে বলে বাচ্চাকে পড়ানোর জন্য শিক্ষিত মেয়ে লাগবে। বাচ্চাকে পড়াতে মাস্টার্স পাশ মা লাগবে না। হাইস্কুলেও মাস্টার্স টীচার অপ্রতুল। স্ত্রীর ডিগ্রী আপনাকে সুখী করবে না। আপনার প্যারেন্টস হয়ত সমাজে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার/ক্যাডার পুত্রবধূ দেখিয়ে সুখী হতে পারেন। কিন্তু আপনার সুখ ওতে নেই। বরং হাজার উদাহরণ পাবেন এগুলোই (উচ্চশিক্ষা/ডিগ্রী/কোর্স/চাকরি) অশান্তির কারণ হয়েছে।
২. বংশ ভাল হওয়া দরকার। বংশ মানে খান-চৌধুরী এগুলা না। এগুলোর ইসলামে অংশ নেই। বংশ বলতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের দীনদারি ও সামাজিক অবস্থান। এটা মানে দাদা ব্রিটিশ আমলে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন কিনা, বাবা সিএসপি অফিসার ছিলেন কি না, চৌদ্দগুষ্ঠি পাঠান কি না, আত্মীয়দের দুনিয়াবি যোগ্যতা কেমন এগুলো বংশ দেখার প্যারামিটার না। বংশ দেখার মিটার হল দীন। কয়েক খানদান ধরে দীনী মেজাজ আছে, ধরে নিতে পারেন মেয়ের মাঝেও দীনী পাবন্দি আছে। দুইতিন পুরুষ আলিম বা আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে আলিম/দীনের বুঝসম্পন্ন লোক বেশি, এগুলো দেখার বিষয়। জাস্ট ধারণার জন্য।
৩. রূপ একটা ভাইটাল বিষয়। যেহেতু আপনি টিভি দেখেন না, নজরের খিয়ানত করেন না। স্ত্রী কিছুটা সুন্দরী হলে এটা আপনার জন্য সহজ হবে। আমার ঘরেই চাঁদ আছে, রাস্তায় মোমবাতি দেখে কি করব? তবে এটাও আপনাকে ক্ষণিক তৃপ্তি দিতে পারে কিন্তু চোখের শীতলতা এর মাঝেও নেই। আল্লাহ না করুন, বউয়ের আগুনরূপ আপনার বরবাদির কারণও হতে পারে।
৪. নির্মমভাবে মেয়ের দীনদারি দেখবেন। কোন ছাড় দিবেন না। বিয়ের পর মানুষ করব, এটা শয়তানের ধোঁকা। নিজেই জংলী হয়ে যাবেন শেষে। বিয়ের আগে দীনদারি/ দীনি শিক্ষার কি হালত, বিয়ের পর কেমন দীনদারি মেইনটেইন করতে চান আলোচনা করে নেবেন। একমাত্র এটাই আপনাকে সুখী করবে। আর যদি কোনটা নাও থাকে দীনদার স্ত্রীর দীনই আপনার চক্ষু শীতল করবে, নয়নজুড়ানো বউয়ের স্বামী হবেন আপনি। নয়নজুড়াতে ৩৬-২৪-৩৬ জরুরি না। জরুরি একমাত্র দীন।
দীনদারির লেভেল বুঝবেন কিভাবে?
নামাযী মানেই দীনদার, নিকাব করলেই দীনপ্রাণা? আই ওয়াজ রিজেক্টেড বাই আ ফুল শারঈ পর্দানশীন গার্ল বিকজ আই ওয়্যার জুব্বা এন্ড পাগড়ি। পরে জেনেছি। নামায পড়ার চেয়ে ফুল পর্দা করা কঠিন। বোরকা পড়ার চেয়ে পর্দা লাইফস্টাইল মেনে চলা কঠিন। দাড়িওয়ালা ছেলে বিয়ে করা আরও কঠিন। সুন্নাতের প্রতি ভালোবাসা আছে কি না দেখবেন। পীর সহীহ কি না বুঝার মাপকাঠি হল সুন্নাহর পাবন্দি। বউও তো একজাতীয় পীর-ই। সম্ভব হলে পুরো সুন্নাহ শইল্যে নিয়ে মেয়ে দেখতে যাবেন। যেটুকু নিয়ে মেয়ে দেখতে যাবেন, বিয়ের পর এর চেয়ে কমবে আপনার সুন্নতগিরি। তাই লেভেল হাই তুলে যাবেন যাতে কমলেও বেশি না কমে।
৫. আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ‘কুফু' বা সাদৃশ্য। এক হাদিসে নবীজীও কুফু রক্ষা করতে বলেছেন। রূপে তো আপনার থেকে বেশি হতেই হবে। আর দীনদারি (এলেম বেশি থাকাই দীনদারি না, দীন মানার যোগ্যতা/আমল হল দীনদারির মাপকাঠি) যত বেশি ততই আপনার চোখ শীতল হবে। বাকি দুনিয়াবি বিষয়গুলো যেমন মালসম্পদ, আভিজাত্য, শিক্ষাগত ডিগ্রী (জেনারেল/দীনী) এগুলো যেন আপনার থেকে বেশি না হয়। সমস্যা হবে পরে। আপনার লেভেল থেকে ঠিক একটু কম বা কমসে কম সমতা যেন থাকে, বেশি যেন না হয়। আমার খুব কাছের একজনের ঘটনা। ছেলের বাপ মেয়ের বাপকে ‘স্যার’ সম্বোধন করত, ডেকোরামে উপরে বলে। তো স্বামীস্ত্রী ঝগড়ায় এটা উঠত। পরস্পরকে অপমানই তো করা হয় ঝগড়ায়। বিয়েটা টেকেনি। এজন্যই মোটা মোটা বিষয়ে কুফুর ব্যাপারটা খেয়াল রাখা চাই। জেনারেল শিক্ষিতরা আলিমা কমপ্লিট বিয়ে না করাই সাবধানতা। ইলমের কুফু। সমস্যা হতে শুনেছি, হলেও দোষ দেয়া যায় না। আমার এই কথাগুলো মানতে কষ্ট হতে পারে, কিন্তু এটা বাস্তব, বিবাহিতরা ভাল বুঝবেন। তবে ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়। বহু ব্যতিক্রম আছে। আমার জানাতেই অনেক আলিমা-জাহেল সুখে ঘর কচ্ছেন। আপাত সতর্কতার একটা ফর্মুলা বল্লাম। এক্সেপশন ইজ নট এক্সাম্পল। (ব্যক্তিগত মত, ইগনোর করুন)
ঙ. নয়নে নয়ন:
১. পয়লা আপনার মা-বোন-ভাবীদের পাঠাবেন দেখতে। আমরা ছেলেরা রূপ দেখেই কাইত। আর মা-বোনেরা যেয়ে খুঁটিয়ে দেখবে, মেয়ে তো মেয়ে, মেয়ের দাদীকে পর্যন্ত খুঁটিয়ে দেখবে। আর মেয়েদের একটা কঠিন সিফত আছে। আভাসে অনেক বুঝে ফেলে। দুএকটা প্রশ্ন করেই ভিতরের খবর বুঝে নিবে। এজন্য মা-বোনের পছন্দ হলে পরে আপনি দেখবেন। আর না হলে আপনি না দেখেই না করে দেবেন। এতে মেয়েটার বেপর্দাও হওয়া লাগল না আপনার সামনে খামোখা।
২. আপনার মহিলারা দেখে আসার পর বা আগে ইস্তিখারা করবেন। নবীজী যেমন গুরুত্ব সহকারে সূরা শেখাতেন, তেমনই গুরুত্ব দিয়ে আত্তাহিয়্যাতু শেখাতেন (হাদিস)। যেমন গুরুত্ব দিয়ে আত্তাহিয়্যাতু শেখাতেন, তেমনই গুরুত্ব দিয়ে ইস্তিখারার দুআ শেখাতেন (হাদিস)। ওহী বন্ধ, কিন্তু ইস্তিখারা বন্ধ হয়নাই। সাতদিন পর্যন্ত ২ রাকাত পড়ে ইস্তিখারার দুআ চলবে। স্বপ্ন দেখবেন এটা জরুরি না, তবে কোন একদিকে মন ঝুঁকে পড়বে, পজিটিভ বা নেগেটিভ। প্রত্যেক কাজে ইস্তিখারা করা চাই চাকরি/ব্যবসা/সাবজেক্ট চয়েস/বিয়ে/সন্তানের বিয়ে, যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে।
৩. মেয়ের সকল তথ্যাদি, মা-বোনের রিপোর্ট, ইস্তিখারার রেজাল্ট, মেয়ের পরিবার-আত্মীয় সম্পর্কিত ডেটা নিয়ে কোন প্রিয় ভারি বয়সের আলিমের সাথে পরামর্শ/মাশওয়ারা করুন। ওহীর অবর্তমানে আল্লাহর পক্ষ থেকে খায়েরের ফয়সালার জন্য নবীজী আমাদের ২ জিনিস শিখিয়েছেন- ইস্তিখারা ও আলিমের পরামর্শ। ভারি অভিজ্ঞ আলিমের ইশারায় কাজে কনফিডেন্স পাবেন, কলিজা আর কলিজা।
৪. আপনার বাবা কিন্তু এখন মেয়ে দেখবে না। আপনার বাবা দেখবেন বিয়ের পর। যতখন মেয়েটা আপনার বউ না হচ্ছে, ততখন সে আপনার দীনী বোন। দীনী বোনের পর্দা যেন নষ্ট না হয়।
৫. আপনার মা/বোন কিংবা মেয়ের ভাই/মাহরামের উপস্থিতিতে আপনি মেয়েকে দেখবেন। নবীজী তাগিদ দিয়েছেন বিয়ের আগে পরস্পরকে দেখার ব্যাপারে। একজন মুসলিমার প্রাপ্য সম্মান বজায় রেখে কথা বলবেন। এমন কোন প্রশ্ন করবেন না যাতে সে আহত হয়/লজ্জা পায়। কঠোর কোন দাবী করবেন না যে, বিয়ের এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে, রাজি আছো কি না। এক বোন আমাকে দাবি পেশ করেছিলেন, বেডরুমের পাশাপাশি তাঁর শুধু পড়াশুনোর জন্য আরেকটা রুম লাগবে, দিতে পারবো কি না। কোনমতে মানে মানে কেটে পড়েছি। অবশ্যই ‘আপনি’ সম্বোধনে কথা বলবেন। তাঁকেও আপনার ব্যাপারে জানার সুযোগ দিবেন। খালি নিজেই ইন্টারভিউ নিয়ে এসে পড়বেন না। প্রশ্ন করার সুযোগ দিবেন ম্যাডামকে।
৬. আপনার ভাল লাগলে আপনার অভিভাবকদের দ্রুত জানান। কারো একটা একটা জিনিস সুন্দর হয় না। প্রতিটা মানুষই সামগ্রিকভাবে সুন্দর। একটা কমি পূরণ করে দেয় আরেকটা কিছু। রূপ+কথা+দীনদারি+স্বামীকে নিয়ে স্বপ্ন সব কিছু মিলিয়েই একজন মেয়ে সুন্দর। শুধু রূপসী বহু পাবেন যাদের বাকিগুলোয় ভয়ানক কমতি আছে। তাই ওভারঅল নিয়ে চিন্তা করে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে আসুন।
৭. সবার তকদীরে সবাই নেই। আপনার ভালো নাও লাগতে পারে। আপনি আপনার লোকজনকে জানান, তাঁরা ডিপ্লোমেটিক্যালি জানিয়ে দিবেন। মেয়েটিরও আপনাকে ভাল না লাগতে পারে। কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। আসল জনের জন্য দুআ করুন, আল্লাহ তাড়াতাড়ি উহাকে আমার বুকে আনিয়া দাও।
৮. মিয়া-বিবি রাজি হয়ে গেলে শানাই বাজাবেন না। মিউজিক জায়েজ নাই। তবে দেরি করতে নবীজী নিষেধ করেছেন। যে কারো দিল ঘুরে যেতে পারে। তাই দ্রুত তারিখ ঠিক করার চেষ্টা করুন। আর হ্যাঁ, পছন্দের পর বিয়ের আগে মেয়ের সাথে আবার দেখা করা তো দূর কি বাত, ফোনে গল্পগুজবও জায়েজ নেই।
আন-নিকাহ:
১.
বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে যাবার পর আপনাকে কঠোর কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটা সম্পর্কের শুরুটা মোটেও সমীচীন হবে না আল্লাহর নারাজি দিয়ে শুরু করা। সুন্নাতের খেলাফ আল্লাহর হুকুম নষ্ট করে যে সম্পর্কের শুরু তা বারাকাতময় হবে কিভাবে। খায়েশাতের বিয়ে যারা করে তারা খায়েশ পুরো করে, হৈহুল্লোড়, ফটোগ্রাফি, ভিডিও, গায়ে হলুদ, ডিজে-ডান্স, সাউন্ড সিস্টেম, লৌকিকতা। মনে রাখবেন, আপনি করছেন আমল, আল্লাহর খুশির জন্য। শুরুতেই ছাড় দিবেন না। নিজের পরিবার, কনের পরিবারের সামনে স্পষ্ট করে আপনার চাওয়া জানিয়ে দিন।
ক. গায়ে হলুদ:
হবে না। এটা এবং বাগদান (এনগেজমেন্ট) দিনের আলোর মত স্পষ্ট হিন্দু সংস্কৃতি থেকে প্রবিষ্ট। গায়ের মাহরামের ইনভলভমেন্টে ফরজ পর্দা নষ্ট হওয়া থেকে নিয়ে ফটোগ্রাফি, ডান্স, ডিজে, লোকদেখানো অহেতুক খরচ, ফ্রিমিক্সিং অনেকগুলো হারাম কাজের উপলক্ষ। যা কোনভাবেই আপনার দাম্পত্যজীবনে আল্লাহর লানত ছাড়া বারাকাহ টেনে আনবে না। হুঁশিয়ার।
খ. পর্দা:
ওয়ালীমাতে নারীপুরুষ আলাদা ব্যবস্থা হবে। কনে পর্দার সাথে থাকবে। নন-মাহরাম কেউ কনে দেখবে না। কনের ছবি কেউ তুলবে না, ভিতরের মহিলারাও না। বদদীন মহিলারাও ছবি তুলে স্বামীকে গিয়ে দেখায়। শুরুতেই ফরজের সাথে কম্প্রোমাইজ করবেন না। কমপক্ষে কনের পর্দা রক্ষায় কঠোর থাকুন। আল্লাহ খুশি হবেন।
গ. বিয়ে মসজিদে:
বাংলাদেশে ওপেন হার্ট সার্জারির পথিকৃৎ প্রফেসর ডা. এস. আর. খান স্যার এক বয়ানে বলেছিলেন, মুসলমানের আবার ক্লাব-কমিউনিটি সেন্টার এগুলা কি? মুসলমানের ক্লাব-কমিউনিটি সেন্টার হল মসজিদ। মুসলমানের অবসর কাটবে মসজিদে। মুসলমানের বিয়েশাদী, বিচারসালিশ সকল সামাজিক কর্মকাণ্ডের মারকাজ/কেন্দ্র হবে মসজিদ। আজ আমাদের সাথে মসজিদের কত দূরত্ব। এজন্যই আমাদের জীবনে বারাকাহ নেই।
মুসলমানের বিয়ে মসজিদে। সুন্নাহ এটাই। মেয়ের বাবা মেয়ের অনুমতি নিয়ে মসজিদে আসবে। মেয়ে আসবে না। ছেলের কাছে প্রস্তাব পেশ করবেন ইমাম সাহেব। ছেলে জোরে বলবে, আলহামদুলিল্লাহ আমি কবুল করছি। ৩ বার বলা জরুরি না। চিড়িয়ার মত দাঁড়িয়ে সবাইকে সালাম দেয়াও অদরকারি প্রথা। ব্যস, হো গ্যায়া। পুরো সমাজ, মানে উপস্থিত মুসল্লীরা সাক্ষী হয়ে গেল যে আপনি অমুকের এত নং বেটিকে শাদী করেছেন। ওয়ালীমা করলে সাক্ষীর সংখ্যা আরও বাড়ল। কাবিন, রেজিস্ট্রি, ২ সাক্ষী এগুলো সরকারি হিসাব। পরে করে নেবেন। আল্লাহর খাতায় আপনারা স্বামী-স্ত্রী, মেয়েটি আপনার জন্য হালাল। সাক্ষী পুরো সমাজ।
খেজুর ছিটানো সুন্নাহ। যেহেতু বিয়ে একটা আনন্দের উপলক্ষ, নবীজী ছিটিয়ে দিতে বলেছেন। সবাই লাফিয়ে ধরবে। ভিজা ভিজা আঠালো খেজুর নিবেন না, খোরমা নিবেন, তাহলে ছিটালে মসজিদ ময়লা হবে না। আর পাবলিক ধরবে হাতে, মুখে চিল্লাপাল্লা হবে না। তবে ইমাম/মসজিদের খাদিম নিষেধ করলে হাতে হাতে খেজুর বণ্টন রতে পারেন।
ঘ. কাবিন:
কাবিননামা দ্রুত করে ফেলবেন। এখন আমাদের ঈমান দুর্বল, তাকওয়ার অভাব। কাবিন, রেজিস্ট্রি মেয়ের নিরাপত্তার জন্য। ছেলে কিছুদিন সংসার করে পালিয়ে গেল। বা লজ্জা ভুলে বেহায়ার মত অস্বীকার করল। তখন? মেয়েটা যেন আইনের দ্বারস্থ হতে পারে, বিচার পায়। এজন্য বিয়ের মজলিসেই, না হয় পরে যত দ্রুত সম্ভব।
ঙ. বরযাত্রী:
৫০০ বরযাত্রী যাবে মেয়ের বাপকে খসাতে। তারপর এসে খাবার নিয়ে সমালোচনা, গেট ধরা, শ্যালিকা হাত ধুয়ে দেয়া এসবের ইসলামে অনুমোদন নেই। হুজুর সা. নিজে মেয়েকে আলীর রা. ঘরে দিয়ে আসেন। আবু বকর রা. গিয়ে দিয়ে আসেন আম্মাজান আয়িশাকে রা.। মেয়ের বাড়িতে খানাপিনা হবে না। উত্তম তো কনের বাপ গিয়ে কনেকে দিয়ে আসবে। না হয় দীনদার ছেলে সাথে ২/৩ জন গিয়ে মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে আসে, মেয়ের বাসায় কিচ্ছুই খায় না। মোট কথা মেয়ের বাপের কোন খরচ নেই মেয়ে বিয়ে দিতে। মাহর, ওয়ালীমা সব ছেলেপক্ষের খরচ। ইসলামে মেয়ে পিতার জন্য বারাকাহ। আর আমরা হিন্দুয়ানি প্রথা ঢুকিয়ে জাহেলিয়াতের মত মেয়েকে পিতার জন্য বোঝা বানিয়ে দিয়েছি। একান্তই মেয়ের বাবা লৌকিকতার তাগিদে খানাপিনার চাপাচাপি করলে অনূর্ধ্ব দশ গিয়ে খেয়ে আসবেন। ইসলাম সহজ, খায়েশাতই কঠিন।
চ. যৌতুক:
প্রশ্নই ওঠে না। আগেই বলেছি মেয়ের বিয়েতে মেয়ের বাবার কোন খরচ ইসলাম রাখেনি। খবরদার। কোন চাপাচাপি/দাবি করবেন না। শ্বশুর জামাইকে হাদিয়া দিবে ভাল কথা। এজন্য সারা জীবন পড়ে আছে। বহুত হাদিয়া দিবে। জাস্ট বিয়ের সময় নিবেন না। এমনকি বরের বাসায় কাপড়চোপড় পাঠানো, তা নিয়ে আবার গীবতের মজমা বসে। আপনি একটু কঠোর হলে কত গুনাহ রোধ করতে পারেন।
অনেকে যৌতুক নেন না ঠিকই, আবার বউকে কথাও শোনান। বরযাত্রী যান না, আবার শাশুড়ি বউকে খোঁটাও দেয়, তোমার বাপের তো কোন খরচই হয়নি, খালি মেয়েটা দিয়েই খালাস। অনেকসময় এই খোঁটার ভয়েই মেয়ের বাপ অনুষ্ঠান করে/যৌতুক দিতে চায়। মুসলিমকে এই খোঁটা দেয়া/উপহাস ভয়াবহ রকমের কবিরা গুনাহ। তাওবা ছাড়া মাফ না হবার সম্ভাবনা।
কিছু বিষয়ে আল্লাহর জন্য কঠোর হয়ে যেতে হয়। যারা বেজার হবে, তাদের খুশি করার দায়িত্ব আল্লাহর (হাদিস)। আপনার কাজ শুধু আল্লাহকে খুশি করা। যত পরিমাণ সুন্নাহর উপর আমল হবে ধরে নিবেন আপনার দাম্পত্য জীবন তত সুখের হবে ইনশাআল্লাহ।
২.
