বাংলাদেশের স্বনামধন্য আলেমে দ্বীন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার
শিক্ষক ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সৌদি আরবের রাজধানী
রিয়াদ আগমন উপলক্ষ্য আল ইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কিং সউদ
বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশী ছাত্রদের উদ্যোগে দুইটি সৌজন্য সমাবেশের
আয়োজন করা হয়।
গত ০২ নভেম্বর রোজ শনিবার আল
ইমামইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে
একটি সমাবেশঅনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে আলইমাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কিং
সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের বাংলাদেশী ছাত্রগণ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের বাংলাদেশী শিক্ষক জনাব সমীর ভৌমিক ও
কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষক জনাব মহসিন উপস্থিত
ছিলেন।
এছাড়া ০৪ নভেম্বর ২০১৩,রোজ সোমবার কিং সউদ
বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশী ছাত্র সমিতির উদ্যোগে আরোএকটি সমাবেশের আয়োজন করা
হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ড. খন্দকার আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ
জাহাঙ্গীর, কিংসউদে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনায়রত ৬ জন বাংলাদেশী শিক্ষক ও
বাংলাদেশী ছাত্রবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ছাত্র সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ
নূরুল্লাহ তারীফ এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গুরুত্বপূর্ণ
উপদেশমূলক বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য ড. জাহাঙ্গীর রিয়াদের আলইমাম ইসলামী
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (অনার্স) থেকে শুরু করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন
করেছেন এবং দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর তিনি রিয়াদে প্রবাসী ছিলেন। তিনি যে বক্তব্য
রেখেছেন এর সারাংশ নীচে তুলে ধরা হলো।
পরাজিত মানসিকতা পরিহার করঃ
তিনি
তাঁর জীবন থেকে উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা যখন এখানে পড়তে আসি তখন আমাদের
সাথে যে বন্ধুবান্ধব ছিলেন তাঁরা অনেকেই হীনমন্যতায় ভুগতেন। অনেকেই ভাবতেন,
এই পড়াশুনা করে কী হবে? দেশে ফিরে গেলে সনদের কোন মূল্যায়ন পাওয়া যাবে না,
চাকরি পাওয়া যাবে না।এই হীনমন্যতা থেকে তারা পড়াশুনায় মনোযোগী হতে পারতেন
না। তাদের অনেকে জীবনে সফল হতে পারেননি। আমাদের দেশে যারা মাদ্রাসায় পড়েন
বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সাবজেক্ট নিয়ে পড়েন তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা
কুরআন-হাদিসের পড়াশুনাকে নাক ছিটকান। স্যার, এগুলো পড়ে কি হবে? বিসিএসে কোন
কাজে আসবে না। ইসলাম সকল জ্ঞান অর্জনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে। সকল জ্ঞানই
ভাল। সব পেশার মানুষের মুসলমানদের কল্যাণ করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু যাদের
কাছে কুরআন-হাদিসের জ্ঞান রয়েছে তারা মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ
করার সুযোগ পায়। কুরআন-হাদিসের জ্ঞান হচ্ছে- শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আল্লাহ যাকে এই
জ্ঞান অর্জন করার কিছু সুযোগ দান করেছেন সে যখন এই জ্ঞানকে
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে, হেয় করে তখন আল্লাহ সে ব্যক্তিকে চরমভাবে লাঞ্চিত
করেন, অপমানিত করেন। আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপমা দিয়েছেন কুকুরের সাথে। وَاتْلُعَلَيْهِمْ
نَبَأَ الَّذِي آَتَيْنَاهُ آَيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَافَأَتْبَعَهُ
الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ (175) وَلَوْ شِئْنَالَرَفَعْنَاهُ
بِهَا وَلَكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُفَمَثَلُهُ
كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِنْ تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ
تَتْرُكْهُيَلْهَثْঅর্থ- “আর তুমি তাদের কাছে সে
ব্যক্তির সংবাদ পাঠ কর, যাকে আমি আমার আয়াতসমূহ দিয়েছিলাম। অতঃপর সে তা হতে
বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল এবং শয়তান তার পেছনে লেগেছিল। ফলে সে বিপদগামীদের
অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিল। আর আমি ইচ্ছা করলে উক্ত নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে
তাকে অবশ্যই উচ্চ মর্যাদা দিতাম, কিন্তু সে পৃথিবীর প্রতি ঝুঁকে পড়েছে এবং
নিজপ্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে- কুকুরের মত। যদি
তার উপর বোঝা চাপিয়ে দাও তাহলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে অথবা যদি তাকে
ছেড়ে দাও তাহলেও সে জিহ্বা বের করে হাঁপাবে।” [সূরা আল আরাফ,
আয়াত ১৭৫-১৭৬] বরঞ্চ তোমার ভবিষ্যতকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও। আল্লাহর উপর
নির্ভর কর। তিনি তাঁর জীবন থেকে উদাহরণ দিয়ে বলেন আমাদের সহপাঠীদের মধ্যে
যে যা হতে চেয়েছেন আল্লাহ তার জন্য সে ব্যবস্থা করেদিয়েছেন। আল্লাহ কাউকে
ঠকাননি। যে সৌদি আরবে থেকে যেতে চেয়েছেন, তার সৌদি আরবে চাকরী হয়ে গেছে। যে
ব্যবসা করতে চেয়েছেন আল্লাহ তার ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যে দেশে
ফিরে দাওয়াত ও ইলমের সেবা করতে চেয়েছেন আল্লাহ সে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন এবং
দুনিয়ার শান-শওকত ও ধনদৌলতেও কম দেননি। সে জন্য নিয়্যতকে পরিশুদ্ধ কর।
আল্লাহর জন্য ইলম হাছিল কর।
ভাষা শিখার উপর গুরুত্ব দেয়াঃ
আরবীভাষা
শিখার উপর খুব গুরুত্ব দাও। আমাদের দেশের আলেমদের বড় সমস্যা তাঁরা ভাল
আরবী জানেন না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন: মুসনাদে আহমাদে একখানা হাদিস আছে- أَنَّ رَسُولَ الله صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم عَادَ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ (রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন অসুস্থ আনসারীকে দেখতে গেলেন)।
আমাদের দেশের একজন স্বনামধন্য আলেম এর অনুবাদ করেছেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহিওয়া সাল্লাম এক আনসারীর কাছে ফেরত গেলেন। অর্থাৎ عَادَ
শব্দটি আলাদা দুটো শব্দমূল থেকে এলে যে আলাদা দুইটি অর্থ প্রকাশ করে তা
তিনি পার্থক্য করতে পারেননি। অন্য এক আলেম একবার বলেন যে, আল্লাহ যে
মানুষের অন্তরে হুলুল (আবির্ভুত) হন তাতো কুরআনেও আছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন
وَاعْلَمُواأَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ অর্থাৎ তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন এই আয়াতে يَحُولُশব্দটি আবির্ভুত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অথচ আয়াতের অর্থ হচ্ছে- “নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হন।”[সূরা