অনেক সময় এত স্ট্রিক্ট থাকা সম্ভব হয় না। আপনি শুরুতেই ছাড় দিলে আপনার সব যেত, ফরজও যেত। এখন শুরুতে কঠোর হলেন, ছাড় দিলেও কিছু তো হবে। আল্লাহর কিছু ফরজ হুকুম তো রাখতে পারবেন। এখন আলিমগণের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করুন কতটুকু ছাড় দিবেন। ফরজ পর্দা প্রভৃতির সাথে আপোস প্রশ্নই আসে না। তুলনামূলক কম সিরিয়াস বিষয়গুলো আলিমের পরামর্শক্রমে ছাড় দিতে পারেন।
ছ. মাহর:
আমার আগে ১ জন মাত্র রাবী, সহীহ সনদ। মেয়ের বাপ মাহর চেয়েছে ৪০ লাখ টাকা। কেন? আমার মেয়েকে যদি ছেলে ছেড়ে দেয়। ঠিকই ৬ মাসের মধ্যে ৪০ লাখ টাকা পে করেই ডিভোর্স হয়েছে।
বেশি মাহর বিয়ে টেকার ইনসিওরেন্স না। বরং যে বিয়ে মাহর কম, সে বিয়েতে বারাকাহ বেশি (হাদিস)। মাহর বিষয়টার অনেক সামাজিক প্রভাব আছে। উলামাগণের অনেক কিতাবও পাবেন। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, হঠাৎ যদি আপনি মারা যান, আপনার স্ত্রীসন্তান যেন পথে বসে না যায়, কিছুটা আর্থিক সিকিউরিটি ইস্যু। তাই বরের সামর্থ্যানুযায়ী যতটা সম্ভব মাহর নির্ধারণ করুন। সামর্থ্যের মধ্যেই বেশিটা। লোক দেখানোর জন্য সামর্থ্যের অতিরিক্ত মাহর দাম্পত্য বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
অনেকে মাহরে ফাতেমী নির্ধারণ করেন। আলী রা. যে মাহরে ফাতিমা রা. কে বিয়ে করেছিলেন। আলী-ফাতিমা রা. কেমিস্ট্রির বারাকাহ পাবার জন্য এটা করা হয়, কেননা এতে স্বয়ং নবীজীর অনুমোদন ছিল, সেই হিসেবে। তবে এটাও জরুরি না। জরুরি হল সামর্থ্যের ভিতরে লৌকিকতা বিবর্জিত হওয়া। আলিমগণের সাথে পরামর্শ করতে ভুলবেন না এ বিষয়ে।
জ. বাসর-রাত/ প্রথম-রাত:
কিছু ইলমের জন্য নির্ধারিত সময় আছে। অসময়ে শিখলে তা ভাল ফল বয়ে আনে না। ফিতনার কারণ হয়। বান্দা পরীক্ষায় পড়ে যায়।
- বাসররাতের আগ পর্যন্ত যারা পৌঁছে গেছেন বাস্তব জীবনে
- ঈদের পর বাসররাতে পৌঁছবেন
- অলরেডি বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করেছেন
- সুন্দর দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন
- যৌনজীবন নিয়ে সমস্যায় আছেন,
এই চ্যাপ্টারটা শুধুই তাদের জন্য। বাকিরা পড়া মানে নিজের ‘অবিবাহিত জীবন' আরও কঠিন করে ফেলবেন এবং ফিতনায় পড়ে যাবেন।
তাই নোটের এই অংশটুকু ঈদের পর দেয়া হবে শুধু উপরের ক্রাইটেরিয়ার ভাইদেরকে ইনবক্সে। কোন ঈদ তা পরে জানিয়ে দেব না, এখনই জানিয়ে দিচ্ছি। এই বছর রোজার ঈদের পর ইনশাআল্লাহ। সমাপ্তিও ওখানেই টানব খন।
অধিক কৌতূহলবশত কেউ মিথ্যা হলফ করে নিজেকে বিবাহিত দাবি করে কেউ যদি নোট চান, এবং নিজেকে জটিল পরীক্ষায় আবিষ্কার করেন, লেখক তা থেকে দায়মুক্ত ইনশাআল্লাহ। যারা নোটটা নিবেন তারাও তাঁদেরকেই দিবেন যারা উপরের শর্ত পুরা করেন। প্লিজ অধমকে গুনাহগার বানাবেন না। অনেক বিশ্বাস করে আপনাদেরকে দিব জিনিসটা।
ডাক্তার হবার সুবাদে অনেক মানুষ, তাবলীগের সাথী, সমবয়েসী উলামাগণ যৌনজীবনের বিভিন্ন সমস্যায় পরামর্শ চেয়েছেন নানান সময়। সেগুলো সামনে নিয়ে কিছু পড়াশুনা করেছি, বিভিন্ন তথ্য তাদের থেকে নিয়েছি, সমাধান প্রস্তাব করে ফিডব্যাক নিয়েছি, কৌশল শিখিয়ে ফিডব্যাক নিয়েছি। আলিমগণের এ বিষয়ে তেমন লেখা চোখে পড়েনি। পরবর্তী নোটের টপিক মোটামুটি এমন: যৌনমিলন, যৌনসমস্যা ও প্রতিকার (ওষুধ ছাড়া) এবং সন্তান ধারণ। নিজের চিকিৎসা বিদ্যা, আলিমগণের পরামর্শ ও জনাত্রিশেক মানুষকে দেয়া সমাধান (নন-মেডিসিন) ও নেয়া ফিডব্যাক থেকে লব্ধ কৌশল আপনাদের সামনে তুলে আনব। ইনবক্সে চাহিবামাত্র ঈদের পর দেয়া হইবে। সেকুলার বিজ্ঞান আসলেই পূর্ণ ফলাফল দেয় না যতক্ষণ তাওহীদ/ আল্লাহর দেয়া সমাধান না মেশানো হয়। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি।
ঝ. সারাজীবনসাথী:
আর দাম্পত্য জীবনে আচরণ কেমন হবে সে বিষয়ে নিচের বইগুলো পড়ার প্রস্তাব থাকবে।
১. দুজন দুজনার, মাওলানা আতীক উল্লাহ দা. বা.
২. ওগো শুনছো, ঐ
৩. আই লাভ ইউ, ঐ
৪. প্রিয়তমা, মাওলানা সালাহউদ্দিন জাহাঙ্গীর দা.বা.
৫. মুফতি আবদুল্লাহ আল- মাসুম দা. বা. রচিত একটা বই আছে দারুণ।
৬. মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী দা.বা. এর একটা বই আছে।
সবগুলোর নির্যাস নিয়ে একটা নোট লেখার ইচ্ছা রইল। আল্লাহ কবুল ফরমান।
* Shamsul Arefin Shakti
Friday, June 22, 2018
প্রথমেই মেয়ে দেখতে কেমন তার খোঁজখবর নেওয়া উচিত, তারপর দ্বীনদারী
বিয়ে করতে ইচ্ছুক পাত্রদের প্রতি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহিমাহুল্লাহ) এর উপদেশ-
যখন একজন ব্যক্তি বিয়ে করতে ইচ্ছুক হয় তখন প্রথমেই মেয়ে দেখতে কেমন তার খোঁজখবর নেওয়া উচিত, এতে যদি সে সন্তুষ্ট হয় তাহলে মেয়ের দীনদারিতার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।
যদি মেয়ে দীনদার হয় তাহলে সে বিয়ে করে নিবে এবং যদি দীনদার না হয় তাহলে সে বিয়ের দিকে এগোবে না
[এর ফলে তার রিজেকশনটি দীনের কারনে হয়]
..
এমন যেন না হয় যে,সে প্রথমে মেয়ের দীনদারিতার ব্যাপারে খোঁজখবর নিবে এবং এতে সন্তুষ্ট হলেও পরে দেখতে কেমন সেটার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার পর সে আগালো না [ এটাতে রিজেকশনটা দীনের কারনে না হয়ে সৌন্দর্যের কারনে হয়ে যায়]
[Sharh Muntaha-l Iradat
...
এডমিনদের কথা:
যেসব ভাই পাত্রীদের সৌন্দর্যের ব্যাপারটা এমন গুরুত্ব দেন যে পাত্রী দীনদার হলেও শুধু সৌন্দর্যের কারনে এগোবেন না, তাদের উচিত কোন প্রস্তাবে কথাবার্তা এগোনোর আগে পাত্রী দেখতে কেমন তার খোঁজখবর নেওয়া,এতে সন্তুষ্ট হলেই যেন শুধু পরবর্তী আলোচনাতে যান নাহলে এমন হয় যে দু তিন মাস ঈমান 'আমাল মাজহাব মানহাজ সহ যত কিছু আছে সব কিছু জানাশুনার পর 'দেখতে ভাল লাগছে না' বলে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়!!!
* Source
যখন একজন ব্যক্তি বিয়ে করতে ইচ্ছুক হয় তখন প্রথমেই মেয়ে দেখতে কেমন তার খোঁজখবর নেওয়া উচিত, এতে যদি সে সন্তুষ্ট হয় তাহলে মেয়ের দীনদারিতার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া উচিত।
যদি মেয়ে দীনদার হয় তাহলে সে বিয়ে করে নিবে এবং যদি দীনদার না হয় তাহলে সে বিয়ের দিকে এগোবে না
[এর ফলে তার রিজেকশনটি দীনের কারনে হয়]
..
এমন যেন না হয় যে,সে প্রথমে মেয়ের দীনদারিতার ব্যাপারে খোঁজখবর নিবে এবং এতে সন্তুষ্ট হলেও পরে দেখতে কেমন সেটার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়ার পর সে আগালো না [ এটাতে রিজেকশনটা দীনের কারনে না হয়ে সৌন্দর্যের কারনে হয়ে যায়]
[Sharh Muntaha-l Iradat
...
এডমিনদের কথা:
যেসব ভাই পাত্রীদের সৌন্দর্যের ব্যাপারটা এমন গুরুত্ব দেন যে পাত্রী দীনদার হলেও শুধু সৌন্দর্যের কারনে এগোবেন না, তাদের উচিত কোন প্রস্তাবে কথাবার্তা এগোনোর আগে পাত্রী দেখতে কেমন তার খোঁজখবর নেওয়া,এতে সন্তুষ্ট হলেই যেন শুধু পরবর্তী আলোচনাতে যান নাহলে এমন হয় যে দু তিন মাস ঈমান 'আমাল মাজহাব মানহাজ সহ যত কিছু আছে সব কিছু জানাশুনার পর 'দেখতে ভাল লাগছে না' বলে রিজেক্ট করে দেওয়া হয়!!!
* Source
Monday, May 28, 2018
সহজে আরবী ভাষা শিখুন ৫ টি ধাপে

১. প্রথমে এই চ্যানেলের ভিডিওগুলো ভাল করে দেখুন:
https://www.youtube.com/channel/UCg5hI1RcC4u2pxbp64Szzgw
https://www.youtube.com/watch?v=JJ1nxwU_0ro&index=5&list=PL1JKv-zqJfEYrTa7TpUGb74JOjPoCojjT
ভিডিওর পাশাপাশি এই বইটি অনুসরণ করুন:
http://www.alquranervasha.com/download-book/26
২. কুরানীয় শব্দার্থ শিখুন:
বই-
http://www.alquranervasha.com/download-book/31
৩. অনুবাদ অধ্যয়ণ করুন:
http://www.alquranervasha.com/quran/quranSurah
FurqanTube ইউটিউব চ্যানেল(বাংলা অর্থ সহ ৩০ পারা কুরআন তেলাওয়াত- Mishari Al Afasy)
https://www.youtube.com/channel/UCMfe2vqHgIu3QYdI6lIbAdQ
https://www.youtube.com/watch?v=zE_WFiHnSlY&list=PLaoLNlo4d8-044EScxyu33SC9BJF5IeeH
সহায়ক হিসাবে নিচের দুটি চ্যানেল অনুসরণ করতে পারেন-
৪. আরবী কার্টুন চ্যানেল(ইংলিশ সাব টাইটেল আছে):
Arabian Fairy Tales:
https://www.youtube.com/channel/UCazFScO30FKY3YoNNDfNY5g
বিঃদ্রঃ কার্টুনের অনেক বিষয়ই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে। নিজ দায়িত্বে দেখবেন।
৫. এই আরবী চ্যানেলটি দেখতে পারেন(ইংলিশ সাব টাইটেল সহ):
Fahad Alkandari l فهد الكندري:
https://www.youtube.com/channel/UCTRGcT1KQVoQA1vdNLlbjhw
ওজন কমাতে হলে- মটুদের জন্য
মটুদের জন্য,
প্রথমত: কিভাবে বুঝবেন যে আপনি মোটা ?
১. গুগলে বি এম আই লিখে, সার্চ দিয়ে, নিজের ওজন এবং উচ্চতা দিন, বি এম আই হিসাব করার জন্য। যদি বিএমআই ২৪.৯ এর বেশী হয় তাহলে আপনি মোটা।
২. নরমাল অবস্থায় যদি আপনার বুকের মাপ কোমর থেকে ২ ইঞ্ছি বেশী না হয়, তাহলেও আপনি মোটা, যদিও বিএমই ২৪.৯ এর নীচে বা উপরে।
কিভাবে মোটা হলাম?
আপনি যদি মোটা হয়ে থাকেন, তাহলে এর মানে অবশ্যই আপনি প্রয়োজনের তুলনায় ক্যালরী অনেক বেশী খান, সেই খাওয়া শরীরে চর্বি হিসেবে জমেই আপনি মোটা হয়েছেন।
মূলত: প্রবলেম হল, মানুষের জেনেটিক্স এমনভাবে ডিজাইনড, তা যতটুকু খাবার প্রয়োজন, তার অনেক বেশী তার ক্ষুধা লাগে (প্রায় ২-৩ গুণ)। যাতে সে একবারে বেশী খেয়ে ফেলে শরীরে একটু চর্বি জমে, এবং দুর্ভিক্ষকালীন সময়ে সে কম খেয়ে চলতে পারে। যদি সে শরীরে খাবারকে চর্বি হিসেবে স্টোর করতে না পারতো, তাহলে দুর্ভিক্ষ কালীন, বা খাদ্যের অভাব যখনই হতো, তখনও সমগ্র মানব জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো।
যেহেতু মডার্ন সাইন্টিফিক ডেভেলপমেন্ট এর আগে প্রতি বছর প্রায় কয়েক মাস খাদ্য সংকট চলতো, তাই মানব জাতির সুরক্ষার জন্য এমন জেনেটিকাল ডিজাইন আসলে দরকার ছিল। আল্লাহ তাই করেছেন, আল্লাহ ভাল জানেন।
মনে করেন, আপনি বাংলাদেশী, আপনার এভারেজ হাইট ৫-৭ ইঞ্ছি, পুরুষ। ওজন সত্তর কেজি । সেক্ষেত্রে আপনার প্রতিদিন প্রায় ২৪০০ ক্যালরী শক্তি দেয় - এর সমতুল্য খাদ্য দরকার। এখন মনে করেন, গড়পড়তায় আপনি দিনে প্রায় ২৮০০ ক্যালরী সমতুল্য খাদ্য খাচ্ছেন্। তাহলে আপনি দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরী বেশী খাচ্ছেন, গড়পড়তায়।
প্রতি দশ ক্যালরী = ১ গ্রাম চর্বি। তাহলে ৪০০ ক্যালরী অতিরিক্ত খাদ্য থেকে আপনার দেহে প্রতিদিন মাত্র ৪০ গ্রাম চর্বি জমা হবে। কিন্তু তাতেই মাসে ৩০*৪০ = ১২০০ গ্রাম = ১.২ কেজি ওজন বাড়বে আপনার। বছরে প্রায় ১৪.৪ কেজি বাড়বে। তবে কখনও বেশী খাচ্ছেন, কখনও একটু কম খাচ্ছেন, তাই হয়তো এত বাড়েনা। কিন্তু ৫-৬ কেজি বাড়া কিন্তু কোন ব্যাপারই না। মাত্র ৬ কেজি চর্বি যদি আপনার পেটে জমে যায়, তাহলে তা বিশাল ভুড়ি হিসেবে দেখাবে।
সমাধান?
উপায় একটাই, সেটা হল আপনার শরীরে ক্যালরী ডেফিসিট ( ক্যালরীর অভাব) ক্রিয়েট করতে হবে। তা কম খেয়ে হোক বা ব্যায়াম করে হোক। ক্যালরী ডেফিসিট ক্রিয়েট করতে পারলে, শরীর তখন চর্বি খরচ করবে, এবং আপনার দেহ থেকে চর্বি ঝরে যাবে।
মনে করেন, আপনি দিনে ২০০০ ক্যালরী করে খাওয়া একবার অভ্যাস করে ফেললেন, খুব স্ট্রিক্টলী ফলো করলেন, যে কিছুতেই ২০০০ এর বেশী খাবেন না। তাহলে দিনে প্রায় ২৪০০ - ২০০০ = ৪০০ ক্যালরী ডেফিসিট হবে। মানে দিনে ৪০০/১০ = ৪০ গ্রাম ফ্যাট ঝরবে। তাহলে মাসে ১.২ কেজি কমবে ওজন। যদি আপনি ব্যায়াম করে ২৬০০ ক্যালরী নীড তৈরী করতে পারেন, কিন্তু খাবার ঠিকই ২০০০ ক্যালরি খান, তাহলে দিনে ৬০০ ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী হবে, এবং দিনে ৬০ গ্রাম কমবেন। মাসে ৬০*৩০ = ১৮০০ গ্রাম= ১.৮ কেজি কমবেন। আপনি যেই হারে নিজেকে কমাতে চান, ঠিক সেইভাবে কমাতে পারবেন।
এখন সমস্যা হল , এত হিসাব করে কি খাওয়া যায়? আর জীমে গেলে কি হয়?
আসলে ব্যায়াম করে খুব একটা লাভ হয়না, কারণ অনেক ব্যায়াম করলেও সামান্য ক্যালরী খরচ হয়।
মনে করেন, একটা পুশ আপ মাত্র এক ক্যালরি যায়। তাহলে ১০০ পুশ আপ দিয়ে ভাবলেন অনেক ব্যায়াম করছি... নাহ। ১০০ পুশ আপ মানে মাত্র ১০০ ক্যালরী = দুই চামচ চিনি ... এতই কম খরচ হয়। ১৫ কেজি ওজন একবার তুললেন -- মাত্র ০.৭৫ ক্যালরী। ১৫ মিনিট দৌড়ালেন, মাত্র ১০০ ক্যালরী । তাই ভিগোরাস ব্যায়াম ৩-৪ ঘন্টা করলেও মাত্র ৪০০-৫০০ ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী হয়। খুব বেশী না। এরপর এমন ক্ষুধা লাগে, যে মানু ৩০০ ক্যালরী খরচ করে ১০০০ ক্যালরী খেয়ে ফেলে, তাই লাভ হয়না। মূল পয়েন্ট এটা না যে আপনি ব্যায়াম করলেন কি করলেন না, মূল পয়েন্ট হল, আপনি কত ক্যালরী খরচ করলেন, আর কত ক্যালরী ইনপুট দিলেন- সেটার অনুপাত। যত খরচ করবেন, তার থেকে কম খেতে হবে।
সুতরাং ওজন কমাতে হবে ৯০% ডায়েট দ্বারা আর ১০% যদি চান ব্যায়াম করতে পারেন। ব্যায়াম করলে ভাল, শরীর ফিট হয়, তবে চর্বি ঝরাতে হলে, মূল প্রায়োরিটি দিতে হবে 'কম খাওয়া' কে।
গুগলে সার্চ করে দেখে নিতে পারেন, যে কোন খাদ্যে কত ক্যালরী, কিন্তু এটা তো ঝামেলা, তাই সহজে মনে রাখবেন এভাবে:
সাধারণ খাদ্য:
ভাত-আলু (শর্করা জাতীয়) : ক্যালরী হল ১০০ গ্রামে ১৩০ ক্যালরী
ডাল-মাছ-মাংস (কোন চর্বি ছাড়া) : ক্যালরী হল ১০০ গ্রামে ১০০ ক্যালরী
চর্বি-তেল : ক্যালরী হল ১০০ গ্রামে ৯০০-১০০০ , চিন্তা করেন শুভংকরের ফাকিটা এখানেই। তেল বা চর্বি প্রায় ৯-১০ গুন ক্যালরি বেশী থাকে, তাই তেল চর্বি খাওয়া যদি খুব লিমিটেড করে দিতে পারেন, তাহলেই কিন্তু শরীরে ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী করে ভুড়ি কমাতে পারবেন।
চিনি: ১০০ গ্রামে ৪০০ ক্যালরী। তার মানে চিনি খেতে হবে খুব কম, খুব। জাস্ট ১ চামচ চিনি দিয়ে সকালে চা-কফি খাওয়া যায়।
চানাচুর-চিপস: এগুলো তেলের মতই, প্রতি ১০০ গ্রামে ৬০০ ক্যালরী থাকে। তার মানে দিনে মাত্র ৩০০ গ্রাম চানাচুর খেলেই সারাদিনের ক্যালরি চাহিদা শেষ। বাকি সবকিছুই বোনাস খাচ্ছেন, চর্বি হচ্ছে।
মাত্র এক চামচ তেল মাত্র ১০ গ্রাম কিন্তু ক্যালরী থাকে ১০০। তার মানে তরকারী-মাংসে একটু তেল বেশী দিলেই এক বেলাতেই ৩০০-৪০০-৫০০ ক্যালরী বেশী খাওয়া হয়ে যাচ্ছে, আমরা টেরই পাচ্ছিনা। এভাবেই মোটা হচ্ছি।
তাই শরীরে ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী করতে হলে,
১. যিনি রান্না করেন তাকে বুঝান যে তরকারী বা ঝোলে, তেল খুব কম দিতে , অথবা ঝোল-তরকারী-ডাল খাবার খুব কমিয়ে দিন। পারলে না খান। কারণ অতিরিক্ত তেল দেয়া হয়। এজন্যই বাংগালি মোটা হচ্ছে। ডিম খাবেন সিদ্ধ , মাত্র ৪০ ক্যালরি - একটা ডিম। কিন্তু তেলে ভেজে খেলে ২০০ ক্যালরী হয়ে যাবে, কারণ ডিমের সাথে মাত্র ১২-১৫ গ্রাম তেল মিশে আছে।
২. ভাত খুব কম খান, মাত্র ২০০ - ৩০০ গ্রামই যথেষ্ঠ। কিন্তু ক্ষিধা?
সমাধান সহজ। মরিচ বেশী খান, ঝাল খান। দরকার হলে লাল মরিচ- বা খুব ঝাল কাচা মরিচ। ভাত-খাওয়া কমিয়ে দিবেন, কিন্তু ঝাল মরিচ খাবার বাড়িয়ে দিবেন। ব্যস, ক্ষুধা বাপ বাপ করে পালাবে। প্রয়োজনে খুব ঝাল রসুন-মরিচ ভর্তা চালাতে পারেন, ব্যাপক কাজ দেয়। তবে তেল ঝরিয়ে।
৩. মাংস খাবার কমাতে হবে, কারণ মাংসের ফাকে ফাকে চর্বি থাকে। পিউর মাংস- যেমন মুরগী খেতে পারেন, কিন্তু ঝোল খাবেন না, বা খুব কম খাবেন ১-২ চামচ। মুরগীর চামড়া পুরাটাই চর্বি, খাওয়া যাবেনা। খেলে প্রতি ১০ গ্রামে ১০০ ক্যালরী ইনপুট হবে, সাবধান।
গরু-খাসীর মাংসে চর্বি মিশ্রিত থাকে, তাই ২-৩ -৪ টা ছোট টুকরার বেশী নয়। আর খাবার সময় বেছে বেছে চর্বিগুলো ফেলে দিবেন (গরু খাসী)।
যদি ঝোল খেতেই হয়, তাহলে শুধু মসলাটা খাবেন, তেলটা ফেলে দিবেন। ওই তেলটাই আপনাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, মানে ভুড়ি বানাচ্ছে। ভুড়ি হওয়া আর পঙ্গু হওয়া তো একই কথা, রাইট?