আল আনফাল, আয়াত ২৪] এইআলেম حَلَّ يَحُلُّ حُلُوْلاً (আবির্ভুত হওয়া) ও
حَالَ يَحُوْلُ حَوْلاً (অন্তরায় হওয়া) এ দুটোর মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করতে
পারেননি। তাই উভয়টাকে একই অর্থবোধক ভেবেছেন। এ ধরনের অনেক উদাহরণ পেশ করা
যায়। সে জন্য তোমাদেরকে ভাল আরবী শিখতে হবে। বিদেশী ছাত্রদের সাথে উঠাবসা
করতে হবে। আরবীতে কথাবার্তা বলতে হবে। যেন আরবী বলার যোগ্যতাও অর্জিত হয়।
মাতৃভাষা বাংলা শেখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে। وَمَاأَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ (অর্থ- আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তার কওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি।)
সব ধরনের বই পড়তে হবে। রবীন্দ্রনাথ,বঙ্কিম, শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায় সব পড়তে
হবে। কোন কিছু বাদ রাখা যাবে না। আমাদের দেশের আলেমদের বড় সমস্যা হলো
তাঁরা বাংলা ভাষা জানেন না। বর্তমানে আলেমগণ কিছু লেখালেখি করলেও বাংলা
সাহিত্যের উপর কোন আলেম বই লিখেছেন এমন পাওয়া যাবে না। কিছু আরবী,কিছু
উর্দু, কিছু ফার্সি মিশিয়ে কথা বললে বা লিখলে সেটা মানুষের বোধগম্য হয় না।
এমন ভাষায় বলতে হবে, লিখতে হবে যেন একজন বাংলাভাষী যিনি জীবনে কোনদিন
ধর্মীয় আলোচনা শুনেননি তিনিও যেন বুঝতে পারেন। অনুবাদ করতে এমনভাবে যাতে
পাঠক বুঝতেই না পারে এটা আরবী ছিল। আরবীটাকে বুঝে নিয়ে সম্পূর্ণ বাংলার
আঙ্গিকে এটাকে রূপান্তরিত করতে হবে।
বর্তমানে
ইংরেজী আমাদের ভাষারই একটা অংশ। ইংরেজী না শেখে কোন গত্যন্তর নেই। তাই
তোমাদেরকে ইংরেজী জানতে হবে। ইংরেজী শেখার উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ইলম অনুযায়ী আমল ও দাওয়াতি কাজ করাঃ
যা
তুমি শিখেছ সেটা আমল কর। যে হাদিস শুনেছ সেটা একবার হলেও আমল কর। তুমি যদি
আমল কর তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য ইলমের দরজা খুলে দিবেন। যারা আল্লাহকে
পেতে চায় আল্লাহ তাদের জন্য পথকে সহজ করে দেন। নিয়তকে পরিশুদ্ধ কর।
তোমাদেরকে আমার ঘটনা বলি আমাদের সময়ে সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
ছিল কোন বিদেশী ছাত্র অনার্স পাস করার পর তাকে অবশ্যই দেশে ফেরত যেতে হবে।
মাস্টার্সে পড়ার সুযোগ সে পাবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা আমার জন্য
মাস্টার্সের ব্যবস্থা এমনভাবে করে দিলেন যা আমি কল্পনাও করতে পারি নাই। আমি
সুপারিশের জন্য যেসব শিক্ষকদের বলে রেখেছিলাম তারা আমাকে আশ্বাসও
দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজের সময় তাদের কাউকে পেলাম না। আমাদের ডীন ছিলেন এমন
একজন সাধাসিদে মানুষ যিনি কারো উপকারও করতে পারতেন না;ক্ষতিও করতে না। তাই
তাকে কিছুই বলিনি। কিন্তু এই মানুষটি একজন বিদেশী ছাত্রের মাস্টার্সে চাঞ্চ
পাওয়ার মতো দুর্সাধ্য কাজটি করলেন। তখন আমাকে একজন সৌদি বললেন, খন্দকার
তোমার নিয়্যত পরিশুদ্ধ ছিল সেজন্য তোমার চাঞ্চ হয়েছে। আসলে আমার নিয়্যত
পরিশুদ্ধ ছিল সেটা নয়। কিন্তু তাঁরা নিয়্যতের পরিশুদ্ধতাকে সফলতার মাপকাঠি
বিবেচনা করেন।
যা অর্জন করেছ সেটা প্রচার কর। মানুষকে
ভালবেসে, প্রেম দিয়ে দাওয়াত দিতে হবে। হয়তো তুমি এমন কোথাও দাওয়াত দিতে
গিয়েছ যারা অতি সাধারণ মানুষ। যারা সভ্যতা, ভদ্রতা খুব একটা জানে না। হয়তো
এমন কোন আচরণ করল যা তোমার ভাল লাগেনি। আসলেই অভদ্র আচরণ। তুমি যদি সে
ভাইকে তুচ্ছ না করে এভাবে চিন্তা কর, আলহামদু লিল্লাহ! আল্লাহ আমাকে জ্ঞান
দিয়েছেন, আমাকে এমন গর্হিত কাজ থেকে বিরত রেখেছেন এটি আমার প্রতি আল্লাহর
দয়া, তাঁর মেহেরবাণী। তাহলে তোমার মধ্যে অহংকার আসবে না। গুনাহগারকে হেয়
করো না। তা করলে তুমি দাওয়াতি কাজে সফল হতে পারবে না। সুযোগ পেলেই দাওয়াতি
কাজে বেরিয়ে পড়বে। পড়াশুনা শেষ করে তারপর দাওয়াতি কাজ শুরু করব -এমনটি নয়।
বরং লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে যখনই সুযোগ পাবে তখনই দাওয়াতি কাজ করবে। ছুটিতে
দেশে ফিরলে দাওয়াতি কাজ করতে পার। প্রবাসে যেসব ভাইয়েরা থাকেন তাদের ভিলাতে
গিয়ে দাওয়াতি কাজ করতে পার। সাংগঠনিকভাবে দাওয়াতি কাজ করতে পারলে অনেক
ভাল; সেটা না পারলে ব্যক্তিগতভাবেও করতে পার।
আলেমরাই অমরঃ
সফল
কে?সফলতা কী? দুনিয়ার শান-শওকত, জৌলুশ এটাই কী সফলতার মাপকাঠি। আমাদের
সমাজ যে মানুষগুলোর শান-শওকত, ধনধৌলত ও ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ, অনুরক্ত সে
লোকগুলোই যখন কোন আমলদার আলেমের সামনে হাজির হন তখন কেন যেন দুর্বল হয়ে
পড়েন। তার সব দম্ভ অহংকার বিলীন হয়ে যায়। কী অশান্তির মধ্যে তারা দিনাতিপাত
করছে সেটা আলেমদের কাছে প্রকাশ করে। সেজন্য শান্তি হচ্ছে- আল্লাহকে ভয়
করার মধ্যে। অমর হচ্ছেন- আলেমগণ। দেখ ইমাম নববী কতদিন তিনি বেঁচেছেন; মাত্র
৪০ বছর। এই সময়ে তিনি যে কীর্তি রেখে গেছেন সেজন্য গোটা উম্মাহ তাঁকে
স্মরণ করে, তাঁর জন্য দোয়া করে, তাঁর নামের বলার পর "আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম
করুন" উচ্চারণ করে। এমন কোন মুসলিম পাওয়া যাবে না যিনি ইমাম নববীর নাম
শুনেননি। তাঁর বই পড়েননি। সুতরাং তুমি যদি অমরত্ব চাও তাহলে আলেম হও। একজন
সাধারণ আলেম মারা গেলেও মানুষ ৫০/৬০ বছর এমনিতেই তাঁর নামের শেষে
রহিমাহুল্লাহ পড়ে।
সময়কে কাজে লাগাওঃ
সময়কে
কাজে লাগাও। প্রতিটি ঘণ্টা, মিনিট, সেকেন্ড হিসেব করে ব্যয় কর। প্রচুর
লেখাপড়া কর। আমাদের সময় আমি লাইব্রেরীতে পড়ে থাকতাম। লাইব্রেরী ছিল আমাদের
হোস্টেল থেকে অনেকদূরে। সেখানে পৌঁছতে অনেক কষ্ট হত। রাতদিন লাইব্রেরীতে
পড়ে থাকতাম। এমন কোন বই হয়তো বাদ ছিল না যেটা উল্টেপাল্টে দেখিনি। এতে করে
কেউ কোন বই খুঁজতে এলে আমি বলে দিতে পারতাম অমুক বইটি অমুক স্থানে আছে।
সেজন্য সময়কে কাজে লাগাও। আল্লাহ তোমাদেরকে তাওফিক দিন।
Showing posts with label ড: আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর. Show all posts
Showing posts with label ড: আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর. Show all posts
Monday, March 6, 2017
Tuesday, May 17, 2016
ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রাহিঃ) কি ছিলেন আর কি ছিলেন না
বাংলাদেশের ইসলামি জাগরণের কথা ইদানিং খুব বলি। বলি, ইসলামের কোন ভয় নেই
বাংলাদেশে। বলি, ইসলাম কে কেও মিটায়ে দিতে পারবেনা ঐ ভূখন্ড থেকে। বলি,
বাংলাদেশ থেকে ইসলাম মুছে ফেলার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর একটা জাগৃতি বন্যার
বেগে ধেয়ে আসছেই।
যখন এই সব কথা প্রগলভতার সাথে বলি, যে মুখটা এসে আমার সামনে এক ফালি চাঁদের হাসি বিকীর্ণ করে, 'সালাম ভাই, ক্যামন আছেন' বলে আশা যোগায় তিনি হলেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাংগির। তাকে দেখে আমি এত কঠিন কথা বলতে সাহস পেতাম।