৪. সবজিতে ক্যালরী ১০০ গ্রামে ৩০-৪০. খুব কম তাই সবজি-সালাদ এগুলো খেয়ে পেটকে ধোঁকা দিবেন। পেটকে ভরে রাখবেন। ক্ষুধা নিবারণ করবেন সবজি দ্বারা বেশী, তেল-চর্বি দ্বারা কম।
৫. ফলে ক্যালরী অবশ্য খুব ভ্যারী করে, মিষ্টি ফলগুলোতে বেশী ১০০ গ্রামে ৩০০ , মিষ্টি ফলগুলোতে কম: ১০০ গ্রামে ৪০-৫০ , তাই ফল খেতে হলে গুগলে সার্চ দিয়ে ক্যালরী দেখে খান। তবে পেয়ারা-আমড়া-আপেল এগুলোতে কম থাকে ক্যালরী। মরিচ দিয়ে খেয়ে ক্ষুধাকে তাড়াতে পারেন।
৬. আপনি কম খাওয়া শুরু করলে, আপনার পেট সারাদিন খালি বলবে, আমি কিচ্ছু খাইনা, কেমনে বাচবো। এগুলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা মনে করবেন। মাত্র ২ কেজি চর্বি শরীরে জমা থাকলে তা দিয়ে বিশ হাজার ক্যালরি হয়, তাই দিয়ে ৬ দিন আপনি বেচে থাকতে পারবেন, শুধু পানি খেয়ে। তাই খাওয়ার আসলে কোন দরকারই নেই। হেহে
৭. আপনার দেহের প্রায় ১৫ ভাগ ই চর্বি। মানে কোন ভুড়ি যদি নাও থাকে তাহলেও ৭০ কেজি মানুষের শরীরে দশ কেজি চর্বি থাকে। আর যদি ভুড়ি থাকে, তাহলে ভুড়ির চর্বি তার সাথে যোগ হবে। কিছু না খেয়ে শুধু পানি খেয়েই আপনি ২-৩ মাস বেচে থাকতে পারবেন, কোন প্রবলেম হবেনা। পিউর সাইন্স।
তাই পেট যখনই উচ্চ বাচ্য করবে, তখনই বুঝবেন, যে শয়তান তাকে কুরকুর করাচ্ছে, লাল বা কাচা মরিচ দিয়ে ঠান্ডা করে দিবেন। মনে রাখবেন, জাস্ট লাল মরিচ-রসুন ভর্তা খেয়েই ওজন কমানো যায়্ কারন মরিচ-রসুনে কোন তেমন কোন ক্যালরী নাই, কিন্তু খাইলেই পেট ঠান্ডা।
৮. আপনি বাঙ্গালী হলে অবশ্যই রাতে ভাত না খেলে আপনার আমার মতই ঘুম হয়না। তাই কোন প্রবলেম নাই, রাতে রুটি খেতে হবেনা, ভাতই খান, ২০০-২৫০ গ্রাম ভাত আর ৩-৪-৫-৬ টা কাচা মরিচ অথবা রসুন মরিচ অথবা খুব কম তেলে ভাজা -পোড়া পোড়া -বেগুন-মরিচ বা মরিচ দিয়ে আর কি ভর্তা বানাইতে পারেন, তেল ছাড়া ,ওইটা বানাইয়া পেটকে সাপ্লাই দিবেন। দেখবেন পেট নামক শয়তান ঠান্ডা হয়ে আছে। বেশী ঝাল খেয়ে আবার ডাইরিয়া কইরেন না কিন্তু। তবে মাঝে মাঝে হইলে প্রবলেম নাই, আল সার না হইলেই হইলো। দুপুরে আর একটু কম খান ১৫০-২০০ গ্রাম।
৯. মন মতন পেট পুরে যদি খান, বেশী না, জাস্ট পেট যতটুকু চায়, ততটুকু। তাহলে অবশ্যই আপনি মোটা হয়ে যাবেন। কারণ এক দমে পেট প্রায় ২০০০-২৫০০ ক্যালরী পর্যন্ত নিতে পারে। কিচ্ছু হয়না। ২০০০ ক্যালরী খাবার পর মনে হয়, পেট ভরে খাইছি। আর ৭০০-৮০০ ক্যালরী খেলে মনে হয়, আমি কি রোযা আছি?
মনে রাখবেন, পেট আপনাকে সারাদিন মিথ্যা কথা বলে ভুলিয়ে ভালিয়ে খালি খাওয়াতে চাইবে। মনে রাখবেন ,পেট = বিবি নিয়াহু। পেটকে বিবি নিয়াহু মনে করে, তাকে মরিচ দিয়ে দিবেন। ঠান্ডা হয়ে যাবে।
১০. পেটকে বিভিন্ন ভাবে কম ক্যালরী যুক্ত খাদ্য মরিচের সাথে মিশিয়ে খাবালেই দেহে ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী হবে, এবং আপনি ভুড়ি মুক্ত হতে পারবেন।
১১. ব্যায়াম করে ক্যালরী নীড একটু বাড়াতে পারেন। তবে খুব একটা লাভ হবেনা, যদি খাওয়া কনট্রোল করতে না পারেন।
১২. ডায়েট কোলা, যেগুলো তে ক্যালরি থাকেনা, সেগুলো খেয়ে পেট ভর্তি করে রাখতে পারেন। ক্ষিধা লাগবেনা, কিন্তু শরীর খাদ্য না পেয়ে বাধ্য হয়ে চর্বি খরচ করবে। তবে এগুলা কেমিকেল, লং টাইম ভাল না।
১৩. মূল পয়েন্ট একটাই, ক্যালরি যতটুকু দরকার, তার থেকে কম খেলেই ভুড়ি কমবে। যত কম খাবেন, তত তাড়াতাড়ি কমবে। আর বেশি খেলে বাড়বে। সহজ হিসাব।
তাই যদি সত্যিই সিরিয়াস হন, তাহলে একটা ওজন মাপার মেশিন কিনুন। সব খাদ্যের তালিকা বানান, তারপর ওগুলো ওজন করে করে ক্যালরী হিসাব করে খান। কথা দিচ্ছি, মাত্র ২-৩ মাসে ৭-৮ কেজি কমানো কোন ব্যাপারই না, জাস্ট মেন্টাল একটা ডিসিশন নিতে হবে। একটু পাগলামী(!!) করতে হবে। আর কিছুনা।
চিনি-তেল-চর্বি -ভাজা পোড়া-চানাচুর-চিপস-তরকারীর ঝোল- এগুলো হয় বাদ, না হয়, খুব লিমিটেড করে দেন। আর ঝালমরিচ-মসলা-সবজি-সালাদ- এইগুলা বাড়ান, ভাত খান, বাট খুব কম খান। ব্যস, ডান। খুব সহজ। কোন ব্যাপারই না। সিম্পল, খুব সিম্পল। ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করলেই হবে।
[সংগৃহীত, সংক্ষেপিত]
মুল লেখা :M. Rezaul Karim Bhuyan
#
গতকাল আমরা বলেছিলাম ওজন কমাতে হলে ক্যালরি হিসেব করে পরিমিত পরিমানে খেতে হবে। কিন্তু কখন কতটুকু কি খেলে টার্গেট ক্যালরি পুরন হবে সেটা বলা হয়নি। আজ আমরা আমাদের সাধারণ শিক্ষিতদের ভাষায় খাবার তালিকাটা তুলে ধরব। ডাক্তারের ভাষায় নয় যদিও অবশ্যই এটা ডাক্তারদেরই প্রেসক্রাইবড বিষয়। বন্ধুরা আমাদের মনে রাখতে হবে যে এটা কুরআন হাদিসের ব্যাপার নয় যে ভায়োলেট করলে বা কমালে বাড়ালে বিদয়াত হবে।
যাহোক শেষ পর্যন্ত আমাদের ওজন কমাতে হলে মুল কাজ ক্যালরি ডেফিসিয়েট তৈরী করা। এলক্ষ্যে আমাদের দৈনন্দিন কাজে শরীরে যে ক্যালরি লাগে তার চেয়ে কম ক্যালরী নিতে হবে অথবা যে ক্যালরী নিই তার চেয়ে বেশি ক্যালরি খরচ করতে হবে। আমরা যদি কম ক্যালরি নিই এবং ব্যায়াম করে বেশি ক্যালরি খরচ করি তাহলেই সবচেয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে।
এটা অবশ্যই খেয়াল করার বিষয় যে একজন খেলোয়াড়ের জন্য যে হিসাব আর সারাদিন যে ডেস্কে বসে কাজ করে তার হিসাব এক নয়। এখানে যে ডায়েট স্টাইল দেওয়া হল তা স্বাভাবিক কর্মজীবিদের জন্য। আর ব্যায়ামের ভালো এপ্স আছে দেখে নিবেন।
টার্গেট খাদ্য উপাদান,
ক্যালরি ২০০০
শর্করা ৩০১ গ্রাম
আমিষ ৭৬ গ্রাম
চর্বি ৫১ গ্রাম
সকাল ৭- ৮ টা
১। ছোট পাতলা আটার রুটি ৪ টি অথবা আধা কাপ ভাত
২। ডিম ১ টি অথবা ঘন ডাল আধা কাপ
৩। সবজি আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা [নিচে দ্রষ্টব্য সেকশনে লিমিটেড ও আনলিমিটেড সবজির লিস্ট আছে]
সকাল ১০- ১১
১। মুড়ি ১ কাপ/ নোনতা বিস্কুট ৮ পিস/ পাউরুটি ১ টুকরা/ ছোট ১ বাটি নুডুলস
২। ফল আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা [নিচে দ্রষ্টব্য সেকশনে লিমিটেড ও আনলিমিটেড ফলের লিস্ট আছে]
দুপুর ২-৩ টা
১। ভাত ৩ কাপ
২। ২ টুকরা মাছ কিংবা ২ টুকরা মাংস
৩। ডাল ১ কাপ
৪। সবজি আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা
৫। প্রচলিত যে কোন টাইপের শাক
বিকাল ৪-৫ টা
১। মুড়ি ১ কাপ/ নোনতা বিস্কুট ৮ পিস/ পাউরুটি ১ টুকরা/ ছোট ১ বাটি নুডুলস
২। ফল আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা
রাত ৮-৯ টা
১। ভাত ২ কাপ অথবা ছোট পাতলা আটার রুটি ৪ টি
২। ২ টুকরা মাছ কিংবা ২ টুকরা মাংস
৩। ডাল ১ কাপ
৪। সবজি আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা
রাত ১০ টা
১। দুধ ১ কাপ
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
১। যেকোন এক বেলায় শাক থাকবে এবং রান্নার জন্য তেল ৩০ মিলি লিটার
২। সবজি আনলিমিটেড (অর্থাৎ অনেক পরিমানে খাওয়া যাবে)- ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, কাচা টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, মরিচ
৩। সবজি লিমিটেড (অর্থাৎ অল্প পরিমানে খেতে হবে) আলু, কুমড়া, কচু, কাচা কলা, শিম, বরবটি, গাজর, কাকরোল, কাঠালের বিচি, শালগম, ঢেরশ, বেগুন, পাকা টমেটো
৪। ফল আনলিমিটেড(অর্থাৎ অনেক পরিমানে খাওয়া যাবে)- কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, কাচা পেয়ারা, দেশী কুল মিষ্টি নয়, আমলকি
৫। ফল লিমিটেড(অর্থাৎ অল্প পরিমানে খেতে হবে)- ১টি ছোট আমের অর্ধেক, ১টি বড় পাকা পেয়ারা, ৩টি মাঝারি আকারের কাঁঠালের কোয়া, ১টি মাঝারি আকারের আপেল্ ১টি মাঝারি আকারের কমলা, পাকা পেঁপেঁ ৬০ গ্রাম, পাকা পেয়ারা ১ টা, লিচু ৬ টা, আতা ফল ১ টা, ছোট কলা ১টা, আঙ্গুর ৬ টা, খেজুর ৩ টা, আনারস ৬০ গ্রাম ইত্যাদি
ইবাদাতের নিয়তে শরীর ফিট রাখতে হবে। পেট মোটা কোন হুজুর দেখতে চাই না। মহান আল্লাহ সহজ করুক।
* S M Nahid Hasan
প্রথমত: কিভাবে বুঝবেন যে আপনি মোটা ?
১. গুগলে বি এম আই লিখে, সার্চ দিয়ে, নিজের ওজন এবং উচ্চতা দিন, বি এম আই হিসাব করার জন্য। যদি বিএমআই ২৪.৯ এর বেশী হয় তাহলে আপনি মোটা।
২. নরমাল অবস্থায় যদি আপনার বুকের মাপ কোমর থেকে ২ ইঞ্ছি বেশী না হয়, তাহলেও আপনি মোটা, যদিও বিএমই ২৪.৯ এর নীচে বা উপরে।
কিভাবে মোটা হলাম?
আপনি যদি মোটা হয়ে থাকেন, তাহলে এর মানে অবশ্যই আপনি প্রয়োজনের তুলনায় ক্যালরী অনেক বেশী খান, সেই খাওয়া শরীরে চর্বি হিসেবে জমেই আপনি মোটা হয়েছেন।
মূলত: প্রবলেম হল, মানুষের জেনেটিক্স এমনভাবে ডিজাইনড, তা যতটুকু খাবার প্রয়োজন, তার অনেক বেশী তার ক্ষুধা লাগে (প্রায় ২-৩ গুণ)। যাতে সে একবারে বেশী খেয়ে ফেলে শরীরে একটু চর্বি জমে, এবং দুর্ভিক্ষকালীন সময়ে সে কম খেয়ে চলতে পারে। যদি সে শরীরে খাবারকে চর্বি হিসেবে স্টোর করতে না পারতো, তাহলে দুর্ভিক্ষ কালীন, বা খাদ্যের অভাব যখনই হতো, তখনও সমগ্র মানব জাতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতো।
যেহেতু মডার্ন সাইন্টিফিক ডেভেলপমেন্ট এর আগে প্রতি বছর প্রায় কয়েক মাস খাদ্য সংকট চলতো, তাই মানব জাতির সুরক্ষার জন্য এমন জেনেটিকাল ডিজাইন আসলে দরকার ছিল। আল্লাহ তাই করেছেন, আল্লাহ ভাল জানেন।
মনে করেন, আপনি বাংলাদেশী, আপনার এভারেজ হাইট ৫-৭ ইঞ্ছি, পুরুষ। ওজন সত্তর কেজি । সেক্ষেত্রে আপনার প্রতিদিন প্রায় ২৪০০ ক্যালরী শক্তি দেয় - এর সমতুল্য খাদ্য দরকার। এখন মনে করেন, গড়পড়তায় আপনি দিনে প্রায় ২৮০০ ক্যালরী সমতুল্য খাদ্য খাচ্ছেন্। তাহলে আপনি দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরী বেশী খাচ্ছেন, গড়পড়তায়।
প্রতি দশ ক্যালরী = ১ গ্রাম চর্বি। তাহলে ৪০০ ক্যালরী অতিরিক্ত খাদ্য থেকে আপনার দেহে প্রতিদিন মাত্র ৪০ গ্রাম চর্বি জমা হবে। কিন্তু তাতেই মাসে ৩০*৪০ = ১২০০ গ্রাম = ১.২ কেজি ওজন বাড়বে আপনার। বছরে প্রায় ১৪.৪ কেজি বাড়বে। তবে কখনও বেশী খাচ্ছেন, কখনও একটু কম খাচ্ছেন, তাই হয়তো এত বাড়েনা। কিন্তু ৫-৬ কেজি বাড়া কিন্তু কোন ব্যাপারই না। মাত্র ৬ কেজি চর্বি যদি আপনার পেটে জমে যায়, তাহলে তা বিশাল ভুড়ি হিসেবে দেখাবে।
সমাধান?
উপায় একটাই, সেটা হল আপনার শরীরে ক্যালরী ডেফিসিট ( ক্যালরীর অভাব) ক্রিয়েট করতে হবে। তা কম খেয়ে হোক বা ব্যায়াম করে হোক। ক্যালরী ডেফিসিট ক্রিয়েট করতে পারলে, শরীর তখন চর্বি খরচ করবে, এবং আপনার দেহ থেকে চর্বি ঝরে যাবে।
মনে করেন, আপনি দিনে ২০০০ ক্যালরী করে খাওয়া একবার অভ্যাস করে ফেললেন, খুব স্ট্রিক্টলী ফলো করলেন, যে কিছুতেই ২০০০ এর বেশী খাবেন না। তাহলে দিনে প্রায় ২৪০০ - ২০০০ = ৪০০ ক্যালরী ডেফিসিট হবে। মানে দিনে ৪০০/১০ = ৪০ গ্রাম ফ্যাট ঝরবে। তাহলে মাসে ১.২ কেজি কমবে ওজন। যদি আপনি ব্যায়াম করে ২৬০০ ক্যালরী নীড তৈরী করতে পারেন, কিন্তু খাবার ঠিকই ২০০০ ক্যালরি খান, তাহলে দিনে ৬০০ ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী হবে, এবং দিনে ৬০ গ্রাম কমবেন। মাসে ৬০*৩০ = ১৮০০ গ্রাম= ১.৮ কেজি কমবেন। আপনি যেই হারে নিজেকে কমাতে চান, ঠিক সেইভাবে কমাতে পারবেন।
এখন সমস্যা হল , এত হিসাব করে কি খাওয়া যায়? আর জীমে গেলে কি হয়?
আসলে ব্যায়াম করে খুব একটা লাভ হয়না, কারণ অনেক ব্যায়াম করলেও সামান্য ক্যালরী খরচ হয়।
মনে করেন, একটা পুশ আপ মাত্র এক ক্যালরি যায়। তাহলে ১০০ পুশ আপ দিয়ে ভাবলেন অনেক ব্যায়াম করছি... নাহ। ১০০ পুশ আপ মানে মাত্র ১০০ ক্যালরী = দুই চামচ চিনি ... এতই কম খরচ হয়। ১৫ কেজি ওজন একবার তুললেন -- মাত্র ০.৭৫ ক্যালরী। ১৫ মিনিট দৌড়ালেন, মাত্র ১০০ ক্যালরী । তাই ভিগোরাস ব্যায়াম ৩-৪ ঘন্টা করলেও মাত্র ৪০০-৫০০ ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী হয়। খুব বেশী না। এরপর এমন ক্ষুধা লাগে, যে মানু ৩০০ ক্যালরী খরচ করে ১০০০ ক্যালরী খেয়ে ফেলে, তাই লাভ হয়না। মূল পয়েন্ট এটা না যে আপনি ব্যায়াম করলেন কি করলেন না, মূল পয়েন্ট হল, আপনি কত ক্যালরী খরচ করলেন, আর কত ক্যালরী ইনপুট দিলেন- সেটার অনুপাত। যত খরচ করবেন, তার থেকে কম খেতে হবে।
সুতরাং ওজন কমাতে হবে ৯০% ডায়েট দ্বারা আর ১০% যদি চান ব্যায়াম করতে পারেন। ব্যায়াম করলে ভাল, শরীর ফিট হয়, তবে চর্বি ঝরাতে হলে, মূল প্রায়োরিটি দিতে হবে 'কম খাওয়া' কে।
গুগলে সার্চ করে দেখে নিতে পারেন, যে কোন খাদ্যে কত ক্যালরী, কিন্তু এটা তো ঝামেলা, তাই সহজে মনে রাখবেন এভাবে:
সাধারণ খাদ্য:
ভাত-আলু (শর্করা জাতীয়) : ক্যালরী হল ১০০ গ্রামে ১৩০ ক্যালরী
ডাল-মাছ-মাংস (কোন চর্বি ছাড়া) : ক্যালরী হল ১০০ গ্রামে ১০০ ক্যালরী
চর্বি-তেল : ক্যালরী হল ১০০ গ্রামে ৯০০-১০০০ , চিন্তা করেন শুভংকরের ফাকিটা এখানেই। তেল বা চর্বি প্রায় ৯-১০ গুন ক্যালরি বেশী থাকে, তাই তেল চর্বি খাওয়া যদি খুব লিমিটেড করে দিতে পারেন, তাহলেই কিন্তু শরীরে ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী করে ভুড়ি কমাতে পারবেন।
চিনি: ১০০ গ্রামে ৪০০ ক্যালরী। তার মানে চিনি খেতে হবে খুব কম, খুব। জাস্ট ১ চামচ চিনি দিয়ে সকালে চা-কফি খাওয়া যায়।
চানাচুর-চিপস: এগুলো তেলের মতই, প্রতি ১০০ গ্রামে ৬০০ ক্যালরী থাকে। তার মানে দিনে মাত্র ৩০০ গ্রাম চানাচুর খেলেই সারাদিনের ক্যালরি চাহিদা শেষ। বাকি সবকিছুই বোনাস খাচ্ছেন, চর্বি হচ্ছে।
মাত্র এক চামচ তেল মাত্র ১০ গ্রাম কিন্তু ক্যালরী থাকে ১০০। তার মানে তরকারী-মাংসে একটু তেল বেশী দিলেই এক বেলাতেই ৩০০-৪০০-৫০০ ক্যালরী বেশী খাওয়া হয়ে যাচ্ছে, আমরা টেরই পাচ্ছিনা। এভাবেই মোটা হচ্ছি।
তাই শরীরে ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী করতে হলে,
১. যিনি রান্না করেন তাকে বুঝান যে তরকারী বা ঝোলে, তেল খুব কম দিতে , অথবা ঝোল-তরকারী-ডাল খাবার খুব কমিয়ে দিন। পারলে না খান। কারণ অতিরিক্ত তেল দেয়া হয়। এজন্যই বাংগালি মোটা হচ্ছে। ডিম খাবেন সিদ্ধ , মাত্র ৪০ ক্যালরি - একটা ডিম। কিন্তু তেলে ভেজে খেলে ২০০ ক্যালরী হয়ে যাবে, কারণ ডিমের সাথে মাত্র ১২-১৫ গ্রাম তেল মিশে আছে।
২. ভাত খুব কম খান, মাত্র ২০০ - ৩০০ গ্রামই যথেষ্ঠ। কিন্তু ক্ষিধা?
সমাধান সহজ। মরিচ বেশী খান, ঝাল খান। দরকার হলে লাল মরিচ- বা খুব ঝাল কাচা মরিচ। ভাত-খাওয়া কমিয়ে দিবেন, কিন্তু ঝাল মরিচ খাবার বাড়িয়ে দিবেন। ব্যস, ক্ষুধা বাপ বাপ করে পালাবে। প্রয়োজনে খুব ঝাল রসুন-মরিচ ভর্তা চালাতে পারেন, ব্যাপক কাজ দেয়। তবে তেল ঝরিয়ে।
৩. মাংস খাবার কমাতে হবে, কারণ মাংসের ফাকে ফাকে চর্বি থাকে। পিউর মাংস- যেমন মুরগী খেতে পারেন, কিন্তু ঝোল খাবেন না, বা খুব কম খাবেন ১-২ চামচ। মুরগীর চামড়া পুরাটাই চর্বি, খাওয়া যাবেনা। খেলে প্রতি ১০ গ্রামে ১০০ ক্যালরী ইনপুট হবে, সাবধান।
গরু-খাসীর মাংসে চর্বি মিশ্রিত থাকে, তাই ২-৩ -৪ টা ছোট টুকরার বেশী নয়। আর খাবার সময় বেছে বেছে চর্বিগুলো ফেলে দিবেন (গরু খাসী)।
যদি ঝোল খেতেই হয়, তাহলে শুধু মসলাটা খাবেন, তেলটা ফেলে দিবেন। ওই তেলটাই আপনাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, মানে ভুড়ি বানাচ্ছে। ভুড়ি হওয়া আর পঙ্গু হওয়া তো একই কথা, রাইট?
৪. সবজিতে ক্যালরী ১০০ গ্রামে ৩০-৪০. খুব কম তাই সবজি-সালাদ এগুলো খেয়ে পেটকে ধোঁকা দিবেন। পেটকে ভরে রাখবেন। ক্ষুধা নিবারণ করবেন সবজি দ্বারা বেশী, তেল-চর্বি দ্বারা কম।
৫. ফলে ক্যালরী অবশ্য খুব ভ্যারী করে, মিষ্টি ফলগুলোতে বেশী ১০০ গ্রামে ৩০০ , মিষ্টি ফলগুলোতে কম: ১০০ গ্রামে ৪০-৫০ , তাই ফল খেতে হলে গুগলে সার্চ দিয়ে ক্যালরী দেখে খান। তবে পেয়ারা-আমড়া-আপেল এগুলোতে কম থাকে ক্যালরী। মরিচ দিয়ে খেয়ে ক্ষুধাকে তাড়াতে পারেন।
৬. আপনি কম খাওয়া শুরু করলে, আপনার পেট সারাদিন খালি বলবে, আমি কিচ্ছু খাইনা, কেমনে বাচবো। এগুলো শয়তানের ওয়াসওয়াসা মনে করবেন। মাত্র ২ কেজি চর্বি শরীরে জমা থাকলে তা দিয়ে বিশ হাজার ক্যালরি হয়, তাই দিয়ে ৬ দিন আপনি বেচে থাকতে পারবেন, শুধু পানি খেয়ে। তাই খাওয়ার আসলে কোন দরকারই নেই। হেহে
৭. আপনার দেহের প্রায় ১৫ ভাগ ই চর্বি। মানে কোন ভুড়ি যদি নাও থাকে তাহলেও ৭০ কেজি মানুষের শরীরে দশ কেজি চর্বি থাকে। আর যদি ভুড়ি থাকে, তাহলে ভুড়ির চর্বি তার সাথে যোগ হবে। কিছু না খেয়ে শুধু পানি খেয়েই আপনি ২-৩ মাস বেচে থাকতে পারবেন, কোন প্রবলেম হবেনা। পিউর সাইন্স।
তাই পেট যখনই উচ্চ বাচ্য করবে, তখনই বুঝবেন, যে শয়তান তাকে কুরকুর করাচ্ছে, লাল বা কাচা মরিচ দিয়ে ঠান্ডা করে দিবেন। মনে রাখবেন, জাস্ট লাল মরিচ-রসুন ভর্তা খেয়েই ওজন কমানো যায়্ কারন মরিচ-রসুনে কোন তেমন কোন ক্যালরী নাই, কিন্তু খাইলেই পেট ঠান্ডা।
৮. আপনি বাঙ্গালী হলে অবশ্যই রাতে ভাত না খেলে আপনার আমার মতই ঘুম হয়না। তাই কোন প্রবলেম নাই, রাতে রুটি খেতে হবেনা, ভাতই খান, ২০০-২৫০ গ্রাম ভাত আর ৩-৪-৫-৬ টা কাচা মরিচ অথবা রসুন মরিচ অথবা খুব কম তেলে ভাজা -পোড়া পোড়া -বেগুন-মরিচ বা মরিচ দিয়ে আর কি ভর্তা বানাইতে পারেন, তেল ছাড়া ,ওইটা বানাইয়া পেটকে সাপ্লাই দিবেন। দেখবেন পেট নামক শয়তান ঠান্ডা হয়ে আছে। বেশী ঝাল খেয়ে আবার ডাইরিয়া কইরেন না কিন্তু। তবে মাঝে মাঝে হইলে প্রবলেম নাই, আল সার না হইলেই হইলো। দুপুরে আর একটু কম খান ১৫০-২০০ গ্রাম।
৯. মন মতন পেট পুরে যদি খান, বেশী না, জাস্ট পেট যতটুকু চায়, ততটুকু। তাহলে অবশ্যই আপনি মোটা হয়ে যাবেন। কারণ এক দমে পেট প্রায় ২০০০-২৫০০ ক্যালরী পর্যন্ত নিতে পারে। কিচ্ছু হয়না। ২০০০ ক্যালরী খাবার পর মনে হয়, পেট ভরে খাইছি। আর ৭০০-৮০০ ক্যালরী খেলে মনে হয়, আমি কি রোযা আছি?
মনে রাখবেন, পেট আপনাকে সারাদিন মিথ্যা কথা বলে ভুলিয়ে ভালিয়ে খালি খাওয়াতে চাইবে। মনে রাখবেন ,পেট = বিবি নিয়াহু। পেটকে বিবি নিয়াহু মনে করে, তাকে মরিচ দিয়ে দিবেন। ঠান্ডা হয়ে যাবে।
১০. পেটকে বিভিন্ন ভাবে কম ক্যালরী যুক্ত খাদ্য মরিচের সাথে মিশিয়ে খাবালেই দেহে ক্যালরী ডেফিসিট তৈরী হবে, এবং আপনি ভুড়ি মুক্ত হতে পারবেন।
১১. ব্যায়াম করে ক্যালরী নীড একটু বাড়াতে পারেন। তবে খুব একটা লাভ হবেনা, যদি খাওয়া কনট্রোল করতে না পারেন।
১২. ডায়েট কোলা, যেগুলো তে ক্যালরি থাকেনা, সেগুলো খেয়ে পেট ভর্তি করে রাখতে পারেন। ক্ষিধা লাগবেনা, কিন্তু শরীর খাদ্য না পেয়ে বাধ্য হয়ে চর্বি খরচ করবে। তবে এগুলা কেমিকেল, লং টাইম ভাল না।
১৩. মূল পয়েন্ট একটাই, ক্যালরি যতটুকু দরকার, তার থেকে কম খেলেই ভুড়ি কমবে। যত কম খাবেন, তত তাড়াতাড়ি কমবে। আর বেশি খেলে বাড়বে। সহজ হিসাব।
তাই যদি সত্যিই সিরিয়াস হন, তাহলে একটা ওজন মাপার মেশিন কিনুন। সব খাদ্যের তালিকা বানান, তারপর ওগুলো ওজন করে করে ক্যালরী হিসাব করে খান। কথা দিচ্ছি, মাত্র ২-৩ মাসে ৭-৮ কেজি কমানো কোন ব্যাপারই না, জাস্ট মেন্টাল একটা ডিসিশন নিতে হবে। একটু পাগলামী(!!) করতে হবে। আর কিছুনা।
চিনি-তেল-চর্বি -ভাজা পোড়া-চানাচুর-চিপস-তরকারীর ঝোল- এগুলো হয় বাদ, না হয়, খুব লিমিটেড করে দেন। আর ঝালমরিচ-মসলা-সবজি-সালাদ- এইগুলা বাড়ান, ভাত খান, বাট খুব কম খান। ব্যস, ডান। খুব সহজ। কোন ব্যাপারই না। সিম্পল, খুব সিম্পল। ইনশাআল্লাহ, চেষ্টা করলেই হবে।
[সংগৃহীত, সংক্ষেপিত]
মুল লেখা :M. Rezaul Karim Bhuyan
#
গতকাল আমরা বলেছিলাম ওজন কমাতে হলে ক্যালরি হিসেব করে পরিমিত পরিমানে খেতে হবে। কিন্তু কখন কতটুকু কি খেলে টার্গেট ক্যালরি পুরন হবে সেটা বলা হয়নি। আজ আমরা আমাদের সাধারণ শিক্ষিতদের ভাষায় খাবার তালিকাটা তুলে ধরব। ডাক্তারের ভাষায় নয় যদিও অবশ্যই এটা ডাক্তারদেরই প্রেসক্রাইবড বিষয়। বন্ধুরা আমাদের মনে রাখতে হবে যে এটা কুরআন হাদিসের ব্যাপার নয় যে ভায়োলেট করলে বা কমালে বাড়ালে বিদয়াত হবে।
যাহোক শেষ পর্যন্ত আমাদের ওজন কমাতে হলে মুল কাজ ক্যালরি ডেফিসিয়েট তৈরী করা। এলক্ষ্যে আমাদের দৈনন্দিন কাজে শরীরে যে ক্যালরি লাগে তার চেয়ে কম ক্যালরী নিতে হবে অথবা যে ক্যালরী নিই তার চেয়ে বেশি ক্যালরি খরচ করতে হবে। আমরা যদি কম ক্যালরি নিই এবং ব্যায়াম করে বেশি ক্যালরি খরচ করি তাহলেই সবচেয়ে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে।
এটা অবশ্যই খেয়াল করার বিষয় যে একজন খেলোয়াড়ের জন্য যে হিসাব আর সারাদিন যে ডেস্কে বসে কাজ করে তার হিসাব এক নয়। এখানে যে ডায়েট স্টাইল দেওয়া হল তা স্বাভাবিক কর্মজীবিদের জন্য। আর ব্যায়ামের ভালো এপ্স আছে দেখে নিবেন।
টার্গেট খাদ্য উপাদান,
ক্যালরি ২০০০
শর্করা ৩০১ গ্রাম
আমিষ ৭৬ গ্রাম
চর্বি ৫১ গ্রাম
সকাল ৭- ৮ টা
১। ছোট পাতলা আটার রুটি ৪ টি অথবা আধা কাপ ভাত
২। ডিম ১ টি অথবা ঘন ডাল আধা কাপ
৩। সবজি আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা [নিচে দ্রষ্টব্য সেকশনে লিমিটেড ও আনলিমিটেড সবজির লিস্ট আছে]
সকাল ১০- ১১
১। মুড়ি ১ কাপ/ নোনতা বিস্কুট ৮ পিস/ পাউরুটি ১ টুকরা/ ছোট ১ বাটি নুডুলস
২। ফল আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা [নিচে দ্রষ্টব্য সেকশনে লিমিটেড ও আনলিমিটেড ফলের লিস্ট আছে]
দুপুর ২-৩ টা
১। ভাত ৩ কাপ
২। ২ টুকরা মাছ কিংবা ২ টুকরা মাংস
৩। ডাল ১ কাপ
৪। সবজি আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা
৫। প্রচলিত যে কোন টাইপের শাক
বিকাল ৪-৫ টা
১। মুড়ি ১ কাপ/ নোনতা বিস্কুট ৮ পিস/ পাউরুটি ১ টুকরা/ ছোট ১ বাটি নুডুলস
২। ফল আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা
রাত ৮-৯ টা
১। ভাত ২ কাপ অথবা ছোট পাতলা আটার রুটি ৪ টি
২। ২ টুকরা মাছ কিংবা ২ টুকরা মাংস
৩। ডাল ১ কাপ
৪। সবজি আনলিমিটেড অথবা লিমিটেড যেকোন একটা
রাত ১০ টা
১। দুধ ১ কাপ
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
১। যেকোন এক বেলায় শাক থাকবে এবং রান্নার জন্য তেল ৩০ মিলি লিটার
২। সবজি আনলিমিটেড (অর্থাৎ অনেক পরিমানে খাওয়া যাবে)- ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, ওলকপি, কাচা টমেটো, কাঁচা পেঁপেঁ, শশা, খিরা, উচ্ছে, করলা, ঝিঙা, ধুন্ধল, চাল কুমড়া, ডাঁটা, লাউ, সজনে, মরিচ
৩। সবজি লিমিটেড (অর্থাৎ অল্প পরিমানে খেতে হবে) আলু, কুমড়া, কচু, কাচা কলা, শিম, বরবটি, গাজর, কাকরোল, কাঠালের বিচি, শালগম, ঢেরশ, বেগুন, পাকা টমেটো
৪। ফল আনলিমিটেড(অর্থাৎ অনেক পরিমানে খাওয়া যাবে)- কালো জাম, লেবু, আমড়া, বাতাবি লেবু, কামরাঙ্গা, বাঙ্গি, জামরুল, কাচা পেয়ারা, দেশী কুল মিষ্টি নয়, আমলকি
৫। ফল লিমিটেড(অর্থাৎ অল্প পরিমানে খেতে হবে)- ১টি ছোট আমের অর্ধেক, ১টি বড় পাকা পেয়ারা, ৩টি মাঝারি আকারের কাঁঠালের কোয়া, ১টি মাঝারি আকারের আপেল্ ১টি মাঝারি আকারের কমলা, পাকা পেঁপেঁ ৬০ গ্রাম, পাকা পেয়ারা ১ টা, লিচু ৬ টা, আতা ফল ১ টা, ছোট কলা ১টা, আঙ্গুর ৬ টা, খেজুর ৩ টা, আনারস ৬০ গ্রাম ইত্যাদি
ইবাদাতের নিয়তে শরীর ফিট রাখতে হবে। পেট মোটা কোন হুজুর দেখতে চাই না। মহান আল্লাহ সহজ করুক।
* S M Nahid Hasan
Sunday, April 29, 2018
আপনি আপনার স্ত্রীকে সম্মান করলে তিনিও আপনাকে সম্মান করবেন।
সম্মান এমন একটা জিনিস যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মানুষকে দিয়েছেন। তিনি বনী আদমকে সম্মানিত করে সৃষ্টি করেছেন।
আপনি মানুষকে সম্মান করবেন, মানুষ আপনাকে সম্মান করবে।
পরিবারের ভেতরেও এই নিয়ম খাটে - স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা।
স্বামী-স্ত্রীর সংসার সুখের হওয়ার জন্য খুব জরুরি হচ্ছে সম্মানবোধ রাখা।
ধরুন আপনার স্ত্রী এমন কোনো চাকরি করেন না যে তাতে তার মাসিক একটা আয় হয়।
কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষের একটা হাত খরচ আছে - আপনার স্ত্রীর যা দরকার - তার সব কিনে দিলেও আছে।
হতে পারে তার রাস্তা থেকে আচার কিনে খেতে ইচ্ছা করছে। অথবা একটা ফকিরকে দশটা টাকা দান করতে ইচ্ছে হচ্ছে।
এ জন্য তো সে আর আপনাকে বলতে পারে না, 'দশটা টাকা দিও।'
চাওয়া ব্যাপারটার মধ্যেই আত্মসম্মানহানীর আবেশ আছে। আর প্রতিনিয়ত চাওয়া তো আরো গ্লানিকর।
একটা মেয়ে - যে অনেক পড়াশোনা করার পরেও আপনাদের সংসার দেখার দায়িত্ব নিয়েছে, সন্তানদের প্রতিপালনের কাজ করছে - তার কাছে মনে হতেই পারে; যদি সে এগুলো না করে চাকরি করত তাহলে আপনার কাছে ছোট হতে হতো না।
ভাইয়েরা, সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার ঘরে থাকা স্ত্রীকে প্রতিমাসে কিছু টাকা হাত খরচের জন্য দেন।
যদি আপনার মা, বোন আপনার ওপর নির্ভরশীল হয়, তাদেরকেও দেন।
সম্মান করে দেন। এমনভাবে দেবেন না যে তাকে অনুগ্রহ করছেন।
খাওয়া-পরা-তেল-সাবান ইত্যাদি নিত্য ব্যবহার্য জিনিস আর সম্মান এক নয়।
আপনি আপনার স্ত্রীকে সম্মান করলে তিনিও আপনাকে সম্মান করবেন। আপনার সংসার সুখের হবে।
* Sharif Abu Hayat Opu
আপনি মানুষকে সম্মান করবেন, মানুষ আপনাকে সম্মান করবে।
পরিবারের ভেতরেও এই নিয়ম খাটে - স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা।
স্বামী-স্ত্রীর সংসার সুখের হওয়ার জন্য খুব জরুরি হচ্ছে সম্মানবোধ রাখা।
ধরুন আপনার স্ত্রী এমন কোনো চাকরি করেন না যে তাতে তার মাসিক একটা আয় হয়।
কিন্তু প্রত্যেকটা মানুষের একটা হাত খরচ আছে - আপনার স্ত্রীর যা দরকার - তার সব কিনে দিলেও আছে।
হতে পারে তার রাস্তা থেকে আচার কিনে খেতে ইচ্ছা করছে। অথবা একটা ফকিরকে দশটা টাকা দান করতে ইচ্ছে হচ্ছে।
এ জন্য তো সে আর আপনাকে বলতে পারে না, 'দশটা টাকা দিও।'
চাওয়া ব্যাপারটার মধ্যেই আত্মসম্মানহানীর আবেশ আছে। আর প্রতিনিয়ত চাওয়া তো আরো গ্লানিকর।
একটা মেয়ে - যে অনেক পড়াশোনা করার পরেও আপনাদের সংসার দেখার দায়িত্ব নিয়েছে, সন্তানদের প্রতিপালনের কাজ করছে - তার কাছে মনে হতেই পারে; যদি সে এগুলো না করে চাকরি করত তাহলে আপনার কাছে ছোট হতে হতো না।
ভাইয়েরা, সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার ঘরে থাকা স্ত্রীকে প্রতিমাসে কিছু টাকা হাত খরচের জন্য দেন।
যদি আপনার মা, বোন আপনার ওপর নির্ভরশীল হয়, তাদেরকেও দেন।
সম্মান করে দেন। এমনভাবে দেবেন না যে তাকে অনুগ্রহ করছেন।
খাওয়া-পরা-তেল-সাবান ইত্যাদি নিত্য ব্যবহার্য জিনিস আর সম্মান এক নয়।
আপনি আপনার স্ত্রীকে সম্মান করলে তিনিও আপনাকে সম্মান করবেন। আপনার সংসার সুখের হবে।
* Sharif Abu Hayat Opu
Wednesday, March 7, 2018
যে জিনিস খেলে গ্যাস্টিক সমস্যা সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যাবে !
যে জিনিস খেলে গ্যাস্টিক সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যাবে !
-মেথি
মুফতি কাজী ইব্রাহীম
https://www.facebook.com/SumonChowdhury11/videos/503805456683241/
-মেথি
মুফতি কাজী ইব্রাহীম
https://www.facebook.com/SumonChowdhury11/videos/503805456683241/
Labels:
Islamic Medicin,
ইসলামী চিকিৎসা,
গ্যাস্টিক সমস্যা,
চিকিৎসা
Tuesday, March 6, 2018
অবিবাহিত জুনিয়রদের বলছি
একজন ভালো স্ত্রীর অন্যতম ভালো গুন হলো দ্বীনদার স্বামীর দ্বীনি ভাইদের রান্না করে খাওয়ানোর মানসিকতা। বিবাহের আগে আকার ইংজ্ঞিতে হলেও ব্যাপারটা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করবে। দায়ীদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আল্লাহ কবুল করুক।
...............
উস্তাদ S M Nahid Hasan
আল্লাহ কবুল করুক।
...............
উস্তাদ S M Nahid Hasan
Labels:
Happy Married Life,
Islam,
Marriage,
Married Life,
বিবাহ,
বিয়ে
Friday, February 2, 2018
যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে বলব ভাবছি তা সর্বসমক্ষে বলা লজ্জার
একটা মোটা দাগের কৌতুকে পড়েছিলাম ক্রিকেটে থাই গার্ডের ব্যবহার শুরুর প্রায় ১০০ বছর পর হেলমেট ব্যবহার শুরু হয়।
কৌতুকটা ছিল পুরুষ মানুষদের নিয়ে - তারা কোনটাকে গুরুত্ব দেয় এটা নিয়ে একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক ইশারা ছিল।
যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে বলব ভাবছি তা সর্বসমক্ষে বলা লজ্জার, কিন্তু কিছু ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লজ্জার সীমানায় এসে হলেও মানুষকে কিছু শিক্ষা দিয়েছেন।*
উমার রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্বামীকে ছাড়া তার স্ত্রী কয়দিন থাকতে পারে। উত্তর শুনেছিলেন চার মাস। এরপর তিনি নিয়ম করে দিয়েছিলেন, মুসলিম মুজাহিদদের চার মাসের বেশি জিহাদের ময়দানে রাখা যাবে না।
উমার পুরুষদের জিজ্ঞেস করেননি। আমাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতাম, একজন পুরুষ তার স্ত্রী ছাড়া চার দিনের বেশি ভালো থাকতে পারে না।
আমি যে একটা বছর অ্যামেরিকায় ছিলাম স্ত্রীকে রেখে, কীভাবে ছিলাম সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।
স্ত্রীকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে না কেন? কারণ, আল্লাহ পুরুষকে সেভাবে বানিয়েছেন। চাহিদা দিয়ে, কামনা দিয়ে।
আমাদের সমাজের স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যতটা ব্যস্ত, মনের ক্ষুধা এবং দৈহিক ক্ষুধা মেটানোর জন্য ততটাই অতৎপর।
অন্তত, আমার কাছে আসা ইনবক্সে ভাইদের অনুযোগে তাই মনে হয়।
মনের ক্ষুধা সংসারের আলাপে মেটে না। ডাল শেষ, তেল লাগবে - এগুলো সম্পর্কের উন্নতি করে না।
মনের ক্ষুধা মেটে যখন কোনো পুরুষ যে ব্যাপারে আগ্রহী সে ব্যাপারে তার সাথে আলাপ করলে। আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। বিজ্ঞানের নতুন একটা আবিষ্কার নিয়ে আমার সাথে আমার স্ত্রী কথা বললে আমার ভালো লাগে।
আমার স্ত্রীর বিজ্ঞান ভালো না লাগলে?