১৯৮৯ সাল থেকে পরিচয়। তখন তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মাস্টার্স এর ছাত্র। 'মাশারিকুল আনওয়ার' নামক এক হাদীস গ্রন্থের উপর তিনি ভাষাতাত্বিক স্টাডী করছেন। জিজ্ঞাসু নয়নে তাকিয়ে বোকা বোকা ভাষায় বল্লাম, হাদীসের কেতাব, স্টাডী হচ্ছে ভাষাতাত্বিক?! তিনি হেসে বললেনঃ 'সালাম ভাই, এই যায়গায় তো উম্মাতের সমস্যা। আজকের মুহাদ্দিস রা ভাষা জানেনা, আর ভাষাবিদ রা হাদীস জানেনা'। চোখ খুলে গেল। ইবনে মালিকের দর্শন তিনি বুঝালেন। হাদীস কে কিভাবে যে ইগনোর করা হচ্ছে তা বুঝালেন। আমি আপ্লুত হলাম, চোখে মদীনার সবুজ গম্বুজের হাতছানি খেলতে লাগলো।
দেখা হয়েছে বহু বার, বহু যায়গায়, বহু ক্ষেত্রে কিংবা বহু আনন্দে বিপদে। একবার রিয়াদে বাংলাদেশী দায়ী ইলাল্লাহ গণের মাঝে মারাত্মক এক ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ডঃ তরিক, মাওলানা সাঈদ মিসবাহ, মাওলানা আব্দুর রাক্বীব সহ বেশ কয়েকজন আলিমের মাঝে একটু দুরত্ব তৈরি হয়। জাহাংগির ভাই তখন ছাত্র, কাজ করেন বাংলাদেশ এম্বেসীতে, এবং দাওয়াতি এক সংস্থার সাথে। সেদিন মিমাংসার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিলো এমন যে তার প্রতিটা কথা সবাই মেনে নেন, এবং সকলের মন শান্তিতে ভরে ওঠে। আমি উনাকে বললামঃ ভাইজান, হামযাতুল ওয়াসল এর মত কাজ করলেন, আগের ও পরের শব্দের সাথে নিজকে বিলিয়ে কিভাবে মিলিয়ে দিলেন। উনি আবারো উপহার দিলেন একফালি হাসি।
১৯৯১ সালে মদীনায় যাচ্ছি কিং সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে। তিনি খুশী হয়েছিলেন। কিং সাঊদের ইসলামিক স্টাডীজ তার পছন্দ ছিলোনা। তিনি তখন পিএইচ ডি থিসিস শুরু করেছেন। বিদেশিদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ছড়াতেন। ইংরেজিতে তিনি খুব ভালো ছিলেন বলে আমেরিকান সেনা ছাওনিতে তিনি ইসলাম পৌঁছানোর কাজ করতেন। জিজ্ঞাসা করলামঃ ভাই, কয় জন ইসলাম কবুল করেছেন? তিনি বললেনঃ বলা নিষেধ, তবে আপনাকে একটা কথা বলি, ওদের মাঝে ইসলাম পৌঁছাতে পারলে তারা উন্মুখ হয়ে আছে। ঐ বছরেই শুনেছিলাম ডঃ জগলুল নাজ্জার ও জাহাংগির ভাইদের দাওয়াতে তিন শতাধিক সৈন্য মুসলিম হয়ে যায়। এবং সরকারি হস্তক্ষেপে এই দাওয়াতি কাজ বন্ধ রাখা হয়।
১৯৯৫ সালে মদীনা থেকে রিয়াদে বেড়াতে আসি। শায়খ আব্দুর রহমান মাদানী আর আমি। উদ্দেশ্য এম এ করার জন্য একটা স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। তিনি দাওয়াত দিলেন। ভাবী কে দেশে পাঠায়েছেন। শ্যালক আছেন বাসায়। বাসায় যেয়ে দেখলাম সব খালি। মানে উনার পি এইচ ডি শেষ, তিনি দেশে ফিরবেন। সার্টিফিকেট নিয়ে ও শ্যালকের পরীক্ষা শেষ করিয়ে ফিরবেন। তিনি আমাদের জামিয়াতুল ইমামে নিয়ে গেলেন। শিক্ষক গণের সাথে পরিচয় করালেন। দেখলাম তার শিক্ষকগণ শুধু ভালোবাসেন না তাকে, সম্মান ও করেন ঢের।
ঈমানের সাথে ইলম, ইলমের সাথে আমল এবং আমলের সাথে এত হিলম আমি আর কারো মাঝে পাইনি। তিনি সবার সাথে মিশতে পারার এক দূর্লভ গুণ অর্জন করে ছিলেন। তবে সহীহ হাদীসের এক চুল দূরে যেতে ছিলো তার প্রচন্ড আপত্তি।
"ভাই, জামাআতে ইসলামির সাথে বা তাব্লীগের সাথে, বা কোন অর্গানাইজেশনের সাথে থেকে কাজ করলে কি বেশি ভালো হত না"? আমার এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ "সালাম ভাই, বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম, এদের মাঝে দল করা মানে এদের কে বিভক্ত করে ফেলা। বাংলাদেশের সব মুসলমানের সাথেই আমি থাকি, সে ভালো"। আমি বললামঃ "কিন্তু কেও তো আপনাকে মেনে নেবে না, তাছাড়া, কারো না কারো সাথে থাকলে একটু সাহায্য পাবেন"। তিনি বললেনঃ " সবাই মেনে নেবে সালাম ভাই। কারণ কলেমার দাওয়াত এমন যে, ঐটা ব্যাবহার করে দেখেন না একজন ভিক্ষুক ও সব মুসলমানদের দয়া ও সাহায্য পায়। আমি না হয় "ঐক্যের ভিক্ষুক" হই। কলেমা নিয়ে সবার কাছে যাই, তাড়ায়ে দিলেও মারতে পারবেনা কেও। চোখ খুলে দিলেন আমাকে।