বোনেরা, কিছু একটা খুঁজে বের করুন যেটাতে আপনার আর আপনার স্বামীর কমন আগ্রহ আছে।
আর থাকল দেহের ক্ষুধা।
এই ক্ষুধা সত্য। পেটের ক্ষুধার মতই সত্য। যদিও পেটের ক্ষুধার কথা কেউ বলতে বা শুনতে লজ্জা পায় না, কিন্তু এই ক্ষুধাকে পায়।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশে বেশ্যালয় আছে। কেন?
বেশ্যালয়ে বিবাহিত পুরুষরাও যায়। কেন?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা চারটা পর্যন্ত বিয়ের বিধান দিয়েছেন এর একটা কারণ পুরুষদের দৈহিক ক্ষুধা অনেক বেশি আগ্রাসী।
এবং অধিকাংশ বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীকে তার চাহিদার কথা বলতে লজ্জা পায়। প্রতিনিয়ত বলা তো আরো মুশকিল।
এই অবদমিত চাহিদার হালাল বহির্প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হলে পুরুষেরা ছোটে পর্নের দিকে। এখন মোবাইলে বিছানায় শুয়েও সারা দুনিয়ার নোংরামি ঘুরে আসা যায়।
স্ত্রী তার মতো ঘুমে আছেন, স্বামী পাপাচারে মগ্ন।
পরকীয়া, ধর্ষণ - এই বিকৃত কামাচারের পেছনে হালাল স্ত্রীসঙ্গ দুর্লভ হওয়াটা একটা বড় কারণ।
স্ত্রী বুঝতে পারেন না স্বামী কেন রেগে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন না, সংসারে অশান্তি। এই দম্পতিকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করে দেখেন।
আমি পুরুষদের সবর করতে না পেরে পাপে জড়ানোকে জাস্টিফাই করছি না। একজন পুরুষ হিসেবে আসলে পুরুষেরা কী চিন্তা করে, তাদের কী চাহিদা - সেটা বোনদের সামনে তুলে ধরলাম, লজ্জার মাথা খেয়েই।
সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।
রমণী শব্দের উৎস বিশ্লেষণে যাব না, তবে বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখবেন। কথাটা সত্য।
আমাকে গালমন্দ করতে পারেন - তবে আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।
-Sharif Abu Hayat Opu
কৌতুকটা ছিল পুরুষ মানুষদের নিয়ে - তারা কোনটাকে গুরুত্ব দেয় এটা নিয়ে একটা প্রাপ্তবয়ষ্ক ইশারা ছিল।
যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে বলব ভাবছি তা সর্বসমক্ষে বলা লজ্জার, কিন্তু কিছু ব্যাপারে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লজ্জার সীমানায় এসে হলেও মানুষকে কিছু শিক্ষা দিয়েছেন।*
উমার রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, স্বামীকে ছাড়া তার স্ত্রী কয়দিন থাকতে পারে। উত্তর শুনেছিলেন চার মাস। এরপর তিনি নিয়ম করে দিয়েছিলেন, মুসলিম মুজাহিদদের চার মাসের বেশি জিহাদের ময়দানে রাখা যাবে না।
উমার পুরুষদের জিজ্ঞেস করেননি। আমাকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিতাম, একজন পুরুষ তার স্ত্রী ছাড়া চার দিনের বেশি ভালো থাকতে পারে না।
আমি যে একটা বছর অ্যামেরিকায় ছিলাম স্ত্রীকে রেখে, কীভাবে ছিলাম সেটা আল্লাহ ভালো জানেন।
স্ত্রীকে ছাড়া ভালো থাকতে পারে না কেন? কারণ, আল্লাহ পুরুষকে সেভাবে বানিয়েছেন। চাহিদা দিয়ে, কামনা দিয়ে।
আমাদের সমাজের স্ত্রীরা তাদের স্বামীদের পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য যতটা ব্যস্ত, মনের ক্ষুধা এবং দৈহিক ক্ষুধা মেটানোর জন্য ততটাই অতৎপর।
অন্তত, আমার কাছে আসা ইনবক্সে ভাইদের অনুযোগে তাই মনে হয়।
মনের ক্ষুধা সংসারের আলাপে মেটে না। ডাল শেষ, তেল লাগবে - এগুলো সম্পর্কের উন্নতি করে না।
মনের ক্ষুধা মেটে যখন কোনো পুরুষ যে ব্যাপারে আগ্রহী সে ব্যাপারে তার সাথে আলাপ করলে। আমি বিজ্ঞান ভালোবাসি। বিজ্ঞানের নতুন একটা আবিষ্কার নিয়ে আমার সাথে আমার স্ত্রী কথা বললে আমার ভালো লাগে।
আমার স্ত্রীর বিজ্ঞান ভালো না লাগলে?
বোনেরা, কিছু একটা খুঁজে বের করুন যেটাতে আপনার আর আপনার স্বামীর কমন আগ্রহ আছে।
আর থাকল দেহের ক্ষুধা।
এই ক্ষুধা সত্য। পেটের ক্ষুধার মতই সত্য। যদিও পেটের ক্ষুধার কথা কেউ বলতে বা শুনতে লজ্জা পায় না, কিন্তু এই ক্ষুধাকে পায়।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটা দেশে বেশ্যালয় আছে। কেন?
বেশ্যালয়ে বিবাহিত পুরুষরাও যায়। কেন?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা চারটা পর্যন্ত বিয়ের বিধান দিয়েছেন এর একটা কারণ পুরুষদের দৈহিক ক্ষুধা অনেক বেশি আগ্রাসী।
এবং অধিকাংশ বিবাহিত পুরুষ তার স্ত্রীকে তার চাহিদার কথা বলতে লজ্জা পায়। প্রতিনিয়ত বলা তো আরো মুশকিল।
এই অবদমিত চাহিদার হালাল বহির্প্রকাশ বাধাপ্রাপ্ত হলে পুরুষেরা ছোটে পর্নের দিকে। এখন মোবাইলে বিছানায় শুয়েও সারা দুনিয়ার নোংরামি ঘুরে আসা যায়।
স্ত্রী তার মতো ঘুমে আছেন, স্বামী পাপাচারে মগ্ন।
পরকীয়া, ধর্ষণ - এই বিকৃত কামাচারের পেছনে হালাল স্ত্রীসঙ্গ দুর্লভ হওয়াটা একটা বড় কারণ।
স্ত্রী বুঝতে পারেন না স্বামী কেন রেগে থাকেন। তিনি বুঝতে পারেন না, সংসারে অশান্তি। এই দম্পতিকে তাদের শারীরিক সম্পর্কের কথা জিজ্ঞেস করে দেখেন।
আমি পুরুষদের সবর করতে না পেরে পাপে জড়ানোকে জাস্টিফাই করছি না। একজন পুরুষ হিসেবে আসলে পুরুষেরা কী চিন্তা করে, তাদের কী চাহিদা - সেটা বোনদের সামনে তুলে ধরলাম, লজ্জার মাথা খেয়েই।
সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে।
রমণী শব্দের উৎস বিশ্লেষণে যাব না, তবে বোনেরা একটু চিন্তা করে দেখবেন। কথাটা সত্য।
আমাকে গালমন্দ করতে পারেন - তবে আপনাদের ভালোর জন্যই বলছি।
-Sharif Abu Hayat Opu
Monday, December 4, 2017
পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাত্র সহীহ আকীদা পালন করে কি না কিভাবে বুঝা যাবে
প্রশ্ন: বিয়ের জন্য পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে পাত্র সহীহ আকীদা পালন করে কি না এটা কিভাবে বুঝা যাবে?
===========================
কোন ব্যক্তি সহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তি কিনা তা বুঝা যাবে আকীদা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে।
আপনি নিজে যখন সহীহ আকীদার মূল বিষয়গুলো জানতে পারবেন বা যে ব্যক্তি জানে সে যখন তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলবে, তখন তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
তবে বাহ্যিকভাবে সহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে চেনা যাবে-
✳ যখন দেখবেন সে সহীহ আকীদা সম্পন্ন আলেমদেরকে ভালবাসে, তাদের সাথে সম্পর্ক রাখে, তাদের বক্তব্য শুনে বা তাদের লিখিত বই-পুস্তক অধ্যয়ের পাশাপাশি সেগুলো আমল করার চেষ্টা করে।
✳ যখন দেখবে সে সহীহ হাদীসে বর্ণিত পদ্ধতিতে সালাত আদায় করে।
✳ যখন দেখবেন কোন ব্যক্তি শিরক, বিদয়াত, করব-মাযার ভক্তি, তাবিজ,-কবজ ইত্যাদি থেকে দুরে থাকে । সেই সাথে বিদআতী বক্তা, লিখুন ইত্যাদি থেকে দুরে থাকে।
✳ যখন দেখবেন সে সুন্নতকে সম্মান করে, আর বিদআতকে ঘৃণা করে।
✳ যখন দেখবেন, সে তার সমস্ত আমল দলীল নির্ভর হয়েছে কি না তা জানার জন্য উদ্গ্রীব থাকে।
এভাবে বাহ্যিকভাবে একজন সহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে চেনা যাবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দাম্পত্য জীবন তৈরী করে দিন এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে যারা কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে দাম্পত্য জীবনকে সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে দেয়ার পাশাপাশি আখিরাতের নাজাতের জন্য চেষ্টা করে। আমীন।
-উত্তর দিয়েছেন শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী
===========================
কোন ব্যক্তি সহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তি কিনা তা বুঝা যাবে আকীদা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তার সাথে আলোচনার মাধ্যমে।
আপনি নিজে যখন সহীহ আকীদার মূল বিষয়গুলো জানতে পারবেন বা যে ব্যক্তি জানে সে যখন তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলবে, তখন তার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে যাবে।
তবে বাহ্যিকভাবে সহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে চেনা যাবে-
✳ যখন দেখবেন সে সহীহ আকীদা সম্পন্ন আলেমদেরকে ভালবাসে, তাদের সাথে সম্পর্ক রাখে, তাদের বক্তব্য শুনে বা তাদের লিখিত বই-পুস্তক অধ্যয়ের পাশাপাশি সেগুলো আমল করার চেষ্টা করে।
✳ যখন দেখবে সে সহীহ হাদীসে বর্ণিত পদ্ধতিতে সালাত আদায় করে।
✳ যখন দেখবেন কোন ব্যক্তি শিরক, বিদয়াত, করব-মাযার ভক্তি, তাবিজ,-কবজ ইত্যাদি থেকে দুরে থাকে । সেই সাথে বিদআতী বক্তা, লিখুন ইত্যাদি থেকে দুরে থাকে।
✳ যখন দেখবেন সে সুন্নতকে সম্মান করে, আর বিদআতকে ঘৃণা করে।
✳ যখন দেখবেন, সে তার সমস্ত আমল দলীল নির্ভর হয়েছে কি না তা জানার জন্য উদ্গ্রীব থাকে।
এভাবে বাহ্যিকভাবে একজন সহীহ আকীদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে চেনা যাবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের দাম্পত্য জীবন তৈরী করে দিন এমন ব্যক্তিদের মাধ্যমে যারা কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে দাম্পত্য জীবনকে সুখ-সমৃদ্ধিতে ভরে দেয়ার পাশাপাশি আখিরাতের নাজাতের জন্য চেষ্টা করে। আমীন।
-উত্তর দিয়েছেন শাইখ আব্দুল্লাহিল হাদী
Wednesday, November 1, 2017
কয়েকটি আমল যা আখিরাতের জন্য খুবই ভালো পুজি হবে ইনশা আল্লাহ।
বৈধ আয় রোজগারের সাথে কয়েকটি আমল যদি আপনি কন্টিনিউ করতে পারেন তাহলে সেটা আখিরাতের জন্য খুবই ভালো পুজি হবে ইনশা আল্লাহ।
১) ফজরের ওয়াক্তের ২০ মিনিট আগে উঠে দুই রাকাত নফল। এশার সাথেই বিতর পড়বেন এতে ওই সময় চাপ থাকবে না। এরপর কিছু খেয়ে ফজর জামাত পর্যন্ত কিছু কুরান পড়বেন। হাফেজি কুরানের অন্তত দুই পাতা।
২) ফজর পড়ে বিশ্রাম এরপর অফিস/কলেজ। অফিস/ কলেজে যাওয়ার সময় সকালের জিকির আজকার। এর মধ্যে কয়েকটা বেশ ফজিলতের সাজেস্ট করছি, কতবার এটা হিসনুল মুসলিম থেকে দেখে নিবেন,
* আল্লাহুম্মা মা আসবাহা বি মিন নিমাতিন....
* আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি.....
* ইয়া হায়্যু ইয়া কয়্যুম বি রহ্মাতিকা আস্তাগিছু....
* আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা... *বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদ্ররু মাস্মিহি শাইয়ুন...
* হাসবি আল্লাহু...
* রদিতু বিল্লাহি রব্বান...
* সুবাহানাল্লাহি অবিহামদিহি আদাদা খালকিহি...
* সুবাহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি....
* আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা....
* আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাহি...
* আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি.....
* ইয়া হায়্যু ইয়া কয়্যুম বি রহ্মাতিকা আস্তাগিছু....
* আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা... *বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদ্ররু মাস্মিহি শাইয়ুন...
* হাসবি আল্লাহু...
* রদিতু বিল্লাহি রব্বান...
* সুবাহানাল্লাহি অবিহামদিহি আদাদা খালকিহি...
* সুবাহানাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি....
* আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা....
* আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাহি...
৩) লাঞ্চ ব্রেকে এক পাতা কুরান
৪) অফিস থেকে ফেরার সময় বিকালে/ সন্ধ্যায় আবার আজকারগুলো
৫) বাসায় ফিরে ইসলামিক জ্ঞানার্জনের জন্য নির্ধারিত বই।
৬) এশার পর ২ পাতা কুরান
৭) নামাজগুলো ধীরে ধীরে, সময় নিয়ে রিলাক্স শরীরে হাত পা ছেড়ে দিয়ে ফুরফুরে মেজাজে পড়বেন। রুকু সিজদায় গিয়েই তাসবীহ শুরু করবেন না। বা শেষ করেই মাথা তুলবেন না। একটু সময় নিন। সব মুভমেন্টেই ধীরে। মুখ চালাবেনও ধীরে। তাড়াহুড়া করে আর কতটুকু সময়ই বা বাচাতে পারবেন!
৮) মাসিক আয়ের শতকরা ৫ ভাগ অন্তত সাদাকাহ করবেন নিয়মিত। মা বাবাকে নিয়মিত অর্থ দিলে সাদাকাহ শতকরা ২ বা ৩ ভাগ দেবেন। প্রতিমাসেই এটা করবেন।
৯) মিথ্যা কথা আর গিবত করবেন না
১০) নারী পুরুষ পর্দা মেন্টেইন করবেন। ভুল হয়ে গেলে সাথে সাথে তাওবা করবেন।
১১) মাসে অন্তত তিনদিন নফল সিয়াম পালন করবেন।
১২) সকল ক্ষেত্রে মাসনুন দোয়া পাঠ করবেন।
১৩) দুই সপ্তাহে অন্তত একবার খুব দ্বীনদার এমন কারও সাথে দেখা করতে যাবেন। কারন আমলকারীকে দেখলে যত বেশি আমলের ইচ্ছা তৈরী হয় বই পড়ে তত বেশি হয় না।
রসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, আমালে আগে বাড়ো ঘন কালো রাত্রির টুকরার মত ফিতনা আবির্ভাবের পুর্বে......
আল্লাহ সহজ করুক। আমীন।
*Source: কুরআনীয় আরবী শিক্ষা পেইজ
Wednesday, March 29, 2017
Watch KSA TV channel to learn Arabic Online
http://www.squidtv.net/middle-east/saudi-arabia/
http://www.tvspice.com/
# Al Thaqafiya (Al Thaqafia) is a cultural TV channel that is run by SBC.
https://www.youtube.com/user/SaudiCulturalTv/featured
# ***Rotana Khalejia:
https://www.youtube.com/khalejiatv
# Ajyal is an educational and entertainment television channel targeting children between 7 and 15 years of age.
http://www.ajyaltv.sa/live-feed
https://www.youtube.com/user/SaudiAjyalTv
# Al Ekhbariya (Al Ekhbaria / Saudi News Channel) is a news channel that is run by Saudi Broadcasting Corporation (SBC), organized under the Ministry of Culture and Information. News videos are also available on YouTube.
https://www.youtube.com/user/SaudiNewsTV
# # And more link below:
https://www.youtube.com/user/aljazeerachannel
good channel:
https://www.youtube.com/channel/UCahpxixMCwoANAftn6IxkTg
https://www.youtube.com/user/SaudiChannel2
https://www.youtube.com/user/SaudiChannelOne
good channel:
https://www.youtube.com/channel/UC1LsVb-mYJrWG5PdL1J3gFA
good channel:
https://www.youtube.com/user/SaudiCulturalTv
https://www.youtube.com/user/thepathtoallah
# Arabic lectures with english subtitle- Al Alifi lecture(more effective):
https://www.youtube.com/results?q=Al+Arifi+lecture
https://www.youtube.com/watch?v=NWkCSMHFMQ0
https://www.youtube.com/channel/UCiRoOjiumHC3Ft9JdaYo9bA
https://www.youtube.com/watch?v=Dj2OZkfscjE
https://www.youtube.com/results?search_query=Sheikh+Muhammad+Al+Arifi+%28Bangla+Sub%29
https://www.youtube.com/watch?v=mKRBYw8aY3g
https://www.youtube.com/user/ViciousBeats16
http://www.tvspice.com/
# Al Thaqafiya (Al Thaqafia) is a cultural TV channel that is run by SBC.
https://www.youtube.com/user/SaudiCulturalTv/featured
# ***Rotana Khalejia:
https://www.youtube.com/khalejiatv
# Ajyal is an educational and entertainment television channel targeting children between 7 and 15 years of age.
http://www.ajyaltv.sa/live-feed
https://www.youtube.com/user/SaudiAjyalTv
# Al Ekhbariya (Al Ekhbaria / Saudi News Channel) is a news channel that is run by Saudi Broadcasting Corporation (SBC), organized under the Ministry of Culture and Information. News videos are also available on YouTube.
https://www.youtube.com/user/SaudiNewsTV
# # And more link below:
https://www.youtube.com/user/aljazeerachannel
good channel:
https://www.youtube.com/channel/UCahpxixMCwoANAftn6IxkTg
https://www.youtube.com/user/SaudiChannel2
https://www.youtube.com/user/SaudiChannelOne
good channel:
https://www.youtube.com/channel/UC1LsVb-mYJrWG5PdL1J3gFA
good channel:
https://www.youtube.com/user/SaudiCulturalTv
https://www.youtube.com/user/thepathtoallah
# Arabic lectures with english subtitle- Al Alifi lecture(more effective):
https://www.youtube.com/results?q=Al+Arifi+lecture
https://www.youtube.com/watch?v=NWkCSMHFMQ0
https://www.youtube.com/channel/UCiRoOjiumHC3Ft9JdaYo9bA
https://www.youtube.com/watch?v=Dj2OZkfscjE
https://www.youtube.com/results?search_query=Sheikh+Muhammad+Al+Arifi+%28Bangla+Sub%29
https://www.youtube.com/watch?v=mKRBYw8aY3g
https://www.youtube.com/user/ViciousBeats16
Monday, March 6, 2017
ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর এর রিয়াদ আগমন উপলক্ষ্যে সৌজন্য সমাবেশের অমূল্য বক্তব্য
বাংলাদেশের স্বনামধন্য আলেমে দ্বীন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার
শিক্ষক ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সৌদি আরবের রাজধানী
রিয়াদ আগমন উপলক্ষ্য আল ইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কিং সউদ
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্রদের উদ্যোগে দুইটি সৌজন্য সমাবেশের
আয়োজন করা হয়।
গত ০২ নভেম্বর রোজ শনিবার আল ইমামইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি সমাবেশঅনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে আলইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের বাংলাদেশী ছাত্রগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের বাংলাদেশী শিক্ষক জনাব সমীর ভৌমিক ও কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক জনাব মহসিন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ০৪ নভেম্বর ২০১৩,রোজ সোমবার কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশী ছাত্র সমিতির উদ্যোগে আরোএকটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, কিংসউদে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায়রত ৬ জন বাংলাদেশী শিক্ষক ও বাংলাদেশী ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল্লাহ তারীফ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশমূলক বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য ড. জাহাঙ্গীর রিয়াদের আলইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (অনার্স) থেকে শুরু করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর তিনি রিয়াদে প্রবাসী ছিলেন। তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন এর সারাংশ নীচে তুলে ধরা হলো।
পরাজিত মানসিকতা পরিহার করঃ
তিনি তাঁর জীবন থেকে উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা যখন এখানে পড়তে আসি তখন আমাদের সাথে যে বন্ধুবান্ধব ছিলেন তাঁরা অনেকেই হীনমন্যতায় ভুগতেন। অনেকেই ভাবতেন, এই পড়াশুনা করে কী হবে? দেশে ফিরে গেলে সনদের কোন মূল্যায়ন পাওয়া যাবে না, চাকরি পাওয়া যাবে না।এই হীনমন্যতা থেকে তারা পড়াশুনায় মনোযোগী হতে পারতেন না। তাদের অনেকে জীবনে সফল হতে পারেননি। আমাদের দেশে যারা মাদ্রাসায় পড়েন বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সাবজেক্ট নিয়ে পড়েন তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা কুরআন-হাদিসের পড়াশুনাকে নাক ছিটকান। স্যার, এগুলো পড়ে কি হবে? বিসিএসে কোন কাজে আসবে না। ইসলাম সকল জ্ঞান অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। সকল জ্ঞানই ভাল। সব পেশার মানুষের মুসলমানদের কল্যাণ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু যাদের কাছে কুরআন-হাদিসের জ্ঞান রয়েছে তারা মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ করার সুযোগ পায়। কুরআন-হাদিসের জ্ঞান হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আল্লাহ যাকে এই জ্ঞান অর্জন করার কিছু সুযোগ দান করেছেন সে যখন এই জ্ঞানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, হেয় করে তখন আল্লাহ সে ব্যক্তিকে চরমভাবে লাঞ্চিত করেন, অপমানিত করেন। আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপমা দিয়েছেন কুকুরের সাথে। وَاتْلُعَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آَتَيْنَاهُ آَيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَافَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ (175) وَلَوْ شِئْنَالَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُفَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُيَلْهَثْঅর্থ- “আর তুমি তাদের কাছে সে ব্যক্তির সংবাদ পাঠ কর, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তার পেছনে লেগেছিল। ফলে সে বিপদগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর আমি ইচ্ছা করলে উক্ত নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে তাকে অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা দিতাম, কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং নিজপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- কুকুরের মত। যদি তার উপর বোঝা চাপিয়ে দাও তাহলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে অথবা যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে।” [সূরা আল আরাফ, আয়াত ১৭৫-১৭৬] বরঞ্চ তোমার ভবিষ্যতকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও। আল্লাহর উপর নির্ভর কর। তিনি তাঁর জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে বলেন আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে যে যা হতে চেয়েছেন আল্লাহ তার জন্য সে ব্যবস্থা করেদিয়েছেন। আল্লাহ কাউকে ঠকাননি। যে সৌদি আরবে থেকে যেতে চেয়েছেন, তার সৌদি আরবে চাকরী হয়ে গেছে। যে ব্যবসা করতে চেয়েছেন আল্লাহ তার ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যে দেশে ফিরে দাওয়াত ও ইলমের সেবা করতে চেয়েছেন আল্লাহ সে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং দুনিয়ার শান-শওকত ও ধনদৌলতেও কম দেননি। সে জন্য নিয়্যতকে পরিশুদ্ধ কর। আল্লাহর জন্য ইলম হাছিল কর।
ভাষা শিখার উপর গুরুত্ব দেয়াঃ
আরবীভাষা শিখার উপর খুব গুরুত্ব দাও। আমাদের দেশের আলেমদের বড় সমস্যা তাঁরা ভাল আরবী জানেন না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন: মুসনাদে আহমাদে একখানা হাদিস আছে- أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم عَادَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন অসুস্থ আনসারীকে দেখতে গেলেন)। আমাদের দেশের একজন স্বনামধন্য আলেম এর অনুবাদ করেছেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এক আনসারীর কাছে ফেরত গেলেন। অর্থাৎ عَادَ শব্দটি আলাদা দুটো শব্দমূল থেকে এলে যে আলাদা দুইটি অর্থ প্রকাশ করে তা তিনি পার্থক্য করতে পারেননি। অন্য এক আলেম একবার বলেন যে, আল্লাহ যে মানুষের অন্তরে হুলুল (আবির্ভুত) হন তাতো কুরআনেও আছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন وَاعْلَمُواأَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন এই আয়াতে يَحُولُশব্দটি আবির্ভুত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ আয়াতের অর্থ হচ্ছে- “নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন।”[সূরা আল আনফাল, আয়াত ২৪] এইআলেম حَلَّ يَحُلُّ حُلُوْلاً (আবির্ভুত হওয়া) ও حَالَ يَحُوْلُ حَوْلاً (অন্তরায় হওয়া) এ দুটোর মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেননি। তাই উভয়টাকে একই অর্থবোধক ভেবেছেন। এ ধরনের অনেক উদাহরণ পেশ করা যায়। সে জন্য তোমাদেরকে ভাল আরবী শিখতে হবে। বিদেশী ছাত্রদের সাথে উঠাবসা করতে হবে। আরবীতে কথাবার্তা বলতে হবে। যেন আরবী বলার যোগ্যতাও অর্জিত হয়।
মাতৃভাষা বাংলা শেখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। وَمَاأَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ (অর্থ- আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তার কওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি।) সব ধরনের বই পড়তে হবে। রবীন্দ্রনাথ,বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় সব পড়তে হবে। কোন কিছু বাদ রাখা যাবে না। আমাদের দেশের আলেমদের বড় সমস্যা হলো তাঁরা বাংলা ভাষা জানেন না। বর্তমানে আলেমগণ কিছু লেখালেখি করলেও বাংলা সাহিত্যের উপর কোন আলেম বই লিখেছেন এমন পাওয়া যাবে না। কিছু আরবী,কিছু উর্দু, কিছু ফার্সি মিশিয়ে কথা বললে বা লিখলে সেটা মানুষের বোধগম্য হয় না। এমন ভাষায় বলতে হবে, লিখতে হবে যেন একজন বাংলাভাষী যিনি জীবনে কোনদিন ধর্মীয় আলোচনা শুনেননি তিনিও যেন বুঝতে পারেন। অনুবাদ করতে এমনভাবে যাতে পাঠক বুঝতেই না পারে এটা আরবী ছিল। আরবীটাকে বুঝে নিয়ে সম্পূর্ণ বাংলার আঙ্গিকে এটাকে রূপান্তরিত করতে হবে।
বর্তমানে ইংরেজী আমাদের ভাষারই একটা অংশ। ইংরেজী না শেখে কোন গত্যন্তর নেই। তাই তোমাদেরকে ইংরেজী জানতে হবে। ইংরেজী শেখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ইলম অনুযায়ী আমল ও দাওয়াতি কাজ করাঃ
যা তুমি শিখেছ সেটা আমল কর। যে হাদিস শুনেছ সেটা একবার হলেও আমল কর। তুমি যদি আমল কর তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য ইলমের দরজা খুলে দিবেন। যারা আল্লাহকে পেতে চায় আল্লাহ তাদের জন্য পথকে সহজ করে দেন। নিয়তকে পরিশুদ্ধ কর। তোমাদেরকে আমার ঘটনা বলি আমাদের সময়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ছিল কোন বিদেশী ছাত্র অনার্স পাস করার পর তাকে অবশ্যই দেশে ফেরত যেতে হবে। মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ সে পাবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমার জন্য মাস্টার্সের ব্যবস্থা এমনভাবে করে দিলেন যা আমি কল্পনাও করতে পারি নাই। আমি সুপারিশের জন্য যেসব শিক্ষকদের বলে রেখেছিলাম তারা আমাকে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের সময় তাদের কাউকে পেলাম না। আমাদের ডীন ছিলেন এমন একজন সাধাসিদে মানুষ যিনি কারো উপকারও করতে পারতেন না;ক্ষতিও করতে না। তাই তাকে কিছুই বলিনি। কিন্তু এই মানুষটি একজন বিদেশী ছাত্রের মাস্টার্সে চাঞ্চ পাওয়ার মতো দুর্সাধ্য কাজটি করলেন। তখন আমাকে একজন সৌদি বললেন, খন্দকার তোমার নিয়্যত পরিশুদ্ধ ছিল সেজন্য তোমার চাঞ্চ হয়েছে। আসলে আমার নিয়্যত পরিশুদ্ধ ছিল সেটা নয়। কিন্তু তাঁরা নিয়্যতের পরিশুদ্ধতাকে সফলতার মাপকাঠি বিবেচনা করেন।
যা অর্জন করেছ সেটা প্রচার কর। মানুষকে ভালবেসে, প্রেম দিয়ে দাওয়াত দিতে হবে। হয়তো তুমি এমন কোথাও দাওয়াত দিতে গিয়েছ যারা অতি সাধারণ মানুষ। যারা সভ্যতা, ভদ্রতা খুব একটা জানে না। হয়তো এমন কোন আচরণ করল যা তোমার ভাল লাগেনি। আসলেই অভদ্র আচরণ। তুমি যদি সে ভাইকে তুচ্ছ না করে এভাবে চিন্তা কর, আলহামদু লিল্লাহ! আল্লাহ আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন, আমাকে এমন গর্হিত কাজ থেকে বিরত রেখেছেন এটি আমার প্রতি আল্লাহর দয়া, তাঁর মেহেরবাণী। তাহলে তোমার মধ্যে অহংকার আসবে না। গুনাহগারকে হেয় করো না। তা করলে তুমি দাওয়াতি কাজে সফল হতে পারবে না। সুযোগ পেলেই দাওয়াতি কাজে বেরিয়ে পড়বে। পড়াশুনা শেষ করে তারপর দাওয়াতি কাজ শুরু করব -এমনটি নয়। বরং লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে যখনই সুযোগ পাবে তখনই দাওয়াতি কাজ করবে। ছুটিতে দেশে ফিরলে দাওয়াতি কাজ করতে পার। প্রবাসে যেসব ভাইয়েরা থাকেন তাদের ভিলাতে গিয়ে দাওয়াতি কাজ করতে পার। সাংগঠনিকভাবে দাওয়াতি কাজ করতে পারলে অনেক ভাল; সেটা না পারলে ব্যক্তিগতভাবেও করতে পার।
আলেমরাই অমরঃ
সফল কে?সফলতা কী? দুনিয়ার শান-শওকত, জৌলুশ এটাই কী সফলতার মাপকাঠি। আমাদের সমাজ যে মানুষগুলোর শান-শওকত, ধনধৌলত ও ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ, অনুরক্ত সে লোকগুলোই যখন কোন আমলদার আলেমের সামনে হাজির হন তখন কেন যেন দুর্বল হয়ে পড়েন। তার সব দম্ভ অহংকার বিলীন হয়ে যায়। কী অশান্তির মধ্যে তারা দিনাতিপাত করছে সেটা আলেমদের কাছে প্রকাশ করে। সেজন্য শান্তি হচ্ছে- আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। অমর হচ্ছেন- আলেমগণ। দেখ ইমাম নববী কতদিন তিনি বেঁচেছেন; মাত্র ৪০ বছর। এই সময়ে তিনি যে কীর্তি রেখে গেছেন সেজন্য গোটা উম্মাহ তাঁকে স্মরণ করে, তাঁর জন্য দোয়া করে, তাঁর নামের বলার পর "আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন" উচ্চারণ করে। এমন কোন মুসলিম পাওয়া যাবে না যিনি ইমাম নববীর নাম শুনেননি। তাঁর বই পড়েননি। সুতরাং তুমি যদি অমরত্ব চাও তাহলে আলেম হও। একজন সাধারণ আলেম মারা গেলেও মানুষ ৫০/৬০ বছর এমনিতেই তাঁর নামের শেষে রহিমাহুল্লাহ পড়ে।
সময়কে কাজে লাগাওঃ
সময়কে কাজে লাগাও। প্রতিটি ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড হিসেব করে ব্যয় কর। প্রচুর লেখাপড়া কর। আমাদের সময় আমি লাইব্রেরীতে পড়ে থাকতাম। লাইব্রেরী ছিল আমাদের হোস্টেল থেকে অনেকদূরে। সেখানে পৌঁছতে অনেক কষ্ট হত। রাতদিন লাইব্রেরীতে পড়ে থাকতাম। এমন কোন বই হয়তো বাদ ছিল না যেটা উল্টেপাল্টে দেখিনি। এতে করে কেউ কোন বই খুঁজতে এলে আমি বলে দিতে পারতাম অমুক বইটি অমুক স্থানে আছে। সেজন্য সময়কে কাজে লাগাও। আল্লাহ তোমাদেরকে তাওফিক দিন।
গত ০২ নভেম্বর রোজ শনিবার আল ইমামইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি সমাবেশঅনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে আলইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের বাংলাদেশী ছাত্রগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের বাংলাদেশী শিক্ষক জনাব সমীর ভৌমিক ও কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক জনাব মহসিন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ০৪ নভেম্বর ২০১৩,রোজ সোমবার কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশী ছাত্র সমিতির উদ্যোগে আরোএকটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, কিংসউদে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায়রত ৬ জন বাংলাদেশী শিক্ষক ও বাংলাদেশী ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ নূরুল্লাহ তারীফ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশমূলক বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য ড. জাহাঙ্গীর রিয়াদের আলইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (অনার্স) থেকে শুরু করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর তিনি রিয়াদে প্রবাসী ছিলেন। তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন এর সারাংশ নীচে তুলে ধরা হলো।
পরাজিত মানসিকতা পরিহার করঃ
তিনি তাঁর জীবন থেকে উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা যখন এখানে পড়তে আসি তখন আমাদের সাথে যে বন্ধুবান্ধব ছিলেন তাঁরা অনেকেই হীনমন্যতায় ভুগতেন। অনেকেই ভাবতেন, এই পড়াশুনা করে কী হবে? দেশে ফিরে গেলে সনদের কোন মূল্যায়ন পাওয়া যাবে না, চাকরি পাওয়া যাবে না।এই হীনমন্যতা থেকে তারা পড়াশুনায় মনোযোগী হতে পারতেন না। তাদের অনেকে জীবনে সফল হতে পারেননি। আমাদের দেশে যারা মাদ্রাসায় পড়েন বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সাবজেক্ট নিয়ে পড়েন তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা কুরআন-হাদিসের পড়াশুনাকে নাক ছিটকান। স্যার, এগুলো পড়ে কি হবে? বিসিএসে কোন কাজে আসবে না। ইসলাম সকল জ্ঞান অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। সকল জ্ঞানই ভাল। সব পেশার মানুষের মুসলমানদের কল্যাণ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু যাদের কাছে কুরআন-হাদিসের জ্ঞান রয়েছে তারা মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ করার সুযোগ পায়। কুরআন-হাদিসের জ্ঞান হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আল্লাহ যাকে এই জ্ঞান অর্জন করার কিছু সুযোগ দান করেছেন সে যখন এই জ্ঞানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, হেয় করে তখন আল্লাহ সে ব্যক্তিকে চরমভাবে লাঞ্চিত করেন, অপমানিত করেন। আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপমা দিয়েছেন কুকুরের সাথে। وَاتْلُعَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آَتَيْنَاهُ آَيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَافَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ (175) وَلَوْ شِئْنَالَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُفَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُيَلْهَثْঅর্থ- “আর তুমি তাদের কাছে সে ব্যক্তির সংবাদ পাঠ কর, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তার পেছনে লেগেছিল। ফলে সে বিপদগামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর আমি ইচ্ছা করলে উক্ত নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে তাকে অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা দিতাম, কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং নিজপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- কুকুরের মত। যদি তার উপর বোঝা চাপিয়ে দাও তাহলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে অথবা যদি তাকে ছেড়ে দাও তাহলেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে।” [সূরা আল আরাফ, আয়াত ১৭৫-১৭৬] বরঞ্চ তোমার ভবিষ্যতকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও। আল্লাহর উপর নির্ভর কর। তিনি তাঁর জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে বলেন আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে যে যা হতে চেয়েছেন আল্লাহ তার জন্য সে ব্যবস্থা করেদিয়েছেন। আল্লাহ কাউকে ঠকাননি। যে সৌদি আরবে থেকে যেতে চেয়েছেন, তার সৌদি আরবে চাকরী হয়ে গেছে। যে ব্যবসা করতে চেয়েছেন আল্লাহ তার ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যে দেশে ফিরে দাওয়াত ও ইলমের সেবা করতে চেয়েছেন আল্লাহ সে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং দুনিয়ার শান-শওকত ও ধনদৌলতেও কম দেননি। সে জন্য নিয়্যতকে পরিশুদ্ধ কর। আল্লাহর জন্য ইলম হাছিল কর।
ভাষা শিখার উপর গুরুত্ব দেয়াঃ
আরবীভাষা শিখার উপর খুব গুরুত্ব দাও। আমাদের দেশের আলেমদের বড় সমস্যা তাঁরা ভাল আরবী জানেন না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন: মুসনাদে আহমাদে একখানা হাদিস আছে- أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم عَادَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন অসুস্থ আনসারীকে দেখতে গেলেন)। আমাদের দেশের একজন স্বনামধন্য আলেম এর অনুবাদ করেছেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম এক আনসারীর কাছে ফেরত গেলেন। অর্থাৎ عَادَ শব্দটি আলাদা দুটো শব্দমূল থেকে এলে যে আলাদা দুইটি অর্থ প্রকাশ করে তা তিনি পার্থক্য করতে পারেননি। অন্য এক আলেম একবার বলেন যে, আল্লাহ যে মানুষের অন্তরে হুলুল (আবির্ভুত) হন তাতো কুরআনেও আছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন وَاعْلَمُواأَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন এই আয়াতে يَحُولُশব্দটি আবির্ভুত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ আয়াতের অর্থ হচ্ছে- “নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন।”[সূরা আল আনফাল, আয়াত ২৪] এইআলেম حَلَّ يَحُلُّ حُلُوْلاً (আবির্ভুত হওয়া) ও حَالَ يَحُوْلُ حَوْلاً (অন্তরায় হওয়া) এ দুটোর মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারেননি। তাই উভয়টাকে একই অর্থবোধক ভেবেছেন। এ ধরনের অনেক উদাহরণ পেশ করা যায়। সে জন্য তোমাদেরকে ভাল আরবী শিখতে হবে। বিদেশী ছাত্রদের সাথে উঠাবসা করতে হবে। আরবীতে কথাবার্তা বলতে হবে। যেন আরবী বলার যোগ্যতাও অর্জিত হয়।
মাতৃভাষা বাংলা শেখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। وَمَاأَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ (অর্থ- আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তার কওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি।) সব ধরনের বই পড়তে হবে। রবীন্দ্রনাথ,বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় সব পড়তে হবে। কোন কিছু বাদ রাখা যাবে না। আমাদের দেশের আলেমদের বড় সমস্যা হলো তাঁরা বাংলা ভাষা জানেন না। বর্তমানে আলেমগণ কিছু লেখালেখি করলেও বাংলা সাহিত্যের উপর কোন আলেম বই লিখেছেন এমন পাওয়া যাবে না। কিছু আরবী,কিছু উর্দু, কিছু ফার্সি মিশিয়ে কথা বললে বা লিখলে সেটা মানুষের বোধগম্য হয় না। এমন ভাষায় বলতে হবে, লিখতে হবে যেন একজন বাংলাভাষী যিনি জীবনে কোনদিন ধর্মীয় আলোচনা শুনেননি তিনিও যেন বুঝতে পারেন। অনুবাদ করতে এমনভাবে যাতে পাঠক বুঝতেই না পারে এটা আরবী ছিল। আরবীটাকে বুঝে নিয়ে সম্পূর্ণ বাংলার আঙ্গিকে এটাকে রূপান্তরিত করতে হবে।
বর্তমানে ইংরেজী আমাদের ভাষারই একটা অংশ। ইংরেজী না শেখে কোন গত্যন্তর নেই। তাই তোমাদেরকে ইংরেজী জানতে হবে। ইংরেজী শেখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ইলম অনুযায়ী আমল ও দাওয়াতি কাজ করাঃ
যা তুমি শিখেছ সেটা আমল কর। যে হাদিস শুনেছ সেটা একবার হলেও আমল কর। তুমি যদি আমল কর তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য ইলমের দরজা খুলে দিবেন। যারা আল্লাহকে পেতে চায় আল্লাহ তাদের জন্য পথকে সহজ করে দেন। নিয়তকে পরিশুদ্ধ কর। তোমাদেরকে আমার ঘটনা বলি আমাদের সময়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ছিল কোন বিদেশী ছাত্র অনার্স পাস করার পর তাকে অবশ্যই দেশে ফেরত যেতে হবে। মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ সে পাবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমার জন্য মাস্টার্সের ব্যবস্থা এমনভাবে করে দিলেন যা আমি কল্পনাও করতে পারি নাই। আমি সুপারিশের জন্য যেসব শিক্ষকদের বলে রেখেছিলাম তারা আমাকে আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের সময় তাদের কাউকে পেলাম না। আমাদের ডীন ছিলেন এমন একজন সাধাসিদে মানুষ যিনি কারো উপকারও করতে পারতেন না;ক্ষতিও করতে না। তাই তাকে কিছুই বলিনি। কিন্তু এই মানুষটি একজন বিদেশী ছাত্রের মাস্টার্সে চাঞ্চ পাওয়ার মতো দুর্সাধ্য কাজটি করলেন। তখন আমাকে একজন সৌদি বললেন, খন্দকার তোমার নিয়্যত পরিশুদ্ধ ছিল সেজন্য তোমার চাঞ্চ হয়েছে। আসলে আমার নিয়্যত পরিশুদ্ধ ছিল সেটা নয়। কিন্তু তাঁরা নিয়্যতের পরিশুদ্ধতাকে সফলতার মাপকাঠি বিবেচনা করেন।
যা অর্জন করেছ সেটা প্রচার কর। মানুষকে ভালবেসে, প্রেম দিয়ে দাওয়াত দিতে হবে। হয়তো তুমি এমন কোথাও দাওয়াত দিতে গিয়েছ যারা অতি সাধারণ মানুষ। যারা সভ্যতা, ভদ্রতা খুব একটা জানে না। হয়তো এমন কোন আচরণ করল যা তোমার ভাল লাগেনি। আসলেই অভদ্র আচরণ। তুমি যদি সে ভাইকে তুচ্ছ না করে এভাবে চিন্তা কর, আলহামদু লিল্লাহ! আল্লাহ আমাকে জ্ঞান দিয়েছেন, আমাকে এমন গর্হিত কাজ থেকে বিরত রেখেছেন এটি আমার প্রতি আল্লাহর দয়া, তাঁর মেহেরবাণী। তাহলে তোমার মধ্যে অহংকার আসবে না। গুনাহগারকে হেয় করো না। তা করলে তুমি দাওয়াতি কাজে সফল হতে পারবে না। সুযোগ পেলেই দাওয়াতি কাজে বেরিয়ে পড়বে। পড়াশুনা শেষ করে তারপর দাওয়াতি কাজ শুরু করব -এমনটি নয়। বরং লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে যখনই সুযোগ পাবে তখনই দাওয়াতি কাজ করবে। ছুটিতে দেশে ফিরলে দাওয়াতি কাজ করতে পার। প্রবাসে যেসব ভাইয়েরা থাকেন তাদের ভিলাতে গিয়ে দাওয়াতি কাজ করতে পার। সাংগঠনিকভাবে দাওয়াতি কাজ করতে পারলে অনেক ভাল; সেটা না পারলে ব্যক্তিগতভাবেও করতে পার।
আলেমরাই অমরঃ
সফল কে?সফলতা কী? দুনিয়ার শান-শওকত, জৌলুশ এটাই কী সফলতার মাপকাঠি। আমাদের সমাজ যে মানুষগুলোর শান-শওকত, ধনধৌলত ও ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ, অনুরক্ত সে লোকগুলোই যখন কোন আমলদার আলেমের সামনে হাজির হন তখন কেন যেন দুর্বল হয়ে পড়েন। তার সব দম্ভ অহংকার বিলীন হয়ে যায়। কী অশান্তির মধ্যে তারা দিনাতিপাত করছে সেটা আলেমদের কাছে প্রকাশ করে। সেজন্য শান্তি হচ্ছে- আল্লাহকে ভয় করার মধ্যে। অমর হচ্ছেন- আলেমগণ। দেখ ইমাম নববী কতদিন তিনি বেঁচেছেন; মাত্র ৪০ বছর। এই সময়ে তিনি যে কীর্তি রেখে গেছেন সেজন্য গোটা উম্মাহ তাঁকে স্মরণ করে, তাঁর জন্য দোয়া করে, তাঁর নামের বলার পর "আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন" উচ্চারণ করে। এমন কোন মুসলিম পাওয়া যাবে না যিনি ইমাম নববীর নাম শুনেননি। তাঁর বই পড়েননি। সুতরাং তুমি যদি অমরত্ব চাও তাহলে আলেম হও। একজন সাধারণ আলেম মারা গেলেও মানুষ ৫০/৬০ বছর এমনিতেই তাঁর নামের শেষে রহিমাহুল্লাহ পড়ে।
সময়কে কাজে লাগাওঃ
সময়কে কাজে লাগাও। প্রতিটি ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড হিসেব করে ব্যয় কর। প্রচুর লেখাপড়া কর। আমাদের সময় আমি লাইব্রেরীতে পড়ে থাকতাম। লাইব্রেরী ছিল আমাদের হোস্টেল থেকে অনেকদূরে। সেখানে পৌঁছতে অনেক কষ্ট হত। রাতদিন লাইব্রেরীতে পড়ে থাকতাম। এমন কোন বই হয়তো বাদ ছিল না যেটা উল্টেপাল্টে দেখিনি। এতে করে কেউ কোন বই খুঁজতে এলে আমি বলে দিতে পারতাম অমুক বইটি অমুক স্থানে আছে। সেজন্য সময়কে কাজে লাগাও। আল্লাহ তোমাদেরকে তাওফিক দিন।
Wednesday, February 22, 2017
ইসলামী অর্থনীতি ও ফাইন্যন্স কোর্স
লেনদেন ও ব্যবসা, চাকরী শরীয়াহ মেনে করার জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক কোর্স
IEFC ফেসবুক পেইজ লিংকঃ
https://www.facebook.com/iefcbd
IEFC ফেসবুক পেইজ লিংকঃ
https://www.facebook.com/iefcbd
Sunday, November 6, 2016
Learning Arabic Steps
Learning Arabic consists of three steps:
1) Learning basic language skills (can take 1-3 years depending on student)
2) Studying Arabic as a science (can take 2-4 years depending on student)
3) Intensive Academic expertise/research (Lifetime)
For the first step, the entire step consists of one word: Practice. Practice, Practice, Practice your reading, listening, speaking and writing skills as much and as often as you can to get to to fluency. It can take 2-3 years to obtain full fluency (or more) don't despair. The key is consistency in practice, even if its only 1/2 hour everyday (although more is better).