জাহাংগির ভাই, বড় অবেলায় চলে গেলেন, বিদ্যুতের যে আলোকচ্ছটা আপনি ছড়িয়ে ছিলেন তা বিকশিত না হতেই এই হতভাগা জাতিকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন। আমি আপনার জন্য কী আর দেব। দুচোখের নহরে ভাসা জীর্ণ মলিন মুখ দেখুন, আর রোগাক্রান্ত হৃদয়ের দীর্ণ করা হাহাকার টাই শুনুন............ আল্লাহুম্মা নাক্কিহি মিনায যুনূব কামা য়্যুনাক্ক্বা আসসাওবুল আবয়াদু মিনাদ্দানাস। ও আল্লাহ, তুমি তাকে জান্নাতুল ফিরদাওসের মেহমান বানাও। শাহাদাতের মর্যাদা দাও।
#M Abdus Salam Azadi
যখন এই সব কথা প্রগলভতার সাথে বলি, যে মুখটা এসে আমার সামনে এক ফালি চাঁদের হাসি বিকীর্ণ করে, 'সালাম ভাই, ক্যামন আছেন' বলে আশা যোগায় তিনি হলেন ডঃ আব্দুল্লাহ জাহাংগির। তাকে দেখে আমি এত কঠিন কথা বলতে সাহস পেতাম।
১৯৮৯ সাল থেকে পরিচয়। তখন তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এর মাস্টার্স এর ছাত্র। 'মাশারিকুল আনওয়ার' নামক এক হাদীস গ্রন্থের উপর তিনি ভাষাতাত্বিক স্টাডী করছেন। জিজ্ঞাসু নয়নে তাকিয়ে বোকা বোকা ভাষায় বল্লাম, হাদীসের কেতাব, স্টাডী হচ্ছে ভাষাতাত্বিক?! তিনি হেসে বললেনঃ 'সালাম ভাই, এই যায়গায় তো উম্মাতের সমস্যা। আজকের মুহাদ্দিস রা ভাষা জানেনা, আর ভাষাবিদ রা হাদীস জানেনা'। চোখ খুলে গেল। ইবনে মালিকের দর্শন তিনি বুঝালেন। হাদীস কে কিভাবে যে ইগনোর করা হচ্ছে তা বুঝালেন। আমি আপ্লুত হলাম, চোখে মদীনার সবুজ গম্বুজের হাতছানি খেলতে লাগলো।
দেখা হয়েছে বহু বার, বহু যায়গায়, বহু ক্ষেত্রে কিংবা বহু আনন্দে বিপদে। একবার রিয়াদে বাংলাদেশী দায়ী ইলাল্লাহ গণের মাঝে মারাত্মক এক ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ডঃ তরিক, মাওলানা সাঈদ মিসবাহ, মাওলানা আব্দুর রাক্বীব সহ বেশ কয়েকজন আলিমের মাঝে একটু দুরত্ব তৈরি হয়। জাহাংগির ভাই তখন ছাত্র, কাজ করেন বাংলাদেশ এম্বেসীতে, এবং দাওয়াতি এক সংস্থার সাথে। সেদিন মিমাংসার ক্ষেত্রে তার অবদান ছিলো এমন যে তার প্রতিটা কথা সবাই মেনে নেন, এবং সকলের মন শান্তিতে ভরে ওঠে। আমি উনাকে বললামঃ ভাইজান, হামযাতুল ওয়াসল এর মত কাজ করলেন, আগের ও পরের শব্দের সাথে নিজকে বিলিয়ে কিভাবে মিলিয়ে দিলেন। উনি আবারো উপহার দিলেন একফালি হাসি।
১৯৯১ সালে মদীনায় যাচ্ছি কিং সাঊদ বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে। তিনি খুশী হয়েছিলেন। কিং সাঊদের ইসলামিক স্টাডীজ তার পছন্দ ছিলোনা। তিনি তখন পিএইচ ডি থিসিস শুরু করেছেন। বিদেশিদের মাঝে ইসলামের দাওয়াত ছড়াতেন। ইংরেজিতে তিনি খুব ভালো ছিলেন বলে আমেরিকান সেনা ছাওনিতে তিনি ইসলাম পৌঁছানোর কাজ করতেন। জিজ্ঞাসা করলামঃ ভাই, কয় জন ইসলাম কবুল করেছেন? তিনি বললেনঃ বলা নিষেধ, তবে আপনাকে একটা কথা বলি, ওদের মাঝে ইসলাম পৌঁছাতে পারলে তারা উন্মুখ হয়ে আছে। ঐ বছরেই শুনেছিলাম ডঃ জগলুল নাজ্জার ও জাহাংগির ভাইদের দাওয়াতে তিন শতাধিক সৈন্য মুসলিম হয়ে যায়। এবং সরকারি হস্তক্ষেপে এই দাওয়াতি কাজ বন্ধ রাখা হয়।
১৯৯৫ সালে মদীনা থেকে রিয়াদে বেড়াতে আসি। শায়খ আব্দুর রহমান মাদানী আর আমি। উদ্দেশ্য এম এ করার জন্য একটা স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা। তিনি দাওয়াত দিলেন। ভাবী কে দেশে পাঠায়েছেন। শ্যালক আছেন বাসায়। বাসায় যেয়ে দেখলাম সব খালি। মানে উনার পি এইচ ডি শেষ, তিনি দেশে ফিরবেন। সার্টিফিকেট নিয়ে ও শ্যালকের পরীক্ষা শেষ করিয়ে ফিরবেন। তিনি আমাদের জামিয়াতুল ইমামে নিয়ে গেলেন। শিক্ষক গণের সাথে পরিচয় করালেন। দেখলাম তার শিক্ষকগণ শুধু ভালোবাসেন না তাকে, সম্মান ও করেন ঢের।
ঈমানের সাথে ইলম, ইলমের সাথে আমল এবং আমলের সাথে এত হিলম আমি আর কারো মাঝে পাইনি। তিনি সবার সাথে মিশতে পারার এক দূর্লভ গুণ অর্জন করে ছিলেন। তবে সহীহ হাদীসের এক চুল দূরে যেতে ছিলো তার প্রচন্ড আপত্তি।
"ভাই, জামাআতে ইসলামির সাথে বা তাব্লীগের সাথে, বা কোন অর্গানাইজেশনের সাথে থেকে কাজ করলে কি বেশি ভালো হত না"? আমার এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেনঃ "সালাম ভাই, বাংলাদেশে ৯০% মুসলিম, এদের মাঝে দল করা মানে এদের কে বিভক্ত করে ফেলা। বাংলাদেশের সব মুসলমানের সাথেই আমি থাকি, সে ভালো"। আমি বললামঃ "কিন্তু কেও তো আপনাকে মেনে নেবে না, তাছাড়া, কারো না কারো সাথে থাকলে একটু সাহায্য পাবেন"। তিনি বললেনঃ " সবাই মেনে নেবে সালাম ভাই। কারণ কলেমার দাওয়াত এমন যে, ঐটা ব্যাবহার করে দেখেন না একজন ভিক্ষুক ও সব মুসলমানদের দয়া ও সাহায্য পায়। আমি না হয় "ঐক্যের ভিক্ষুক" হই। কলেমা নিয়ে সবার কাছে যাই, তাড়ায়ে দিলেও মারতে পারবেনা কেও। চোখ খুলে দিলেন আমাকে।
জাহাংগির ভাই, বড় অবেলায় চলে গেলেন, বিদ্যুতের যে আলোকচ্ছটা আপনি ছড়িয়ে ছিলেন তা বিকশিত না হতেই এই হতভাগা জাতিকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন। আমি আপনার জন্য কী আর দেব। দুচোখের নহরে ভাসা জীর্ণ মলিন মুখ দেখুন, আর রোগাক্রান্ত হৃদয়ের দীর্ণ করা হাহাকার টাই শুনুন............ আল্লাহুম্মা নাক্কিহি মিনায যুনূব কামা য়্যুনাক্ক্বা আসসাওবুল আবয়াদু মিনাদ্দানাস। ও আল্লাহ, তুমি তাকে জান্নাতুল ফিরদাওসের মেহমান বানাও। শাহাদাতের মর্যাদা দাও।
#M Abdus Salam Azadi
Thursday, May 12, 2016
ড: আবদুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যার আর নেই
ড: আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির স্যার আর নেই(11/05/2016)। মুহুর্তের মধ্যে যেন মাথায় আকাশ
ভেঙ্গে পড়েছে। শোকে পাথর হয়ে গেছি। এ যাবৎ কোন প্রিয়জনের বিয়োগে এতো কষ্ট
অনুভব হয়নি যতখানি হয়েছে এই প্রিয় ব্যক্তিত্বের বিদায়ের খবর শুনে।
জীবনে বহু মানুষ দেখেছি। অনেক বড় আলিমগণের সান্নিধ্যধন্য হয়েছি। কিন্তু আল্লাহর কসম, একটুও বাড়িয়ে বলছি না, ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির রাহিমাহুল্লাহ এর মতো বিনয়ী, উদার, সুন্দর মন, উম্মাহর জন্য দরদী, মুখলিস, পরমত সম্মানকারী, যুগসচেতন, স্নেহ পরায়ন, উম্মাহর ঐক্য ভাবনায় বিভোর, প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত আমি দ্বিতীয়জন দেখিনি।
জীবনে বহু মানুষ দেখেছি। অনেক বড় আলিমগণের সান্নিধ্যধন্য হয়েছি। কিন্তু আল্লাহর কসম, একটুও বাড়িয়ে বলছি না, ড. আবদুল্লাহ জাহাঙ্গির রাহিমাহুল্লাহ এর মতো বিনয়ী, উদার, সুন্দর মন, উম্মাহর জন্য দরদী, মুখলিস, পরমত সম্মানকারী, যুগসচেতন, স্নেহ পরায়ন, উম্মাহর ঐক্য ভাবনায় বিভোর, প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত আমি দ্বিতীয়জন দেখিনি।
একাধিকবার বলেছি স্যার, আমাকে শায়েখ না বলে আহমাদুল্লাহ আর আপনি না বলে
তুমি করে বললে বেশি সুন্দর মানায় এবং আমি বিব্রত হওয়া থেকে রক্ষা পাই। আমি
তো আপনার ছেলে উসামার সময়বয়সী। তখন তিনি বললেন- ভাই, আমরা আলেমদের সম্মান
না দেখালে সাধারণ মানুষ কিভাবে তাঁদের মর্যাতা বুঝবে, সম্মান দেখাবে?