Important books for this are:
- the Bayna Yadayk series (preferably with a teacher who can give you speaking and writing practice).
- My personal favorite for self study: a book called "Learning Arabic through the Islamic texts" by Syed Iqbal Zaheer.
- Qasas-ul-Nabiyin lil-Atfal for reading practice
- Suwarun min Hayatis-Sahabah for reading after Qasas.
- Other things you can use for practice include Arabic Youtube (Arabic cartoons etc)
- al-Nahw al-Wadih
Do not cross over to the next stage until you have achieved at least 80% or so fluency. Ask around for additional resources for practice.
2) Studying Arabic as a science – this should be done with a teacher
If you are a natural at languages, any teacher who has studied these texts will suffice, otherwise a teacher skilled and fluent in these sciences is highly preferred (doesn’t have to be a specialist in the Arabic language though, some scholars of fiqh and hadith can also teach language very well).
There are 4 sciences - Nahw (grammar), Sarf (morphology), Balagha (prose/rhetoric/style) and Adab (literature).
The most important books are:
In Nahw:
- al-Ajrumiyyah (with a lot of basic I’rab practice)
- Qatr-ul-Nada (With I’rab practice from the Qur’an)
- Qawa’id ul-I’rab (with I’rab practice from the Qur’an)
Alfiyyatuibnu Malik (With I’rab practice from the poem that forms the text of the book).
- Mughni al-Labib
In Sarf:
- Imam al-Taftazani’s explanation of Tasrif ul-Izzi – (with some basic practice in I’lal and Ibdal)
- Lamiyyatul-Af’al – I prefer the sharh of the author’s son for the student – although the teacher can use others to reference from.
- Alfiyyatuibnu Malik (with a lot more practice in I’lal/Ibdal etc)
- Taysir-ul-I’lal wal Ibdal – can be studied on one’s own after the alfiyyah – excellent book for practice.
In Balaghah:
- Durus-ul-Balaghah – an easy, comprehensive introduction
- Al-Balaghatul-Wadihah – Important to learn Balaghah on a practical level.
- Sharh Mukhtasar Sa’d (or Mukhtasar-ul-Ma'ani) – Very important text to study, will really make the connection for you between logic and balaghah, as well as opening up advanced balagah texts for you.
In Adab:
- Any text in Urud/Qawafi with a teacher.
- Sharh Mu’allaqat al-Sab’ or Ashr
- Selected study from al-Mutanabbi
- Maqamat Al-Hariri – extremely important for building vocabulary
- Al-Umdah - a comprehensive text on the sciences of poetry. I forgot the author but I think his nasab was al-Qazwini.
3) Intensive Academic expertise/research – a specialist in the Arabic language will know way more than I do
In Nahw –
- Other explanations of the Alfiyyah such as Imam al-Ushmuni’s, Abu Hayyan, al-Shatibi, Ibn-Aqil
- Explanations of Imam ibn Malik’s Tashil – Abu Hayyan’s is a famous one and his students rebuttal is not bad either.
- Imam al-Zamaskhari’s works (and their explanations)
- Kafiyatu-ibn-il-Hajib and its famous explanation.
- Kitab-al-Sibawayh if you’re feeling adventurous.
In Sarf-
- Shafiyyatu-ibn-il-Hajib and it’s explanation.
- Al-Munsif
- Al-Mumti by ibn Usfur.
- Al-Mustaqsa by Dr AbdulLatif alKhatib
In Balaghah-
- Abdul-Qadir al-Jurjanis books
- Mahmood Shakir’s books
- Muhammad Abu Musa’s books – I wonder if anyone has tried to teach from these instead of classical texts?
- Tafsir Al-Zamaskhari
- Tafsir ibn Ashur
In Adab (better to ask a specialist)
- Maqamat al-Hariri (yes again)
- Imam al-Jahidh’s books especially Al-Bayan wa al-Tabyin
- Al-Kamil by Imam al Mubarrid.
- Al-Khasa'is of Ibn al-Jinni
- As for poetry then refer to the link below in the comments
This list seems dauntingly long, but the question you need to ask yourself as an Arabic learner is:
Why do I want to learn Arabic?
If you want to become a scholar, the whole list applies. If you don't then the length of the list varies depends on what you want to achieve.
For those who want only a basic grasp of the Qur'an in Arabic so they can read small tafsirs on their own, or to engage in Modern Arab culture, then the first stage will suffice.
Written by brother Samir Hussain
In first Stage Madinah Arabic series by Dr. V. Abdur Rahim is highly recommended it will help you to reach till second level in sha Allah.
May Allah increase us in knowledge ameen yaa Rabbal aa'lamin.
1) Learning basic language skills (can take 1-3 years depending on student)
2) Studying Arabic as a science (can take 2-4 years depending on student)
3) Intensive Academic expertise/research (Lifetime)
For the first step, the entire step consists of one word: Practice. Practice, Practice, Practice your reading, listening, speaking and writing skills as much and as often as you can to get to to fluency. It can take 2-3 years to obtain full fluency (or more) don't despair. The key is consistency in practice, even if its only 1/2 hour everyday (although more is better).
Important books for this are:
- the Bayna Yadayk series (preferably with a teacher who can give you speaking and writing practice).
- My personal favorite for self study: a book called "Learning Arabic through the Islamic texts" by Syed Iqbal Zaheer.
- Qasas-ul-Nabiyin lil-Atfal for reading practice
- Suwarun min Hayatis-Sahabah for reading after Qasas.
- Other things you can use for practice include Arabic Youtube (Arabic cartoons etc)
- al-Nahw al-Wadih
Do not cross over to the next stage until you have achieved at least 80% or so fluency. Ask around for additional resources for practice.
2) Studying Arabic as a science – this should be done with a teacher
If you are a natural at languages, any teacher who has studied these texts will suffice, otherwise a teacher skilled and fluent in these sciences is highly preferred (doesn’t have to be a specialist in the Arabic language though, some scholars of fiqh and hadith can also teach language very well).
There are 4 sciences - Nahw (grammar), Sarf (morphology), Balagha (prose/rhetoric/style) and Adab (literature).
The most important books are:
In Nahw:
- al-Ajrumiyyah (with a lot of basic I’rab practice)
- Qatr-ul-Nada (With I’rab practice from the Qur’an)
- Qawa’id ul-I’rab (with I’rab practice from the Qur’an)
Alfiyyatuibnu Malik (With I’rab practice from the poem that forms the text of the book).
- Mughni al-Labib
In Sarf:
- Imam al-Taftazani’s explanation of Tasrif ul-Izzi – (with some basic practice in I’lal and Ibdal)
- Lamiyyatul-Af’al – I prefer the sharh of the author’s son for the student – although the teacher can use others to reference from.
- Alfiyyatuibnu Malik (with a lot more practice in I’lal/Ibdal etc)
- Taysir-ul-I’lal wal Ibdal – can be studied on one’s own after the alfiyyah – excellent book for practice.
In Balaghah:
- Durus-ul-Balaghah – an easy, comprehensive introduction
- Al-Balaghatul-Wadihah – Important to learn Balaghah on a practical level.
- Sharh Mukhtasar Sa’d (or Mukhtasar-ul-Ma'ani) – Very important text to study, will really make the connection for you between logic and balaghah, as well as opening up advanced balagah texts for you.
In Adab:
- Any text in Urud/Qawafi with a teacher.
- Sharh Mu’allaqat al-Sab’ or Ashr
- Selected study from al-Mutanabbi
- Maqamat Al-Hariri – extremely important for building vocabulary
- Al-Umdah - a comprehensive text on the sciences of poetry. I forgot the author but I think his nasab was al-Qazwini.
3) Intensive Academic expertise/research – a specialist in the Arabic language will know way more than I do
In Nahw –
- Other explanations of the Alfiyyah such as Imam al-Ushmuni’s, Abu Hayyan, al-Shatibi, Ibn-Aqil
- Explanations of Imam ibn Malik’s Tashil – Abu Hayyan’s is a famous one and his students rebuttal is not bad either.
- Imam al-Zamaskhari’s works (and their explanations)
- Kafiyatu-ibn-il-Hajib and its famous explanation.
- Kitab-al-Sibawayh if you’re feeling adventurous.
In Sarf-
- Shafiyyatu-ibn-il-Hajib and it’s explanation.
- Al-Munsif
- Al-Mumti by ibn Usfur.
- Al-Mustaqsa by Dr AbdulLatif alKhatib
In Balaghah-
- Abdul-Qadir al-Jurjanis books
- Mahmood Shakir’s books
- Muhammad Abu Musa’s books – I wonder if anyone has tried to teach from these instead of classical texts?
- Tafsir Al-Zamaskhari
- Tafsir ibn Ashur
In Adab (better to ask a specialist)
- Maqamat al-Hariri (yes again)
- Imam al-Jahidh’s books especially Al-Bayan wa al-Tabyin
- Al-Kamil by Imam al Mubarrid.
- Al-Khasa'is of Ibn al-Jinni
- As for poetry then refer to the link below in the comments
This list seems dauntingly long, but the question you need to ask yourself as an Arabic learner is:
Why do I want to learn Arabic?
If you want to become a scholar, the whole list applies. If you don't then the length of the list varies depends on what you want to achieve.
For those who want only a basic grasp of the Qur'an in Arabic so they can read small tafsirs on their own, or to engage in Modern Arab culture, then the first stage will suffice.
Written by brother Samir Hussain
In first Stage Madinah Arabic series by Dr. V. Abdur Rahim is highly recommended it will help you to reach till second level in sha Allah.
May Allah increase us in knowledge ameen yaa Rabbal aa'lamin.
Tuesday, November 1, 2016
যারা আরবী শিখতে চান অথবা বাচ্চাদের শেখাতে চান, তাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে কিছু ভিডিও
যারা আরবী শিখতে চান অথবা বাচ্চাদের শেখাতে চান, তাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে
আমি কিছু ভিডিও শেয়ার করব, ভিডিওগুলো ডাউনলোড করে বার বার শুনুন, দেখবেন
আরবী শেখা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে..
---------
যেসব বাচ্চারা ঘরে টম জেরি দেখে তাদেরকে এই কার্টুন দেখাতে পারেন এতে যেমন তারা ইসলামী মূল্যবোধ শেখবে তেমন আরবীও শেখবে
https://www.youtube.com/watch?v=n-DHHznzgH4&list=PL8uXBqPAoR6NWCvB7-WBSkE3FKJCAIiDy&index=1
*ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক
---------
যেসব বাচ্চারা ঘরে টম জেরি দেখে তাদেরকে এই কার্টুন দেখাতে পারেন এতে যেমন তারা ইসলামী মূল্যবোধ শেখবে তেমন আরবীও শেখবে
https://www.youtube.com/watch?v=n-DHHznzgH4&list=PL8uXBqPAoR6NWCvB7-WBSkE3FKJCAIiDy&index=1
*ড. মুহাম্মদ আমিনুল হক
Sunday, July 17, 2016
How To Make a Married Life Happy
আমাদের অনেক ভাই-বোন বিয়ের কথা ভাবছেন। অনেকে বিয়ে করে ফেলেছেন। উভয়
প্রকার ভাই-বোনদেরই অনেক ক্ষেত্রে সাইকোলজিকাল কিছু বিষয়ে মুখোমুখি হতে
হয়। বিয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি কিনা থেকে শুরু করে নিজের
ফ্যামিলির পরিস্থিতি বিবেচনা, বিয়ের পর এডজাস্টমেন্টের ক্ষেত্রে পরিবারের
সদস্যদের সবার মেন্টালিটি এনালিসিস করে জটিল সিদ্ধান্ত নেয়া ইত্যাদি নানা
রকম বিষয় চলে আসে যা আমাদের অনেক ক্ষেত্রেই কনফিউজ করে দেয়।
এইসব সাইকোলজিকাল সিচুয়েশানে ইসলামের ফিউশান করাটা প্রচন্ড জরুরী, যা হয়তো পরিস্থিতির কারণে আমরা অনেকেই মিস আউট করি। দেখা যায় মাথা ঠান্ডা থাকলে ইসলামের পথ মত, মাথা গরম থাকলে নিজের ইচ্ছা মত সিদ্ধান্ত নিই।
এইসব সাইকোলজিকাল সিচুয়েশানে ইসলামের ফিউশান করাটা প্রচন্ড জরুরী, যা হয়তো পরিস্থিতির কারণে আমরা অনেকেই মিস আউট করি। দেখা যায় মাথা ঠান্ডা থাকলে ইসলামের পথ মত, মাথা গরম থাকলে নিজের ইচ্ছা মত সিদ্ধান্ত নিই।
ইসলামের গাইডলাইনের আলোকে এই ধরণের সাইকোলজিকাল ব্যাপারগুলোর ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার জন্য একটি ব্লু প্রিন্ট নিয়ে
আলোচনা করেছেন,
একজন সাইকোথেরাপিস্ট, ডাক্তার সায়্যিদুল আশরাফ।
তিনি সাইকোথেরাপি ও নিউরোসাইন্সের ওপর স্পেশালি পড়াশোনা করেছেন। তাঁর আগ্রহের বিষয় হল এডিকশান আর হিউম্যান পারসোনালিটি। তিনি ঢাকায় বিভিন্ন সেমিনার ও মেডিকেলে একাধিকবার এই সেশানটি নিয়েছেন। প্রথমবারের মত সেশানটি তিনি নিয়েছেন চট্টগ্রামে আই এল আই এর ক্লাসরুমে।
https://www.youtube.com/watch?v=0eA9fvpxTo8
আলোচনা করেছেন,
একজন সাইকোথেরাপিস্ট, ডাক্তার সায়্যিদুল আশরাফ।
তিনি সাইকোথেরাপি ও নিউরোসাইন্সের ওপর স্পেশালি পড়াশোনা করেছেন। তাঁর আগ্রহের বিষয় হল এডিকশান আর হিউম্যান পারসোনালিটি। তিনি ঢাকায় বিভিন্ন সেমিনার ও মেডিকেলে একাধিকবার এই সেশানটি নিয়েছেন। প্রথমবারের মত সেশানটি তিনি নিয়েছেন চট্টগ্রামে আই এল আই এর ক্লাসরুমে।
https://www.youtube.com/watch?v=0eA9fvpxTo8
Labels:
Happy Married Life,
Marriage,
Married Life,
Tips and Tricks
Saturday, May 28, 2016
আরবী ভাষা শেখার পথে কয়েকটি ব্যাপার মাথায় রাখা উচিত
আরবী ভাষা শেখার পথে কয়েকটি ব্যাপার মাথায় রাখা উচিত,
১। প্রথমেই নিজের ইচ্ছাকে যাচাই করতে হবে যে কেবল চাওয়ার জন্য চাওয়া নাকি সত্যিই শিখতে চান। কারন সত্যিকার ইচ্ছার সাথে পরিশ্রম করার প্রস্তুতি থাকে।
২। আপনি আরবী দেখে পড়তে পারেন কি না। অর্থাৎ তাজয়ীদের নিয়ম সহ কুরআন পড়তে পারেন কি না। না পারলে দয়া করে এখনই ভাষা শিক্ষা নয়।
১। প্রথমেই নিজের ইচ্ছাকে যাচাই করতে হবে যে কেবল চাওয়ার জন্য চাওয়া নাকি সত্যিই শিখতে চান। কারন সত্যিকার ইচ্ছার সাথে পরিশ্রম করার প্রস্তুতি থাকে।
২। আপনি আরবী দেখে পড়তে পারেন কি না। অর্থাৎ তাজয়ীদের নিয়ম সহ কুরআন পড়তে পারেন কি না। না পারলে দয়া করে এখনই ভাষা শিক্ষা নয়।
৩। লেগে থাকার ধৈর্য্য আবশ্যক। গণিত যেমন ক্লাসে না বুঝলে বা পরীক্ষায় ফেল
করলেও ছেড়ে দেন না তেমন আরবীও কঠিন মনে হলে বা না পারলেও ছেড়ে দেওয়া যাবে
না। প্রয়োজনে বন্ধুর থেকে, ভাইদের থেকে বুঝে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
৪। এটাকে কোন সেকেন্ডারী কাজ মনে করা যাবে না। এটা রুটিনের অন্তর্ভুক্ত বিষয় মনে করতে হবে। সময় পেলে পড়বো না পেলে থাক- এই মানসিকতা নিয়ে হবে না।
৫। ক্লাসে যাওয়া আর আসার মাঝে অন্তত একবার করে দেখতে হবে উস্তায কি বুঝিয়েছেন। না বুঝলে নোট করে রাখতে হবে যাতে সেটা পরবর্তী ক্লাসে জেনে নেওয়া যায়।
৬। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি আবশ্যক। যেহেতু এর প্রায় প্রতিটা ক্লাসেই নতুন কিছু থাকে তাই ক্লাস মিস করা যাবে না।
৭। অনেকে কেবল বুঝে বুঝে রেখে দেয় মনে রাখার মত মুখস্ত করে না। এদের ঐ বুঝ আসলে কোন কাজে আসে না। সুতরাং তথ্য মুখস্ত রাখতে হবে।
৮। অনেকে পড়তে পারে কিন্তু লিখতে পারে না কারন তারা লেখার চর্চা করে না ফলত বানানগুলো উচ্চারন জানলেও লেখা সম্ভব হয়না। সুতরাং লিখে লিখে পড়তে হবে।
৯। আল্লাহর কাছে সততার সহিত দোয়া করতে হবে। সততা বলতে দোয়ার সাথে পরিশ্রম থাকতে হবে। পরিশ্রম ছাড়া দোয়া অনেকটা প্রতারণা।