প্রতিবার দেশে গেলে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে যেতাম ঝিনাইদহের আসসুন্নাহ ট্রাস্টে। জীবনের প্রথম টিভি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম তাঁর সাথে। নবীন ও ছোটদের ভুলগুলো কিভাবে পরম আদরে শুধরে দিতে হয় তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন এই মহামানব। নিজের পরম শত্রু এবং বিদ্বেষীর সাথেও আকৃত্রিম হাসি ও আন্তরিকতা দেখানোর মতো সুন্দর চরিত্র আমি কেবল তাঁর মধ্যেই দেখেছি।
এ জাতি কতো বড় একজন মানুষকে হারিয়েছে তা হয়তো উপলব্ধি করতেও অনেক সময় পার হয়ে যাবে। তিনি একমাত্র বাংলাদেশী যিনি সৌদি আরবের রিয়াদের বিশ্ববিখ্যাত আল ইমাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেকর্ড সংখ্যক নাম্বার নিয়ে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপ শেষ করেছেন। এখান থেকেই তিনি অনার্স, মাস্টার্স ও ডক্টরেট করেছেন। বর্তমান সৌদি বাদশা সালমানের হাতে দুই দুই বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার নিয়েছেন। সৌদি আরবের বর্তমান স্কলারদের অনেকেই তাঁর সহপাঠী।
চতূর্দিকে যখন ভারসাম্যপূর্ণ লোকের দুর্ভিক্ষ চলছে, ঠিক এমন একটি সময়ে তাঁর মতো বিচক্ষণ ও উদার লোকের বড় বেশি প্রয়োজন ছিল!
হে রাব্ব, নিজের বাবাকে হারালে যেমন শোকে পাথর হয়ে যেতাম, তারচে মোটেও কম দুখ: পাইনি আমার দেখা এই শ্রেষ্ঠ মানুষটির বিদায়ে। আপনি তাঁকে আপন মাগফিতার ও রহমতের ছায়তলে ঢেকে নিন। তাঁর বিকল্প এই উম্মাহকে দান করুন। তাঁর ভালো গুনগুলো দিয়ে যেন নিজেকে সাজাতে পারি, আমাদের সেই তাউফীক দান করুন।
#শায়খ আহমাদউল্লাহ
প্রতিবার দেশে গেলে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে যেতাম ঝিনাইদহের আসসুন্নাহ ট্রাস্টে। জীবনের প্রথম টিভি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম তাঁর সাথে। নবীন ও ছোটদের ভুলগুলো কিভাবে পরম আদরে শুধরে দিতে হয় তার জ্বলন্ত উদাহরণ ছিলেন এই মহামানব। নিজের পরম শত্রু এবং বিদ্বেষীর সাথেও আকৃত্রিম হাসি ও আন্তরিকতা দেখানোর মতো সুন্দর চরিত্র আমি কেবল তাঁর মধ্যেই দেখেছি।
এ জাতি কতো বড় একজন মানুষকে হারিয়েছে তা হয়তো উপলব্ধি করতেও অনেক সময় পার হয়ে যাবে। তিনি একমাত্র বাংলাদেশী যিনি সৌদি আরবের রিয়াদের বিশ্ববিখ্যাত আল ইমাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেকর্ড সংখ্যক নাম্বার নিয়ে শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপ শেষ করেছেন। এখান থেকেই তিনি অনার্স, মাস্টার্স ও ডক্টরেট করেছেন। বর্তমান সৌদি বাদশা সালমানের হাতে দুই দুই বার সেরা ছাত্রের পুরস্কার নিয়েছেন। সৌদি আরবের বর্তমান স্কলারদের অনেকেই তাঁর সহপাঠী।
চতূর্দিকে যখন ভারসাম্যপূর্ণ লোকের দুর্ভিক্ষ চলছে, ঠিক এমন একটি সময়ে তাঁর মতো বিচক্ষণ ও উদার লোকের বড় বেশি প্রয়োজন ছিল!
হে রাব্ব, নিজের বাবাকে হারালে যেমন শোকে পাথর হয়ে যেতাম, তারচে মোটেও কম দুখ: পাইনি আমার দেখা এই শ্রেষ্ঠ মানুষটির বিদায়ে। আপনি তাঁকে আপন মাগফিতার ও রহমতের ছায়তলে ঢেকে নিন। তাঁর বিকল্প এই উম্মাহকে দান করুন। তাঁর ভালো গুনগুলো দিয়ে যেন নিজেকে সাজাতে পারি, আমাদের সেই তাউফীক দান করুন।
#শায়খ আহমাদউল্লাহ
Subscribe to:
Posts (Atom)