আল্লাহ কবুল করুক। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের পথে চলা সহজ করুক। আমীন।
#কুরআনীয় আরবী শিক্ষা
৪। এটাকে কোন সেকেন্ডারী কাজ মনে করা যাবে না। এটা রুটিনের অন্তর্ভুক্ত বিষয় মনে করতে হবে। সময় পেলে পড়বো না পেলে থাক- এই মানসিকতা নিয়ে হবে না।
৫। ক্লাসে যাওয়া আর আসার মাঝে অন্তত একবার করে দেখতে হবে উস্তায কি বুঝিয়েছেন। না বুঝলে নোট করে রাখতে হবে যাতে সেটা পরবর্তী ক্লাসে জেনে নেওয়া যায়।
৬। নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি আবশ্যক। যেহেতু এর প্রায় প্রতিটা ক্লাসেই নতুন কিছু থাকে তাই ক্লাস মিস করা যাবে না।
৭। অনেকে কেবল বুঝে বুঝে রেখে দেয় মনে রাখার মত মুখস্ত করে না। এদের ঐ বুঝ আসলে কোন কাজে আসে না। সুতরাং তথ্য মুখস্ত রাখতে হবে।
৮। অনেকে পড়তে পারে কিন্তু লিখতে পারে না কারন তারা লেখার চর্চা করে না ফলত বানানগুলো উচ্চারন জানলেও লেখা সম্ভব হয়না। সুতরাং লিখে লিখে পড়তে হবে।
৯। আল্লাহর কাছে সততার সহিত দোয়া করতে হবে। সততা বলতে দোয়ার সাথে পরিশ্রম থাকতে হবে। পরিশ্রম ছাড়া দোয়া অনেকটা প্রতারণা।
আল্লাহ কবুল করুক। আল্লাহ আমাদের দ্বীনের পথে চলা সহজ করুক। আমীন।
#কুরআনীয় আরবী শিক্ষা
Tuesday, May 17, 2016
ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিঃ) কি ছিলেন আর কি ছিলেন না
বাংলাদেশের ইসলামি জাগরণের কথা ইদানিং খুব বলি। বলি, ইসলামের কোন ভয় নেই
বাংলাদেশে। বলি, ইসলাম কে কেও মিটায়ে দিতে পারবেনা ঐ ভূখন্ড থেকে। বলি,
বাংলাদেশ থেকে ইসলাম মুছে ফেলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটা জাগৃতি বন্যার
বেগে ধেয়ে আসছেই।
যখন এই সব কথা প্রগলভতার সাথে বলি, যে মুখটা এসে আমার সামনে এক ফালি চাঁদের হাসি বিকীর্ণ করে, 'সালাম ভাই, ক্যামন আছেন' বলে আশা যোগায় তিনি হলেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাংগির। তাকে দেখে আমি এত কঠিন কথা বলতে সাহস পেতাম।
১৯৮৯ সাল থেকে পরিচয়। তখন তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মাস্টার্স এর ছাত্র। 'মাশারিকুল আনওয়ার' নামক এক হাদীস গ্রন্থের উপর তিনি ভাষাতাত্বিক স্টাডী করছেন। জিজ্ঞাসু নয়নে তাকিয়ে বোকা বোকা ভাষায় বল্লাম, হাদীসের কেতাব, স্টাডী হচ্ছে ভাষাতাত্বিক?! তিনি হেসে বললেনঃ 'সালাম ভাই, এই যায়গায় তো উম্মাতের সমস্যা। আজকের মুহাদ্দিস রা ভাষা জানেনা, আর ভাষাবিদ রা হাদীস জানেনা'। চোখ খুলে গেল। ইবনে মালিকের দর্শন তিনি বুঝালেন। হাদীস কে কিভাবে যে ইগনোর করা হচ্ছে তা বুঝালেন। আমি আপ্লুত হলাম, চোখে মদীনার সবুজ গম্বুজের হাতছানি খেলতে লাগলো।
দেখা হয়েছে বহু বার, বহু যায়গায়, বহু ক্ষেত্রে কিংবা বহু আনন্দে বিপদে। একবার রিয়াদে বাংলাদেশী দায়ী ইলাল্লাহ গণের মাঝে মারাত্মক এক ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ডঃ তরিক, মাওলানা সাঈদ মিসবাহ, মাওলানা আব্দুর রাক্বীব সহ বেশ কয়েকজন আলিমের মাঝে একটু দুরত্ব তৈরি হয়। জাহাংগির ভাই তখন ছাত্র, কাজ করেন বাংলাদেশ এম্বেসীতে, এবং দাওয়াতি এক সংস্থার সাথে। সেদিন মিমাংসার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিলো এমন যে তার প্রতিটা কথা সবাই মেনে নেন, এবং সকলের মন শান্তিতে ভরে ওঠে। আমি উনাকে বললামঃ ভাইজান, হামযাতুল ওয়াসল এর মত কাজ করলেন, আগের ও পরের শব্দের সাথে নিজকে বিলিয়ে কিভাবে মিলিয়ে দিলেন। উনি আবারো উপহার দিলেন একফালি হাসি।
১৯৯১ সালে মদীনায় যাচ্ছি কিং সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে। তিনি খুশী হয়েছিলেন। কিং সাঊদের ইসলামিক স্টাডীজ তার পছন্দ ছিলোনা। তিনি তখন পিএইচ ডি থিসিস শুরু করেছেন। বিদেশিদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ছড়াতেন। ইংরেজিতে তিনি খুব ভালো ছিলেন বলে আমেরিকান সেনা ছাওনিতে তিনি ইসলাম পৌঁছানোর কাজ করতেন। জিজ্ঞাসা করলামঃ ভাই, কয় জন ইসলাম কবুল করেছেন? তিনি বললেনঃ বলা নিষেধ, তবে আপনাকে একটা কথা বলি, ওদের মাঝে ইসলাম পৌঁছাতে পারলে তারা উন্মুখ হয়ে আছে। ঐ বছরেই শুনেছিলাম ডঃ জগলুল নাজ্জার ও জাহাংগির ভাইদের দাওয়াতে তিন শতাধিক সৈন্য মুসলিম হয়ে যায়। এবং সরকারি হস্তক্ষেপে এই দাওয়াতি কাজ বন্ধ রাখা হয়।
১৯৯৫ সালে মদীনা থেকে রিয়াদে বেড়াতে আসি। শায়খ আব্দুর রহমান মাদানী আর আমি। উদ্দেশ্য এম এ করার জন্য একটা স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। তিনি দাওয়াত দিলেন। ভাবী কে দেশে পাঠায়েছেন। শ্যালক আছেন বাসায়। বাসায় যেয়ে দেখলাম সব খালি। মানে উনার পি এইচ ডি শেষ, তিনি দেশে ফিরবেন। সার্টিফিকেট নিয়ে ও শ্যালকের পরীক্ষা শেষ করিয়ে ফিরবেন। তিনি আমাদের জামিয়াতুল ইমামে নিয়ে গেলেন। শিক্ষক গণের সাথে পরিচয় করালেন। দেখলাম তার শিক্ষকগণ শুধু ভালোবাসেন না তাকে, সম্মান ও করেন ঢের।
ঈমানের সাথে ইলম, ইলমের সাথে আমল এবং আমলের সাথে এত হিলম আমি আর কারো মাঝে পাইনি। তিনি সবার সাথে মিশতে পারার এক দূর্লভ গুণ অর্জন করে ছিলেন। তবে সহীহ হাদীসের এক চুল দূরে যেতে ছিলো তার প্রচন্ড আপত্তি।
"ভাই, জামাআতে ইসলামির সাথে বা তাব্লীগের সাথে, বা কোন অর্গানাইজেশনের সাথে থেকে কাজ করলে কি বেশি ভালো হত না"? আমার এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ "সালাম ভাই, বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম, এদের মাঝে দল করা মানে এদের কে বিভক্ত করে ফেলা। বাংলাদেশের সব মুসলমানের সাথেই আমি থাকি, সে ভালো"। আমি বললামঃ "কিন্তু কেও তো আপনাকে মেনে নেবে না, তাছাড়া, কারো না কারো সাথে থাকলে একটু সাহায্য পাবেন"। তিনি বললেনঃ " সবাই মেনে নেবে সালাম ভাই। কারণ কলেমার দাওয়াত এমন যে, ঐটা ব্যাবহার করে দেখেন না একজন ভিক্ষুক ও সব মুসলমানদের দয়া ও সাহায্য পায়। আমি না হয় "ঐক্যের ভিক্ষুক" হই। কলেমা নিয়ে সবার কাছে যাই, তাড়ায়ে দিলেও মারতে পারবেনা কেও। চোখ খুলে দিলেন আমাকে।
জাহাংগির ভাই, বড় অবেলায় চলে গেলেন, বিদ্যুতের যে আলোকচ্ছটা আপনি ছড়িয়ে ছিলেন তা বিকশিত না হতেই এই হতভাগা জাতিকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন। আমি আপনার জন্য কী আর দেব। দুচোখের নহরে ভাসা জীর্ণ মলিন মুখ দেখুন, আর রোগাক্রান্ত হৃদয়ের দীর্ণ করা হাহাকার টাই শুনুন............ আল্লাহুম্মা নাক্কিহি মিনায যুনূব কামা য়্যুনাক্ক্বা আসসাওবুল আবয়াদু মিনাদ্দানাস। ও আল্লাহ, তুমি তাকে জান্নাতুল ফিরদাওসের মেহমান বানাও। শাহাদাতের মর্যাদা দাও।
#M Abdus Salam Azadi
যখন এই সব কথা প্রগলভতার সাথে বলি, যে মুখটা এসে আমার সামনে এক ফালি চাঁদের হাসি বিকীর্ণ করে, 'সালাম ভাই, ক্যামন আছেন' বলে আশা যোগায় তিনি হলেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাংগির। তাকে দেখে আমি এত কঠিন কথা বলতে সাহস পেতাম।
১৯৮৯ সাল থেকে পরিচয়। তখন তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মাস্টার্স এর ছাত্র। 'মাশারিকুল আনওয়ার' নামক এক হাদীস গ্রন্থের উপর তিনি ভাষাতাত্বিক স্টাডী করছেন। জিজ্ঞাসু নয়নে তাকিয়ে বোকা বোকা ভাষায় বল্লাম, হাদীসের কেতাব, স্টাডী হচ্ছে ভাষাতাত্বিক?! তিনি হেসে বললেনঃ 'সালাম ভাই, এই যায়গায় তো উম্মাতের সমস্যা। আজকের মুহাদ্দিস রা ভাষা জানেনা, আর ভাষাবিদ রা হাদীস জানেনা'। চোখ খুলে গেল। ইবনে মালিকের দর্শন তিনি বুঝালেন। হাদীস কে কিভাবে যে ইগনোর করা হচ্ছে তা বুঝালেন। আমি আপ্লুত হলাম, চোখে মদীনার সবুজ গম্বুজের হাতছানি খেলতে লাগলো।
দেখা হয়েছে বহু বার, বহু যায়গায়, বহু ক্ষেত্রে কিংবা বহু আনন্দে বিপদে। একবার রিয়াদে বাংলাদেশী দায়ী ইলাল্লাহ গণের মাঝে মারাত্মক এক ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ডঃ তরিক, মাওলানা সাঈদ মিসবাহ, মাওলানা আব্দুর রাক্বীব সহ বেশ কয়েকজন আলিমের মাঝে একটু দুরত্ব তৈরি হয়। জাহাংগির ভাই তখন ছাত্র, কাজ করেন বাংলাদেশ এম্বেসীতে, এবং দাওয়াতি এক সংস্থার সাথে। সেদিন মিমাংসার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিলো এমন যে তার প্রতিটা কথা সবাই মেনে নেন, এবং সকলের মন শান্তিতে ভরে ওঠে। আমি উনাকে বললামঃ ভাইজান, হামযাতুল ওয়াসল এর মত কাজ করলেন, আগের ও পরের শব্দের সাথে নিজকে বিলিয়ে কিভাবে মিলিয়ে দিলেন। উনি আবারো উপহার দিলেন একফালি হাসি।
১৯৯১ সালে মদীনায় যাচ্ছি কিং সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে। তিনি খুশী হয়েছিলেন। কিং সাঊদের ইসলামিক স্টাডীজ তার পছন্দ ছিলোনা। তিনি তখন পিএইচ ডি থিসিস শুরু করেছেন। বিদেশিদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ছড়াতেন। ইংরেজিতে তিনি খুব ভালো ছিলেন বলে আমেরিকান সেনা ছাওনিতে তিনি ইসলাম পৌঁছানোর কাজ করতেন। জিজ্ঞাসা করলামঃ ভাই, কয় জন ইসলাম কবুল করেছেন? তিনি বললেনঃ বলা নিষেধ, তবে আপনাকে একটা কথা বলি, ওদের মাঝে ইসলাম পৌঁছাতে পারলে তারা উন্মুখ হয়ে আছে। ঐ বছরেই শুনেছিলাম ডঃ জগলুল নাজ্জার ও জাহাংগির ভাইদের দাওয়াতে তিন শতাধিক সৈন্য মুসলিম হয়ে যায়। এবং সরকারি হস্তক্ষেপে এই দাওয়াতি কাজ বন্ধ রাখা হয়।
১৯৯৫ সালে মদীনা থেকে রিয়াদে বেড়াতে আসি। শায়খ আব্দুর রহমান মাদানী আর আমি। উদ্দেশ্য এম এ করার জন্য একটা স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। তিনি দাওয়াত দিলেন। ভাবী কে দেশে পাঠায়েছেন। শ্যালক আছেন বাসায়। বাসায় যেয়ে দেখলাম সব খালি। মানে উনার পি এইচ ডি শেষ, তিনি দেশে ফিরবেন। সার্টিফিকেট নিয়ে ও শ্যালকের পরীক্ষা শেষ করিয়ে ফিরবেন। তিনি আমাদের জামিয়াতুল ইমামে নিয়ে গেলেন। শিক্ষক গণের সাথে পরিচয় করালেন। দেখলাম তার শিক্ষকগণ শুধু ভালোবাসেন না তাকে, সম্মান ও করেন ঢের।
ঈমানের সাথে ইলম, ইলমের সাথে আমল এবং আমলের সাথে এত হিলম আমি আর কারো মাঝে পাইনি। তিনি সবার সাথে মিশতে পারার এক দূর্লভ গুণ অর্জন করে ছিলেন। তবে সহীহ হাদীসের এক চুল দূরে যেতে ছিলো তার প্রচন্ড আপত্তি।
"ভাই, জামাআতে ইসলামির সাথে বা তাব্লীগের সাথে, বা কোন অর্গানাইজেশনের সাথে থেকে কাজ করলে কি বেশি ভালো হত না"? আমার এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ "সালাম ভাই, বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম, এদের মাঝে দল করা মানে এদের কে বিভক্ত করে ফেলা। বাংলাদেশের সব মুসলমানের সাথেই আমি থাকি, সে ভালো"। আমি বললামঃ "কিন্তু কেও তো আপনাকে মেনে নেবে না, তাছাড়া, কারো না কারো সাথে থাকলে একটু সাহায্য পাবেন"। তিনি বললেনঃ " সবাই মেনে নেবে সালাম ভাই। কারণ কলেমার দাওয়াত এমন যে, ঐটা ব্যাবহার করে দেখেন না একজন ভিক্ষুক ও সব মুসলমানদের দয়া ও সাহায্য পায়। আমি না হয় "ঐক্যের ভিক্ষুক" হই। কলেমা নিয়ে সবার কাছে যাই, তাড়ায়ে দিলেও মারতে পারবেনা কেও। চোখ খুলে দিলেন আমাকে।
জাহাংগির ভাই, বড় অবেলায় চলে গেলেন, বিদ্যুতের যে আলোকচ্ছটা আপনি ছড়িয়ে ছিলেন তা বিকশিত না হতেই এই হতভাগা জাতিকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন। আমি আপনার জন্য কী আর দেব। দুচোখের নহরে ভাসা জীর্ণ মলিন মুখ দেখুন, আর রোগাক্রান্ত হৃদয়ের দীর্ণ করা হাহাকার টাই শুনুন............ আল্লাহুম্মা নাক্কিহি মিনায যুনূব কামা য়্যুনাক্ক্বা আসসাওবুল আবয়াদু মিনাদ্দানাস। ও আল্লাহ, তুমি তাকে জান্নাতুল ফিরদাওসের মেহমান বানাও। শাহাদাতের মর্যাদা দাও।
#M Abdus Salam Azadi
Thursday, May 12, 2016
ড: আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার আর নেই
ড: আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির স্যার আর নেই(11/05/2016)। মুহুর্তের মধ্যে যেন মাথায় আকাশ
ভেঙ্গে পড়েছে। শোকে পাথর হয়ে গেছি। এ যাবৎ কোন প্রিয়জনের বিয়োগে এতো কষ্ট
অনুভব হয়নি যতখানি হয়েছে এই প্রিয় ব্যক্তিত্বের বিদায়ের খবর শুনে।
জীবনে বহু মানুষ দেখেছি। অনেক বড় আলিমগণের সান্নিধ্যধন্য হয়েছি। কিন্তু আল্লাহর কসম, একটুও বাড়িয়ে বলছি না, ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির রাহিমাহুল্লাহ এর মতো বিনয়ী, উদার, সুন্দর মন, উম্মাহর জন্য দরদী, মুখলিস, পরমত সম্মানকারী, যুগসচেতন, স্নেহ পরায়ন, উম্মাহর ঐক্য ভাবনায় বিভোর, প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত আমি দ্বিতীয়জন দেখিনি।
জীবনে বহু মানুষ দেখেছি। অনেক বড় আলিমগণের সান্নিধ্যধন্য হয়েছি। কিন্তু আল্লাহর কসম, একটুও বাড়িয়ে বলছি না, ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির রাহিমাহুল্লাহ এর মতো বিনয়ী, উদার, সুন্দর মন, উম্মাহর জন্য দরদী, মুখলিস, পরমত সম্মানকারী, যুগসচেতন, স্নেহ পরায়ন, উম্মাহর ঐক্য ভাবনায় বিভোর, প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত আমি দ্বিতীয়জন দেখিনি।
একাধিকবার বলেছি স্যার, আমাকে শায়েখ না বলে আহমাদুল্লাহ আর আপনি না বলে
তুমি করে বললে বেশি সুন্দর মানায় এবং আমি বিব্রত হওয়া থেকে রক্ষা পাই। আমি
তো আপনার ছেলে উসামার সময়বয়সী। তখন তিনি বললেন- ভাই, আমরা আলেমদের সম্মান
না দেখালে সাধারণ মানুষ কিভাবে তাঁদের মর্যাতা বুঝবে, সম্মান দেখাবে?
প্রতিবার দেশে গেলে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে যেতাম ঝিনাইদহের আসসুন্নাহ ট্রাস্টে। জীবনের প্রথম টিভি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম তাঁর সাথে। নবীন ও ছোটদের ভুলগুলো কিভাবে পরম আদরে শুধরে দিতে হয় তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন এই মহামানব। নিজের পরম শত্রু এবং বিদ্বেষীর সাথেও আকৃত্রিম হাসি ও আন্তরিকতা দেখানোর মতো সুন্দর চরিত্র আমি কেবল তাঁর মধ্যেই দেখেছি।
এ জাতি কতো বড় একজন মানুষকে হারিয়েছে তা হয়তো উপলব্ধি করতেও অনেক সময় পার হয়ে যাবে। তিনি একমাত্র বাংলাদেশী যিনি সৌদি আরবের রিয়াদের বিশ্ববিখ্যাত আল ইমাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেকর্ড সংখ্যক নাম্বার নিয়ে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপ শেষ করেছেন। এখান থেকেই তিনি অনার্স, মাস্টার্স ও ডক্টরেট করেছেন। বর্তমান সৌদি বাদশা সালমানের হাতে দুই দুই বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার নিয়েছেন। সৌদি আরবের বর্তমান স্কলারদের অনেকেই তাঁর সহপাঠী।
চতূর্দিকে যখন ভারসাম্যপূর্ণ লোকের দুর্ভিক্ষ চলছে, ঠিক এমন একটি সময়ে তাঁর মতো বিচক্ষণ ও উদার লোকের বড় বেশি প্রয়োজন ছিল!
হে রাব্ব, নিজের বাবাকে হারালে যেমন শোকে পাথর হয়ে যেতাম, তারচে মোটেও কম দুখ: পাইনি আমার দেখা এই শ্রেষ্ঠ মানুষটির বিদায়ে। আপনি তাঁকে আপন মাগফিতার ও রহমতের ছায়তলে ঢেকে নিন। তাঁর বিকল্প এই উম্মাহকে দান করুন। তাঁর ভালো গুনগুলো দিয়ে যেন নিজেকে সাজাতে পারি, আমাদের সেই তাউফীক দান করুন।
#শায়খ আহমাদউল্লাহ
প্রতিবার দেশে গেলে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে যেতাম ঝিনাইদহের আসসুন্নাহ ট্রাস্টে। জীবনের প্রথম টিভি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম তাঁর সাথে। নবীন ও ছোটদের ভুলগুলো কিভাবে পরম আদরে শুধরে দিতে হয় তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন এই মহামানব। নিজের পরম শত্রু এবং বিদ্বেষীর সাথেও আকৃত্রিম হাসি ও আন্তরিকতা দেখানোর মতো সুন্দর চরিত্র আমি কেবল তাঁর মধ্যেই দেখেছি।
এ জাতি কতো বড় একজন মানুষকে হারিয়েছে তা হয়তো উপলব্ধি করতেও অনেক সময় পার হয়ে যাবে। তিনি একমাত্র বাংলাদেশী যিনি সৌদি আরবের রিয়াদের বিশ্ববিখ্যাত আল ইমাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেকর্ড সংখ্যক নাম্বার নিয়ে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপ শেষ করেছেন। এখান থেকেই তিনি অনার্স, মাস্টার্স ও ডক্টরেট করেছেন। বর্তমান সৌদি বাদশা সালমানের হাতে দুই দুই বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার নিয়েছেন। সৌদি আরবের বর্তমান স্কলারদের অনেকেই তাঁর সহপাঠী।
চতূর্দিকে যখন ভারসাম্যপূর্ণ লোকের দুর্ভিক্ষ চলছে, ঠিক এমন একটি সময়ে তাঁর মতো বিচক্ষণ ও উদার লোকের বড় বেশি প্রয়োজন ছিল!
হে রাব্ব, নিজের বাবাকে হারালে যেমন শোকে পাথর হয়ে যেতাম, তারচে মোটেও কম দুখ: পাইনি আমার দেখা এই শ্রেষ্ঠ মানুষটির বিদায়ে। আপনি তাঁকে আপন মাগফিতার ও রহমতের ছায়তলে ঢেকে নিন। তাঁর বিকল্প এই উম্মাহকে দান করুন। তাঁর ভালো গুনগুলো দিয়ে যেন নিজেকে সাজাতে পারি, আমাদের সেই তাউফীক দান করুন।
#শায়খ আহমাদউল্লাহ
Subscribe to:
Posts (Atom)

